শিরোনাম

শরীয়তপুরে ১১ বাড়িতে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ, আটক ৪

শরীয়তপুর সংবাদদাতা
শরীয়তপুরে ১১ বাড়িতে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ, আটক ৪
বসতবাড়িতে অগ্নি সংযোগ। ছবি: সংগৃহীত

শরীয়তপুর সদরে ১১ বাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও ৫ শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সমর্থকদের নিয়ে এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিএনপিতে যোগদান করাকে কেন্দ্র করে বিএনপির অপর একটি পক্ষ এই হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাত ১১টায় শৌলপাড়া ইউনিয়নের চরগয়ঘর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। যৌথবাহিনী চারজনকে আটক করেছে।

গত ১৭ জানুয়ারি শৌলপাড়া স্কুল মাঠে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সরদার একেএম নাছির উদ্দিন ও শরীয়তপুর-১ আসনের বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সাইদ আহাম্মেদ আসলাম।

সেখানে শৌলপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও সাবেক জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আব্দুল মান্নান খান ভাসানীসহ তার ২০ থেকে ২৫ নেতাকর্মী নিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন।

চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান খান ভাসানীর শ্যালক তারেক মিয়া বলেন, শৌলপাড়া এলাকায় বিএনপির দুটি পক্ষ রয়েছে। একটি পক্ষ অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন আকনের সমর্থক। অপর পক্ষ স্থানীয় বিএনপি নেতা আতিকুর রহমান খানের সমর্থক। কিন্তু আব্দুল মান্নান খান আতিকুর রহমান খানের নেতৃত্বে বিএনপিতে যোগদান করায় অপর পক্ষ ক্ষিপ্ত হয়।

তারেক মিয়া বলেন, এ ঘটনার জের ধরে শুক্রবার রাতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র, বোমা, পেট্রোল নিয়ে আব্দুল মান্নান খান ভাসানী, মজিবুর রহমান খান, সেলিম খান, শুক্কুর বেপারী, ফজর বেপারী, জসিম বেপারী, সিরাজ খান, আরশেদ বেপারির বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। এ সময় পাঁচ শতাধিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর ইউনুস সিকার, আবুল হোসেন খান ও ইদ্রিস খানের বাড়িতে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত ইদ্রিস খান বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে মালেয়শিয়া থাকি। কখনো রাজনীতি করিনি। সম্প্রতি দেশে এসে ১৭ জানুয়ারি বিএনপিতে যোগ দেই। ওই যোগদানকে কেন্দ্র করে ১১ বাড়িতে হামলা করে হেলাল উদ্দিন আকনের লোকজন। তারা আমার বাড়িসহ তিনটি বাড়িতে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।

অভিযোগ অস্বীকার করে অ্যাডভোকেট হেলাল আকন বলেন, মূলত শৌলপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আলী মাদবর ও সাধারণ সম্পাদক মামুন আকন গ্রুপের বিরোধের কারণে এ ঘটনা ঘটে। এর সঙ্গে আমি জড়িত নই। আমার আত্মীয় মারা যাওয়ায় আমি গোপালগঞ্জে আছি।

চিকন্দি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. গোলাম রসুল বলেন, সন্ত্রাসীরা চর গয়ঘর এলাকায় ৭ থেকে ৮টি বাড়ি ভাঙচুর ও তিনটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে। এ ঘটনায় যৌথবাহিনী চারজনকে আটক করেছে।

/এসআর/