শিরোনাম

সমরাস্ত্র তৈরির লক্ষ্যে মিরসরাইয়ে হচ্ছে ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন

নিজস্ব প্রতিবেদক
সমরাস্ত্র তৈরির লক্ষ্যে মিরসরাইয়ে হচ্ছে ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন
বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম (ইনসেট)। ছবি: সিটিজেন গ্রাফিক্স

দেশেই সমরাস্ত্র তৈরির লক্ষ্যে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ৮৫০ একর জমিতে হবে ‘ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’ বা প্রতিরক্ষা শিল্প অঞ্চল। মিরসরাইয়ে বাতিল হওয়া ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রস্তাবিত জায়গায় এই প্রতিরক্ষা শিল্প অঞ্চল করা হবে। এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান তিনি।

আশিক চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামের আনোয়ারা দেশের প্রথম মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল (ফ্রি ট্রেড জোন) হতে যাচ্ছে। এখানে দেশি ও বিদেশি সবাই বিনিয়োগ করতে পারবেন। জোনটি রি-এক্সপোর্ট, রিস্টোর এবং ম্যানুফ্যাকচারিং কার্যক্রমের জন্য আলাদা বিভাগে বিভক্ত থাকবে। আশা করা হচ্ছে, চলতি বছরের শেষের মধ্যে এ ফ্রি ট্রেড জোনের কার্যক্রম শুরু হবে।

তিনি বলেন, ‘ফ্রি ট্রেড জোন তৈরির জন্য নীতিগত সমর্থন আজ এখান থেকে পেয়েছি। এটি আমরা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় (ক্যাবিনেট) নিয়ে যাব। আশা করছি, সেখানেও এটি অনুমোদিত হবে। প্রাথমিক জায়গা হিসেবে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় প্রায় ৬৫০ একর জমি নির্ধারণ করা হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, দেশে সমরাস্ত্র তৈরির লক্ষ্যে মিরসরাইয়ে ৮৫০ একর জমিতে ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন করা হবে। এটি দেশের সমরাস্ত্র খাতকে স্বাবলম্বী করতে সাহায্য করবে।

সামরিক অর্থনৈতিক অঞ্চলে কী ধরনের পণ্য উৎপাদন হবে এবং কারা বিনিয়োগ করতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে আশিক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে, এমন একাধিক দেশের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। সামরিক কী কী উপকরণ তৈরি হবে, সেটি এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। চাহিদার আলোকে সেটি নির্ধারণ হবে।

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, ‘গত বছরের জুন পর্যন্ত এটি ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইন্ডিয়ান ইকোনমিক জোন) হিসেবে নির্ধারিত ছিল। আপনারা অনেকেই জানেন, ওই প্রকল্পটি বাতিল হয়ে গেছে। এ কারণে এই জায়গাটি ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি বেজার (বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ) মাস্টারপ্ল্যানে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।’

এছাড়া সরকার কুষ্টিয়া সুগার মিলকে অর্থনৈতিক অঞ্চলের সঙ্গে মিলিয়ে পুনরুজ্জীবিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিডার আশিক চৌধুরী জানিয়েছেন, দেশের ৩৩১টি পৌরসভায় নতুন ইকোনমিক জোন স্থাপনের নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

প্রবাসী বাংলাদেশিরা যারা বিদেশি বিনিয়োগে সহায়তা করবেন, তাঁদের ১.২৫ শতাংশ শেয়ার দেওয়া হবে। এছাড়া চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশে বিডার অফিস চালু করা হবে বলেও তিনি জানান।

/জেএইচ/