শিরোনাম

সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

বিশেষ-প্রতিনিধি
সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার
আজ রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের সভা। ছবি: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে সব ধরনের সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমাদের তথ্যপ্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে হবে এবং যেকোনো ধরনের সাইবার অপরাধ কঠোরভাবে দমন করতে হবে।

রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের গুরুত্বপূর্ণ সভায় তিনি এসব নির্দেশনা দেন।

নাগরিক সেবা ও আর্থিক খাতে বিশেষ গুরুত্ব

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সরকার সব ধরনের নাগরিক সেবাকে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। ইতিমধ্যে দেশ-বিদেশে অনেক সেবা অনলাইনে প্রদান করা হচ্ছে। এসব সেবা সুরক্ষিত ও নির্বিঘ্ন রাখতে সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করার কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে ফিন্যান্সিয়াল বা আর্থিক খাতে অপরাধ করে কেউ যেন পার পেয়ে না যায়, সে বিষয়ে বিচার বিভাগের পাশাপাশি জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সিকে কার্যকর ভূমিকা রাখার নির্দেশ দেন তিনি।

প্রতিষ্ঠান ও জনবল রেটিং পদ্ধতি

সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করার তাগিদ দিয়ে ড. ইউনূস বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মিত সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার হালনাগাদ (আপডেট) করতে হবে এবং জনবলকে দক্ষ করে তুলতে হবে। প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট জনবলের দক্ষতা মূল্যায়নে একটি ‘রেটিং পদ্ধতি’ চালুর পরামর্শ দেন তিনি, যাতে প্রকৃত সুরক্ষা ব্যবস্থা মূল্যায়ন করা সহজ হয়।

সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের সভা শেষে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ফটো সেশন। ছবি: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং

গুজব ও অপপ্রচার রোধে সমন্বয়

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি) ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানান, ইতিমধ্যে ৩৫টি প্রতিষ্ঠানকে ‘ক্রিটিক্যাল ইনফরমেশন ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তিনি আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গুজব, মিস-ইনফরমেশন ও ডিস-ইনফরমেশন প্রতিরোধে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি এবং বিটিআরসি’র মধ্যে নিবিড় সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ব্যাংকিং খাতের সুরক্ষা

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর সভায় জানান, ব্যাংকিং সেক্টরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইতিমধ্যে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সেক্টরাল ‘সার্ট’ (CERT) গঠনের উদ্যোগের প্রশংসা করেন তিনি। জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালক ড. মো. তৈয়বুর রহমান ‘সাইবার ইনসিডেন্ট রিপোর্টিং অ্যান্ড রেসপন্স সিস্টেম’-এর বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা সভায় উপস্থাপন করেন।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, আইসিটি সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী, আইজিপি বাহারুল আলম এবং এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-এর অধীনে গঠিত ২৫ সদস্যের এই কাউন্সিলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা নিজেই।