শিরোনাম

উৎপাদনে ফিরেছে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট

নিজস্ব প্রতিবেদক
উৎপাদনে ফিরেছে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। ছবি: সংগৃহীত

যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের সবগুলো ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। চার দিন বন্ধ থাকার পর ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিট আবার বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফিরেছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ইউনিটটি থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়।

এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক। তিনি জানান, প্রথম ইউনিটের মেরামত কাজ শেষ হওয়ার পর গতকাল বেলা ৩টায় বয়লারে ফায়ারিং করা হয়েছে। রাত ৯টা ৩ মিনিট থেকে এই ইউনিটের উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ শুরু হয়েছে। কেন্দ্রের অন্য ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার তৃতীয় ইউনিটের মেরামত কাজ এখনও চলমান। এটি আগামী মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে উৎপাদনে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রথম ইউনিট থেকে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। এ ইউনিটটি চালু রাখার জন্য প্রতিদিন ৭০০ থেকে ৮০০ টন কয়লার প্রয়োজন হবে।

উল্লেখ্য, গত দুই মাসে প্রথম ইউনিটটি একাধিকবার বন্ধ ও পুনরায় চালু হয়েছে। বারবার যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির তিনটি ইউনিট দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

কয়লাভিত্তিক বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের সূত্র জানায়, তিনটি ইউনিটের মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিটের ক্ষমতা প্রতিটিরই ১২৫ মেগাওয়াট এবং তৃতীয় ইউনিটের ক্ষমতা ২৭৫ মেগাওয়াট। দ্বিতীয় ইউনিট যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে। এছাড়া গত বছরের ১৬ অক্টোবর তৃতীয় ইউনিটটিও বন্ধ হয়ে যায়।

গত দুই মাসে প্রথম ইউনিটটি চারবার বন্ধ হয়েছে। এটি আবার উৎপাদনে ফিরলেও সাধারণত ৪-৫ দিনের বেশি স্থিতিশীল থাকে না। গত বছরের ৬ ডিসেম্বর দুপুর পৌনে ১২টায় প্রথম ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। ১৩ ডিসেম্বর রাত পোনে ৯টায় পুনরায় উৎপাদনে ফিরে। এরপর ৩০ ডিসেম্বর আবার বন্ধ হয়ে যায়। ১৫ দিন পর ১৪ জানুয়ারি ইউনিটটি উৎপাদন শুরু করলেও ৪ দিনের মধ্যে অর্থাৎ ১৮ জানুয়ারি বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে আবার বন্ধ হয়ে যায়। এতে ওই দিন পুরো কেন্দ্রের তিনটি ইউনিটের উৎপাদন কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকে।