রাজধানীতে বাড়ছে কিউলেক্স মশা, মার্চে ভোগান্তির আশঙ্কা

রাজধানীতে বাড়ছে কিউলেক্স মশা, মার্চে ভোগান্তির আশঙ্কা
সিটিজেন-ডেস্ক

রাজধানীতে মশার উপদ্রব এখন আর কেবল বিরক্তির বিষয় নয়; এটি জনস্বাস্থ্য ও নগর ব্যবস্থাপনার বড় সংকটে পরিণত হয়েছে। ডেঙ্গুবাহী এডিস মশা কিছুটা কমলেও কিউলেক্স মশার সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এই প্রবণতা আগামী মার্চ মাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে– এমন আশঙ্কা করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাজধানীর সেগুন বাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে ঢাকা ইউটিলিটি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডুরা) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
সভায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার বলেন, ঢাকার মশা সমস্যা আর মৌসুমি নয়, এটি কাঠামোগত সংকট। জাবির মশা সার্ভিল্যান্স অনুযায়ী ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে ঢাকায় সংগৃহীত প্রাপ্তবয়স্ক মশার প্রায় ৮৫ শতাংশই ছিল কিউলেক্স।
তিনি বলেন, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ, দীর্ঘদিন পরিষ্কার না হওয়া নালা ও জলাবদ্ধ এলাকা ঢাকাকে কিউলেক্সের প্রজননক্ষেত্রে পরিণত করেছে। মার্চে এই ভোগান্তি নগরবাসীকে চরমভাবে পোহাতে হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
ড. কবিরুল বাশার বলেন, কিউলেক্স মশা সাধারণত ‘রোগ ছড়ায় না’ এই ভুল ধারণার কারণে দীর্ঘদিন অবহেলিত। অথচ এই মশাই ফাইলেরিয়া রোগের বাহক এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে অসহনীয় করে তোলে। রাতে ঘুমানো থেকে শুরু করে হাসপাতালে রোগীর কষ্ট। সবখানেই কিউলেক্সের আধিপত্য। প্রশ্ন হলো, আমরা কি শুধু ডেঙ্গু মৌসুম এলেই মশা নিয়ে ভাবব? বছরের বাকি সময় কি কিউলেক্সের বাড়বাড়ন্ত আমাদের চোখে পড়বে না?
কিউলেক্স মশা নিয়ন্ত্রণে করণীয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কার করতে হবে। বেসমেন্ট ও পার্কিং এলাকায় পানি জমতে না দেওয়ার বাধ্যতামূলক বিধান কার্যকর করতে হবে। লেক, খাল ও জলাশয় নিয়মিত পরিষ্কার ও পরিবেশবান্ধব লার্ভা নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। বস্তি ও জলাবদ্ধ এলাকাকে ‘হাই-রিস্ক জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ কর্মসূচি নিতে হবে। পাশাপাশি এডিস নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি বাড়ি ও নির্মাণস্থলে কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। স্থায়ী প্রজননস্থলে ইনসেক্ট গ্রোথ রেগুলেটর ব্যবহার এবং সারা বছর নজরদারি চালু রাখতে হবে– শুধু ডেঙ্গু মৌসুমে নয়।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নিশাত পারভীন বলেন, সিটি করপোরেশনের একক উদ্যোগে মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। এদিকে কিউলেক্স নিয়ন্ত্রণে এক মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএনসিসির সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. সাদমান সাকিব।
পরিকল্পনাবিদ ড. মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ন ও দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনাই সমস্যার মূল কারণ।
অনুষ্ঠানে ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, মশাবাহিত রোগ মানুষের জীবনকে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

রাজধানীতে মশার উপদ্রব এখন আর কেবল বিরক্তির বিষয় নয়; এটি জনস্বাস্থ্য ও নগর ব্যবস্থাপনার বড় সংকটে পরিণত হয়েছে। ডেঙ্গুবাহী এডিস মশা কিছুটা কমলেও কিউলেক্স মশার সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এই প্রবণতা আগামী মার্চ মাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে– এমন আশঙ্কা করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাজধানীর সেগুন বাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে ঢাকা ইউটিলিটি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডুরা) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
সভায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার বলেন, ঢাকার মশা সমস্যা আর মৌসুমি নয়, এটি কাঠামোগত সংকট। জাবির মশা সার্ভিল্যান্স অনুযায়ী ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে ঢাকায় সংগৃহীত প্রাপ্তবয়স্ক মশার প্রায় ৮৫ শতাংশই ছিল কিউলেক্স।
তিনি বলেন, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ, দীর্ঘদিন পরিষ্কার না হওয়া নালা ও জলাবদ্ধ এলাকা ঢাকাকে কিউলেক্সের প্রজননক্ষেত্রে পরিণত করেছে। মার্চে এই ভোগান্তি নগরবাসীকে চরমভাবে পোহাতে হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
ড. কবিরুল বাশার বলেন, কিউলেক্স মশা সাধারণত ‘রোগ ছড়ায় না’ এই ভুল ধারণার কারণে দীর্ঘদিন অবহেলিত। অথচ এই মশাই ফাইলেরিয়া রোগের বাহক এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে অসহনীয় করে তোলে। রাতে ঘুমানো থেকে শুরু করে হাসপাতালে রোগীর কষ্ট। সবখানেই কিউলেক্সের আধিপত্য। প্রশ্ন হলো, আমরা কি শুধু ডেঙ্গু মৌসুম এলেই মশা নিয়ে ভাবব? বছরের বাকি সময় কি কিউলেক্সের বাড়বাড়ন্ত আমাদের চোখে পড়বে না?
কিউলেক্স মশা নিয়ন্ত্রণে করণীয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কার করতে হবে। বেসমেন্ট ও পার্কিং এলাকায় পানি জমতে না দেওয়ার বাধ্যতামূলক বিধান কার্যকর করতে হবে। লেক, খাল ও জলাশয় নিয়মিত পরিষ্কার ও পরিবেশবান্ধব লার্ভা নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। বস্তি ও জলাবদ্ধ এলাকাকে ‘হাই-রিস্ক জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ কর্মসূচি নিতে হবে। পাশাপাশি এডিস নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি বাড়ি ও নির্মাণস্থলে কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। স্থায়ী প্রজননস্থলে ইনসেক্ট গ্রোথ রেগুলেটর ব্যবহার এবং সারা বছর নজরদারি চালু রাখতে হবে– শুধু ডেঙ্গু মৌসুমে নয়।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নিশাত পারভীন বলেন, সিটি করপোরেশনের একক উদ্যোগে মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। এদিকে কিউলেক্স নিয়ন্ত্রণে এক মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএনসিসির সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. সাদমান সাকিব।
পরিকল্পনাবিদ ড. মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ন ও দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনাই সমস্যার মূল কারণ।
অনুষ্ঠানে ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, মশাবাহিত রোগ মানুষের জীবনকে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

রাজধানীতে বাড়ছে কিউলেক্স মশা, মার্চে ভোগান্তির আশঙ্কা
সিটিজেন-ডেস্ক

রাজধানীতে মশার উপদ্রব এখন আর কেবল বিরক্তির বিষয় নয়; এটি জনস্বাস্থ্য ও নগর ব্যবস্থাপনার বড় সংকটে পরিণত হয়েছে। ডেঙ্গুবাহী এডিস মশা কিছুটা কমলেও কিউলেক্স মশার সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এই প্রবণতা আগামী মার্চ মাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে– এমন আশঙ্কা করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাজধানীর সেগুন বাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে ঢাকা ইউটিলিটি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডুরা) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
সভায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার বলেন, ঢাকার মশা সমস্যা আর মৌসুমি নয়, এটি কাঠামোগত সংকট। জাবির মশা সার্ভিল্যান্স অনুযায়ী ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে ঢাকায় সংগৃহীত প্রাপ্তবয়স্ক মশার প্রায় ৮৫ শতাংশই ছিল কিউলেক্স।
তিনি বলেন, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ, দীর্ঘদিন পরিষ্কার না হওয়া নালা ও জলাবদ্ধ এলাকা ঢাকাকে কিউলেক্সের প্রজননক্ষেত্রে পরিণত করেছে। মার্চে এই ভোগান্তি নগরবাসীকে চরমভাবে পোহাতে হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
ড. কবিরুল বাশার বলেন, কিউলেক্স মশা সাধারণত ‘রোগ ছড়ায় না’ এই ভুল ধারণার কারণে দীর্ঘদিন অবহেলিত। অথচ এই মশাই ফাইলেরিয়া রোগের বাহক এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে অসহনীয় করে তোলে। রাতে ঘুমানো থেকে শুরু করে হাসপাতালে রোগীর কষ্ট। সবখানেই কিউলেক্সের আধিপত্য। প্রশ্ন হলো, আমরা কি শুধু ডেঙ্গু মৌসুম এলেই মশা নিয়ে ভাবব? বছরের বাকি সময় কি কিউলেক্সের বাড়বাড়ন্ত আমাদের চোখে পড়বে না?
কিউলেক্স মশা নিয়ন্ত্রণে করণীয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কার করতে হবে। বেসমেন্ট ও পার্কিং এলাকায় পানি জমতে না দেওয়ার বাধ্যতামূলক বিধান কার্যকর করতে হবে। লেক, খাল ও জলাশয় নিয়মিত পরিষ্কার ও পরিবেশবান্ধব লার্ভা নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। বস্তি ও জলাবদ্ধ এলাকাকে ‘হাই-রিস্ক জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ কর্মসূচি নিতে হবে। পাশাপাশি এডিস নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি বাড়ি ও নির্মাণস্থলে কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। স্থায়ী প্রজননস্থলে ইনসেক্ট গ্রোথ রেগুলেটর ব্যবহার এবং সারা বছর নজরদারি চালু রাখতে হবে– শুধু ডেঙ্গু মৌসুমে নয়।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নিশাত পারভীন বলেন, সিটি করপোরেশনের একক উদ্যোগে মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। এদিকে কিউলেক্স নিয়ন্ত্রণে এক মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএনসিসির সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. সাদমান সাকিব।
পরিকল্পনাবিদ ড. মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ন ও দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনাই সমস্যার মূল কারণ।
অনুষ্ঠানে ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, মশাবাহিত রোগ মানুষের জীবনকে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।




