শিরোনাম

ছয় ঘণ্টা অপেক্ষা করেও সচিবের দেখা পেলেন না ৯ চিকিৎসক

নিজস্ব প্রতিবেদক
ছয় ঘণ্টা অপেক্ষা করেও সচিবের দেখা পেলেন না ৯ চিকিৎসক
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়

ছয় ঘণ্টা অপেক্ষা করেও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের সাক্ষাত পেলেন না ৪৮তম বিসিএস (বিশেষ) গেজেটবঞ্চিত ৯ জন চিকিৎসক। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত তারা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহসানুল হকের ব্যক্তিগত কর্মকর্তার (পিএ) কক্ষে বসেছিলেন।

মঙ্গলবার যারা দেখা করতে এসেছিলেন তাঁদের মধ্যে সাতজন সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এবং একজন করে চট্টগ্রাম ও রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের।

নিয়োগবঞ্চিতদের অভিযোগ, গেজেটে তাদের নাম অন্তর্ভূক্ত করতে গত রোববার তারা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহসানুল হকের সঙ্গে দেখা করেন। তারা প্রত্যেকে ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি বিবেচনার জন্য অনুরোধ করে সচিবের কাছে আবেদন করেন। ওই আবেদনের অনুলিপি গেটে দেখিয়ে মঙ্গলবার সকালে তারা দ্বিতীয়বারের মতো জনপ্রশাসন সচিবের সঙ্গে দেখা করতে আসেন। এই সময় তাদেরকে অপেক্ষা করতে বলা হয়। পরে ছয় ঘণ্টা অপেক্ষা করেও সচিবের দেখা পাননি তারা।

চূড়ান্ত গেজেটে বাদ পড়ায় বিস্ময় প্রকাশ করে এই ৯ চাকরিপ্রার্থী বলছেন, পুলিশ ফেরিফিকেশনের সময় বলা হয়েছে তাদের কারও নামে কোনো মামলা নেই। রিপোর্টে সমস্যা হবে না। এরপরও কেন এমনটি হলো প্রশ্ন তাদের। তাদের দাবি, পুলিশ ফেরিফিকেশন যাতে দ্বিতীয় দফা করতে দেওয়া হয় সেজন্য তারা জনপ্রশাসন সচিবের কাছে গিয়েছিলেন। দ্বিতীয় দফা তদন্ত দেওয়া হলে বঞ্চিত হওয়া অনেকেই চাকরি পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা। কিন্তু সচিব দেখা না করায় হতাশ তারা।

দীর্ঘ ছয় ঘণ্টা অপেক্ষার পরও চিকিৎসকদের সঙ্গে দেখা না করার বিষয়ে মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের মুঠোফোনে কল দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি কলটি ধরেননি। পরে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মানসুর হোসেন এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘গত রোববার বঞ্চিত চিকিৎসকেরা সচিব স্যারের সঙ্গে দেখা করেছেন। তিনি (সচিব) তাদের আবেদন করতে বলেছেন। সচিব স্যার যা বলার ওইদিনই তাদের বলে দিয়েছেন।’

পুলিশ ভেরিফিকেশন নির্দেশনায় সন্ত্রাসবাদী কিংবা রাষ্ট্রদ্রোহী কার্যক্রমে জড়িত থাকার তথ্য চাওয়া হয়েছিল। বঞ্চিতদের ধারণা, কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের নাম জড়িয়ে হয়তো মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করেছে। এই পরিস্থিতিতে অবিলম্বে নিয়োগপ্রক্রিয়া পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে তারা তাদের গেজেটভুক্ত করনার দাবি জানান।

সিলেট মেডিকেলেরই ১৫ জন নিয়োগবঞ্চিত

গেজেট বঞ্চিত হওয়া সিলেট এম এ জি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক এই প্রতিবেদককে বলেন, ৪৮তম বিসিএসে তাদের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একসঙ্গে ১৫ জন চিকিৎসকের নামে গেজেট না হওয়ার বিষয়টি বিস্ময়কর। গেজেট বঞ্চিত কারও কারও নামে মামলা থাকলেও এখানে কারও নামে কোনো ধরনের মামলা–মোকদ্দমা নেই।

এই মেডিকেলের নিয়োগবঞ্চিত চিকিৎসক নাহিদুর রহমান বলেন, ‘আমার বাবা একজন স্কুল শিক্ষক। আমি জীবনে কখনো কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দিইনি। অনেক প্ররিশ্রম করে বিসিএস পরীক্ষায় উর্ত্তীর্ণ হলাম ঠিকই। কিন্তু গেজেটভুক্ত হতে পারলাম না। এটা আমি মেনে নিতে পারছি না।’

একই মেডিকেলের মুসফিকুর রহমান ভুঁইয়া বলেন, ‘আমার নামে কোনো মামলা–মোকদ্দমা নেই। এরপরও কেন আমার নাম বাদ পড়লো তা জানি না।’

৪৮ বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেট থেকে বাদ পড়েছেন ২১ জন চিকিৎসক। তারা হলেন শুভ্র দেবনাথ নীলু, ইলহামুর রেজা চৌধুরী, মুশফিকুর রহমান ভূঁইয়া, আলভি ফারাজী, মো. রাইসুল করিম নিশান, মেহেদী হাসান, মো. সাব্বির আহম্মেদ তুষার, মো. সুমন আহম্মেদ, সৌরভ সরকার, অনিন্দ্র কুশল পাল, মো. পাভেল ইসলাম, সিরাজাম মুনিরা, উজ্জ্বল মল্লিক, অনুপম ভট্টাচার্য্য, নাহিদুর রহমান, ইমতিয়াজ উদ্দিন মানিক. আহমেদ মুনতাকিম চৌধুরী, সাদি বিন শামস, নাজমুল হক, এ এইচ এম সাখারব ও সাবিহা আফরিন। চাকরিপ্রার্থীদের ভাষ্য, তাঁদের কারও বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ নেই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংবিধানের ২৮ ও ২৯ অনুচ্ছেদে নাগরিকের সুযোগের সমতার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু পুলিশ ভেরিফিকেশনের এই প্রক্রিয়া সেই অধিকারকে লঙ্ঘন করছে।

পুলিশ ভেরিফিকেশনের বিষয়ে জানতে চাইলে সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী আশরাফ–উল–আলম সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘পুলিশ ফেরিফিকেশনের সময় প্রার্থীর চরিত্র, তিনি কোনো দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কিনা, তার নামে কোনো মামলা রয়েছে কিনা, তিনি অসামাজিক কোনো কাজে জড়িত কিনা- এসব বিষয়ে দেখতে পারে। কিন্তু কারও রাজনৈতিক পরিচয় দেখার বিষয়টি সংবিধানেই নেই। এটি করে থাকলে তা অসাংবিধানিক হবে।’

/বিবি/