শিরোনাম

৪ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে হবে ফোবানার ৪০তম কনভেনশন

নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে হবে 
ফোবানার ৪০তম কনভেনশন
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন (ছবি: সিটিজেন জার্নাল)

ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকার (ফোবানা) ৪০তম কনভেনশন আগামী ৪ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের অরল্যান্ডো শহরের হলিডে ইন রিসোর্টে অনুষ্ঠিত হবে। ৩৮টি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান এ কনভেনশনে অংশ নেবে। এসব প্রতিষ্ঠান তাদের নতুন ও উদ্ভাবনী পণ্য নিয়ে মেলায় অংশগ্রহণ করবে। বিশ্বব্যাপী অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ওয়ান-স্টপ সোর্সিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে স্বীকৃত এই মেলায় বরাবরের মতো এবারও বাংলাদেশের উজ্জল ও শক্তিশালী উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাবে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ফোবানা কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান জাহিদ হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান জিয়াউল হক জিয়া, প্রাক্তন চেয়ারম্যান বেদারুল ইসলাম বাবুল, নির্বাহী সম্পাদক নিহাল রহিম, হোস্ট কমিটির প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ শামীম, ভাইস প্রেসিডেন্ট আতিকুর রহমান, ভাইস প্রেসিডেন্ট আনোয়ার হোসেন সেন্টু, ভাইস প্রেসিডেন্ট শামস আহমেদ শোভন, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেসন চৌধুরী, কনভেনর ফাইন্যান্স কমিটি মো. ইশাক আলী, কনভেনর ম্যানেজমেন্ট কমিটি হেলাল আহমেদ, কো-কনভেনর রেজাউল হক রেজা প্রমুখ।

আন্তর্জাতিক ভোগ্যপণ্য মেলা হিসেবে পরিচিত অ্যাম্বিয়েন্তে প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে উৎপাদক, প্রদর্শক এবং পেশাদার ক্রেতাদের একত্রিত করে। ডাইনিং, লিভিং, গিভিং, বিউটি অ্যান্ড বাথ, অফিস ও স্কুল সাপ্লাই, গিফট, প্যাকেজিং, ডেকোরেশনসহ বিস্তৃত পণ্যের সমাহার এই মেলাকে আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও সরবরাহকারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবারের কনভেনশনটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এর মাধ্যমে ফোবানার চার দশকের গৌরবময় যাত্রা উদযাপন করা হবে। দীর্ঘদিন ধরে উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের ঐক্যবদ্ধ করা, সাংস্কৃতিক পরিচয় সংরক্ষণ, নেতৃত্ব বিকাশ এবং আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততায় ফোবানা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।

এবারের কনভেনশনের আয়োজনগুলোর মধ্যে রয়েছে- ফোবানার ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরতে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, কমিউনিটি নেতৃত্ব ও মতবিনিময় সভা, যুব ও নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব উন্নয়ন কার্যক্রম, ব্যবসা, বিনিয়োগ ও নেটওয়ার্কিং সেশন নারী অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়নমূলক আয়োজন বাংলাদেশি খাবার ও সংস্কৃতির প্রদর্শনী। এর মাধ্যমে বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবেন। পেশাজীবী ও ব্যবসায়ীরা বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে পারবেন। শিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো বাংলাদেশের ঐতিহ্য বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে পারবেন। তরুণ সমাজ নেতৃত্ব বিকাশ ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কিংয়ের সুযোগ পাবে। এই কনভেনশনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ, ঐক্যবদ্ধ ও সম্ভাবনাময় বৈশ্বিক অংশীদার রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করা হবে।

আয়োজকরা জানান, ৪০তম ফোবানা কনভেনশনে উত্তর আমেরিকা ছাড়াও বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কমিউনিটি লিডার, পেশাজীবী, উদ্যোক্তা, সাংস্কৃতিক কর্মী ও তরুণ নেতৃত্ব অংশগ্রহণ করবেন।

অ্যাম্বিয়েন্তে ফ্রাঙ্কফুর্ট ২০২৬-এ বাংলাদেশ থেকে মোট ৩৮টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করবে, যা দেশের সৃজনশীলতা, নতুনত্ব এবং রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্য তুলে ধরবে। এর মাধ্যমে বৈশ্বিক ভোক্তা বাজারে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান রপ্তানি সম্ভাবনার প্রতিফলন ঘটবে।

এর মধ্যে ৩২টি বাংলাদেশি কোম্পানি সরাসরি প্রদর্শক হিসেবে অংশ নেবে। উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে রয়েছে ঢাকা হ্যান্ডিক্রাফ্টস, অপরাজেয়, আরএফএল প্লাস্টিকস, আকিজ সিরামিকস, পিপলস সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ, শাইনপুকুর সিরামিকস, প্যারাগন সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ, সিওআরআর-দ্য জুট ওয়ার্কস, মনি জুট গুডস অ্যান্ড হ্যান্ডিক্রাফটস, গোল্ডেন জুট প্রোডাক্ট, গ্লোবাল গোল্ডেন জুট অ্যান্ড ক্রাফটস, আর্টিসান হাউস বিডি, আর্টিসান সিরামিকস, কনএক্সপো, হ্যান্ড টাচ, আর্থ বাউন্ডসহ আরও বহু খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান।

এছাড়া রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ব্যবস্থাপনায় আরও ৫টি প্রতিষ্ঠান এই মেলায় অংশ নেবে, যারা টেকসই ও কারুশিল্পভিত্তিক উৎপাদন খাতের প্রতিনিধিত্ব করবে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ইকো ক্রেভ, সোনালী আঁশ ইন্ডাস্ট্রিজ, জুট ক্রাফটস, মাফ ক্রাফট বিডি এবং তারাঙ্গো।

অ্যাম্বিয়েন্তে ফ্রাঙ্কফুর্ট বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের জন্য ইউরোপীয় ও বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে সংযোগ জোরদার করার একটি কৌশলগত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। এই মেলার মাধ্যমে দেশের ব্র্যান্ড দৃশ্যমানতা বৃদ্ধি, টেকসই ও হাতে তৈরি পণ্যের প্রচার এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও বাজারের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

/এমসি/

বিষয়:

রপ্তানি