চার ভাগ হচ্ছে সেন্ট মার্টিন, ছেঁড়াদিয়ায় প্রবেশ নিষেধ

চার ভাগ হচ্ছে সেন্ট মার্টিন, ছেঁড়াদিয়ায় প্রবেশ নিষেধ
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্ট মার্টিনে হারিয়ে যাওয়া জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধারে পর্যটন নিয়ন্ত্রণ করতে যাচ্ছে সরকার। সেন্ট মার্টিন সংরক্ষণে করা খসড়া মহাপরিকল্পনায় এ দ্বীপের চার কিলোমিটারের মধ্যে পর্যটকদের চলাচল সীমিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
২০২৫ সালে পর্যটকের সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। এর আগে এ দ্বীপে ৭ হাজারেরও বেশি পর্যটক রাত যাপন করতেন। মহাপরিকল্পনা বলছে, এটি সেন্ট মার্টিনের ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ। এর ফলে প্রবাল সংগ্রহ, নৌযানের দূষণ ও সমুদ্রসৈকতে আবর্জনার পরিমাণ বেড়েছে। এতে প্রবালের অস্তিত্ব হুমকিতে পড়েছে।
২০২০ সালে প্রকাশিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. কাউসার আহাম্মদ, ভূতত্ত্ব বিভাগের প্রভাষক মো. ইউসুফ গাজী ও সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী তাহরিমা জান্নাতের এক গবেষণায় উঠে এসেছে, ১৯৮০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৩৮ বছরে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে প্রবাল প্রজাতি ১৪১টি থেকে কমে ৪০টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক ওশান সায়েন্স জার্নালে ২০২০ সালে প্রকাশিত এক গবেষণা নিবন্ধে বলা হয়েছে– ২০৪৫ সালের মধ্যে দ্বীপটি পুরোপুরি প্রবালশূন্য হয়ে পড়তে পারে।

মহাপরিকল্পনায় সংরক্ষণের অংশ হিসেবে ৮ বর্গকিলোমিটারের সেন্ট মার্টিনকে ৪টি জোনে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো– ১. সাধারণ ব্যবহার এলাকা, ২. নিয়ন্ত্রিত সম্পদ এলাকা, ৩. টেকসই ব্যবস্থাপনা অঞ্চল এবং ৪. ছেঁড়াদিয়া দ্বীপের অংশ।
জোন-১: সাধারণ ব্যবহার এলাকা
সেন্ট মার্টিনের অন্য তিন অংশ থেকে হোটেল ও রিসোর্ট সরিয়ে এ জোনে নিয়ে আসা হবে। এ জোনেই রাত কাটাবেন পর্যটকেরা। প্রতিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় এখানে প্রতিদিন সর্বোচ্চ পর্যটক সংখ্যা ৯০০ জনে সীমিত রাখা হবে।
৭টি পাড়া নিয়ে গঠিত হবে জোন-১। এটি পর্যটক, অবকাঠামো ও সাধারণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য উন্মুক্ত থাকলেও সৈকতে যানবাহন চালানো, রাতে আলো জ্বালানো, প্রবাল সংগ্রহ ও দূষণ নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব করা হয়েছে মহপরিকল্পনায়।
জোন-২: নিয়ন্ত্রিত সম্পদ এলাকা
এ এলাকাটি দক্ষিণ অংশের সংবেদনশীল এলাকার প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় বাফার জোন হিসেবে কাজ করবে। এই এলাকায় পর্যটন অবকাঠামো, কৃষিতে ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহার নিষিদ্ধ হবে। সৈকতে আগুন জ্বালানো ও রান্নাবান্নাও নিষিদ্ধ থাকবে এই এলাকায়।
জোন-৩: টেকসই ব্যবস্থাপনা অঞ্চল
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে এই এলাকাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এখানে বসতি স্থাপন, অবকাঠামো নির্মাণ, প্রাকৃতিক পরিবেশ বিনষ্ট হয়, এমন কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকবে। এই এলাকার ম্যানগ্রোভ, ল্যাগুন (ছোট জলাধার) ও কচ্ছপের প্রজনন স্থান বিশেষ সুরক্ষার আওতায় আসবে।
জোন-৪: ছেঁড়াদিয়া দ্বীপের অংশ
ছেঁড়াদিয়া দ্বীপের অংশ নিয়ে হবে জোন-৪। এই এলাকায় অনুমোদিত ব্যক্তি ছাড়া সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিয়ন্ত্রিত থাকবে। এই জোনের এক কিলোমিটারের মধ্যে মাছ ধরা, দূষণ ও বন্য প্রাণীকে বিরক্ত করা নিষিদ্ধের সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রতি পাঁচ বছর পরপর দ্বীপের পরিবেশ সংরক্ষণের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় পর্যটকের সংখ্যা বাড়ানো যেতে পারে বলে পরামর্শ এসেছে মহাপরিকল্পনায়।
মহাপরিকল্পনা তৈরিতে যুক্ত ছিলেন সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইস)-এর জ্যেষ্ঠ গবেষক এইচ এম নুরুল ইসলাম। তিনি জানান, জোন-১-এ সব হোটেল ও রিসোর্ট থাকবে। অন্য তিন অংশে যে হোটেল ও রিসোর্ট আছে, সেগুলোকে এখানে নিয়ে আসা হবে। প্রয়োজনে ক্ষতিগ্রস্ত হোটেল ও রিসোর্টের মালিকদের ক্ষতিপূরণ দেবে সরকার।
এইচ এম নুরুল ইসলাম বলেন, পর্যটকেরা অন্য তিন জোনে দিনে ঘোরাঘুরি করতে পারবেন। কিন্তু রাত যাপন করতে পারবেন না। এছাড়া ছেঁড়াদিয়া দ্বীপ ৫০০ থেকে ১০০০ মিটার দূরত্ব থেকে দেখবেন পর্যটকরা, তবে অবতরণ করতে পারবেন না।
এই মহাপরিকল্পনা ১০ বছর মেয়াদি। প্রথম পাঁচ বছর ধরে এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। এর জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৫ কোটি টাকা। পরবর্তী পাঁচ বছর বাস্তবায়িত পদক্ষেপগুলোর পর্যবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা হবে।
খসড়া মহাপরিকল্পনায় বলা হয়েছে, সেন্ট মার্টিনে বসবাস করে মোট ১ হাজার ৪৪৫টি পরিবার। জনসংখ্যা ৯ হাজার ৮৮৫। প্রতি পরিবারে সদস্যসংখ্যা গড়ে ৬ দশমিক ৮৪। মোট জনসংখ্যার ৪৪ শতাংশের বয়স ১৯ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে। তাদের আয়ের দুটি মাত্র উৎস– পর্যটন ও মাছ ধরা। এসব পরিবারের মোট আয়ের ৬১ শতাংশ আসে মাছ ধরা এবং ৩১ শতাংশ আসে পর্যটন খাত থেকে। মাসিক গড় আয় ৬ হাজার ৪৪৮ টাকা। দ্বীপের ৭০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে।
পর্যটন ব্যবসা ও মাছ ধরা নিয়ন্ত্রিত হলে এসব পরিবারের আয়ের উৎসে প্রভাব পড়বে। অক্টোবর থেকে মার্চ– এ সময়টা পর্যটন মৌসুম। এ দ্বীপে হোটেল ও রিসোর্টের সংখ্যা ১০৯।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা গণমাধ্যমকে বলেন, সেন্ট মার্টিনকে রক্ষা করতে হলে নিয়ন্ত্রিত পর্যটনের কোনো বিকল্প নেই। এখানে পর্যটন হতে হবে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেন্দ্রিক। এ ছাড়া বিকল্প কর্মসংস্থানে মৎস্য ও কৃষি মন্ত্রণালয় প্রকল্প হাতে নেবে। এর মধ্যে বাংলাদেশের নিজস্ব জলবায়ু তহবিল থেকে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

২০২০ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় বলা হয়, সেন্ট মার্টিনে ১৯৮০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে বৃক্ষ আচ্ছাদিত এলাকা সাড়ে ৪ বর্গকিলোমিটার থেকে কমে নেমেছে ৩ বর্গকিলোমিটারে।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, সেন্ট মার্টিনে জমি ব্যবস্থাপনার ওপর নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে। জমি হস্তান্তর কোন উদ্দেশ্যে হবে, সেটা জেলা প্রশাসন থেকে উল্লেখ থাকতে হবে। এটা না হলে বহিরাগতরা গিয়ে জমি কিনে স্থানীয় লোকজনের ওপর ছড়ি ঘোরাবে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ওশানোগ্রাফিক বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মোসলেম উদ্দিন বলেন, মাস্টারপ্ল্যান করা হয় অনেক চিন্তাভাবনা করে দীর্ঘ মেয়াদে ফল পাওয়ার জন্য। সেন্ট মার্টিনের মতো পৃথিবীতে যত প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা আছে, সেগুলোর সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক কনভেনশন ও জাতিসংঘের নির্দেশনা আছে। বিভিন্ন দেশে এ ধরনের অঞ্চলগুলোকে বিশেষ প্রাধান্য দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়।

দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্ট মার্টিনে হারিয়ে যাওয়া জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধারে পর্যটন নিয়ন্ত্রণ করতে যাচ্ছে সরকার। সেন্ট মার্টিন সংরক্ষণে করা খসড়া মহাপরিকল্পনায় এ দ্বীপের চার কিলোমিটারের মধ্যে পর্যটকদের চলাচল সীমিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
২০২৫ সালে পর্যটকের সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। এর আগে এ দ্বীপে ৭ হাজারেরও বেশি পর্যটক রাত যাপন করতেন। মহাপরিকল্পনা বলছে, এটি সেন্ট মার্টিনের ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ। এর ফলে প্রবাল সংগ্রহ, নৌযানের দূষণ ও সমুদ্রসৈকতে আবর্জনার পরিমাণ বেড়েছে। এতে প্রবালের অস্তিত্ব হুমকিতে পড়েছে।
২০২০ সালে প্রকাশিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. কাউসার আহাম্মদ, ভূতত্ত্ব বিভাগের প্রভাষক মো. ইউসুফ গাজী ও সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী তাহরিমা জান্নাতের এক গবেষণায় উঠে এসেছে, ১৯৮০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৩৮ বছরে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে প্রবাল প্রজাতি ১৪১টি থেকে কমে ৪০টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক ওশান সায়েন্স জার্নালে ২০২০ সালে প্রকাশিত এক গবেষণা নিবন্ধে বলা হয়েছে– ২০৪৫ সালের মধ্যে দ্বীপটি পুরোপুরি প্রবালশূন্য হয়ে পড়তে পারে।

মহাপরিকল্পনায় সংরক্ষণের অংশ হিসেবে ৮ বর্গকিলোমিটারের সেন্ট মার্টিনকে ৪টি জোনে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো– ১. সাধারণ ব্যবহার এলাকা, ২. নিয়ন্ত্রিত সম্পদ এলাকা, ৩. টেকসই ব্যবস্থাপনা অঞ্চল এবং ৪. ছেঁড়াদিয়া দ্বীপের অংশ।
জোন-১: সাধারণ ব্যবহার এলাকা
সেন্ট মার্টিনের অন্য তিন অংশ থেকে হোটেল ও রিসোর্ট সরিয়ে এ জোনে নিয়ে আসা হবে। এ জোনেই রাত কাটাবেন পর্যটকেরা। প্রতিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় এখানে প্রতিদিন সর্বোচ্চ পর্যটক সংখ্যা ৯০০ জনে সীমিত রাখা হবে।
৭টি পাড়া নিয়ে গঠিত হবে জোন-১। এটি পর্যটক, অবকাঠামো ও সাধারণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য উন্মুক্ত থাকলেও সৈকতে যানবাহন চালানো, রাতে আলো জ্বালানো, প্রবাল সংগ্রহ ও দূষণ নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব করা হয়েছে মহপরিকল্পনায়।
জোন-২: নিয়ন্ত্রিত সম্পদ এলাকা
এ এলাকাটি দক্ষিণ অংশের সংবেদনশীল এলাকার প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় বাফার জোন হিসেবে কাজ করবে। এই এলাকায় পর্যটন অবকাঠামো, কৃষিতে ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহার নিষিদ্ধ হবে। সৈকতে আগুন জ্বালানো ও রান্নাবান্নাও নিষিদ্ধ থাকবে এই এলাকায়।
জোন-৩: টেকসই ব্যবস্থাপনা অঞ্চল
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে এই এলাকাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এখানে বসতি স্থাপন, অবকাঠামো নির্মাণ, প্রাকৃতিক পরিবেশ বিনষ্ট হয়, এমন কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকবে। এই এলাকার ম্যানগ্রোভ, ল্যাগুন (ছোট জলাধার) ও কচ্ছপের প্রজনন স্থান বিশেষ সুরক্ষার আওতায় আসবে।
জোন-৪: ছেঁড়াদিয়া দ্বীপের অংশ
ছেঁড়াদিয়া দ্বীপের অংশ নিয়ে হবে জোন-৪। এই এলাকায় অনুমোদিত ব্যক্তি ছাড়া সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিয়ন্ত্রিত থাকবে। এই জোনের এক কিলোমিটারের মধ্যে মাছ ধরা, দূষণ ও বন্য প্রাণীকে বিরক্ত করা নিষিদ্ধের সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রতি পাঁচ বছর পরপর দ্বীপের পরিবেশ সংরক্ষণের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় পর্যটকের সংখ্যা বাড়ানো যেতে পারে বলে পরামর্শ এসেছে মহাপরিকল্পনায়।
মহাপরিকল্পনা তৈরিতে যুক্ত ছিলেন সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইস)-এর জ্যেষ্ঠ গবেষক এইচ এম নুরুল ইসলাম। তিনি জানান, জোন-১-এ সব হোটেল ও রিসোর্ট থাকবে। অন্য তিন অংশে যে হোটেল ও রিসোর্ট আছে, সেগুলোকে এখানে নিয়ে আসা হবে। প্রয়োজনে ক্ষতিগ্রস্ত হোটেল ও রিসোর্টের মালিকদের ক্ষতিপূরণ দেবে সরকার।
এইচ এম নুরুল ইসলাম বলেন, পর্যটকেরা অন্য তিন জোনে দিনে ঘোরাঘুরি করতে পারবেন। কিন্তু রাত যাপন করতে পারবেন না। এছাড়া ছেঁড়াদিয়া দ্বীপ ৫০০ থেকে ১০০০ মিটার দূরত্ব থেকে দেখবেন পর্যটকরা, তবে অবতরণ করতে পারবেন না।
এই মহাপরিকল্পনা ১০ বছর মেয়াদি। প্রথম পাঁচ বছর ধরে এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। এর জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৫ কোটি টাকা। পরবর্তী পাঁচ বছর বাস্তবায়িত পদক্ষেপগুলোর পর্যবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা হবে।
খসড়া মহাপরিকল্পনায় বলা হয়েছে, সেন্ট মার্টিনে বসবাস করে মোট ১ হাজার ৪৪৫টি পরিবার। জনসংখ্যা ৯ হাজার ৮৮৫। প্রতি পরিবারে সদস্যসংখ্যা গড়ে ৬ দশমিক ৮৪। মোট জনসংখ্যার ৪৪ শতাংশের বয়স ১৯ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে। তাদের আয়ের দুটি মাত্র উৎস– পর্যটন ও মাছ ধরা। এসব পরিবারের মোট আয়ের ৬১ শতাংশ আসে মাছ ধরা এবং ৩১ শতাংশ আসে পর্যটন খাত থেকে। মাসিক গড় আয় ৬ হাজার ৪৪৮ টাকা। দ্বীপের ৭০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে।
পর্যটন ব্যবসা ও মাছ ধরা নিয়ন্ত্রিত হলে এসব পরিবারের আয়ের উৎসে প্রভাব পড়বে। অক্টোবর থেকে মার্চ– এ সময়টা পর্যটন মৌসুম। এ দ্বীপে হোটেল ও রিসোর্টের সংখ্যা ১০৯।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা গণমাধ্যমকে বলেন, সেন্ট মার্টিনকে রক্ষা করতে হলে নিয়ন্ত্রিত পর্যটনের কোনো বিকল্প নেই। এখানে পর্যটন হতে হবে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেন্দ্রিক। এ ছাড়া বিকল্প কর্মসংস্থানে মৎস্য ও কৃষি মন্ত্রণালয় প্রকল্প হাতে নেবে। এর মধ্যে বাংলাদেশের নিজস্ব জলবায়ু তহবিল থেকে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

২০২০ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় বলা হয়, সেন্ট মার্টিনে ১৯৮০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে বৃক্ষ আচ্ছাদিত এলাকা সাড়ে ৪ বর্গকিলোমিটার থেকে কমে নেমেছে ৩ বর্গকিলোমিটারে।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, সেন্ট মার্টিনে জমি ব্যবস্থাপনার ওপর নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে। জমি হস্তান্তর কোন উদ্দেশ্যে হবে, সেটা জেলা প্রশাসন থেকে উল্লেখ থাকতে হবে। এটা না হলে বহিরাগতরা গিয়ে জমি কিনে স্থানীয় লোকজনের ওপর ছড়ি ঘোরাবে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ওশানোগ্রাফিক বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মোসলেম উদ্দিন বলেন, মাস্টারপ্ল্যান করা হয় অনেক চিন্তাভাবনা করে দীর্ঘ মেয়াদে ফল পাওয়ার জন্য। সেন্ট মার্টিনের মতো পৃথিবীতে যত প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা আছে, সেগুলোর সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক কনভেনশন ও জাতিসংঘের নির্দেশনা আছে। বিভিন্ন দেশে এ ধরনের অঞ্চলগুলোকে বিশেষ প্রাধান্য দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়।

চার ভাগ হচ্ছে সেন্ট মার্টিন, ছেঁড়াদিয়ায় প্রবেশ নিষেধ
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্ট মার্টিনে হারিয়ে যাওয়া জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধারে পর্যটন নিয়ন্ত্রণ করতে যাচ্ছে সরকার। সেন্ট মার্টিন সংরক্ষণে করা খসড়া মহাপরিকল্পনায় এ দ্বীপের চার কিলোমিটারের মধ্যে পর্যটকদের চলাচল সীমিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
২০২৫ সালে পর্যটকের সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। এর আগে এ দ্বীপে ৭ হাজারেরও বেশি পর্যটক রাত যাপন করতেন। মহাপরিকল্পনা বলছে, এটি সেন্ট মার্টিনের ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ। এর ফলে প্রবাল সংগ্রহ, নৌযানের দূষণ ও সমুদ্রসৈকতে আবর্জনার পরিমাণ বেড়েছে। এতে প্রবালের অস্তিত্ব হুমকিতে পড়েছে।
২০২০ সালে প্রকাশিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. কাউসার আহাম্মদ, ভূতত্ত্ব বিভাগের প্রভাষক মো. ইউসুফ গাজী ও সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী তাহরিমা জান্নাতের এক গবেষণায় উঠে এসেছে, ১৯৮০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৩৮ বছরে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে প্রবাল প্রজাতি ১৪১টি থেকে কমে ৪০টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক ওশান সায়েন্স জার্নালে ২০২০ সালে প্রকাশিত এক গবেষণা নিবন্ধে বলা হয়েছে– ২০৪৫ সালের মধ্যে দ্বীপটি পুরোপুরি প্রবালশূন্য হয়ে পড়তে পারে।

মহাপরিকল্পনায় সংরক্ষণের অংশ হিসেবে ৮ বর্গকিলোমিটারের সেন্ট মার্টিনকে ৪টি জোনে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো– ১. সাধারণ ব্যবহার এলাকা, ২. নিয়ন্ত্রিত সম্পদ এলাকা, ৩. টেকসই ব্যবস্থাপনা অঞ্চল এবং ৪. ছেঁড়াদিয়া দ্বীপের অংশ।
জোন-১: সাধারণ ব্যবহার এলাকা
সেন্ট মার্টিনের অন্য তিন অংশ থেকে হোটেল ও রিসোর্ট সরিয়ে এ জোনে নিয়ে আসা হবে। এ জোনেই রাত কাটাবেন পর্যটকেরা। প্রতিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় এখানে প্রতিদিন সর্বোচ্চ পর্যটক সংখ্যা ৯০০ জনে সীমিত রাখা হবে।
৭টি পাড়া নিয়ে গঠিত হবে জোন-১। এটি পর্যটক, অবকাঠামো ও সাধারণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য উন্মুক্ত থাকলেও সৈকতে যানবাহন চালানো, রাতে আলো জ্বালানো, প্রবাল সংগ্রহ ও দূষণ নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব করা হয়েছে মহপরিকল্পনায়।
জোন-২: নিয়ন্ত্রিত সম্পদ এলাকা
এ এলাকাটি দক্ষিণ অংশের সংবেদনশীল এলাকার প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় বাফার জোন হিসেবে কাজ করবে। এই এলাকায় পর্যটন অবকাঠামো, কৃষিতে ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহার নিষিদ্ধ হবে। সৈকতে আগুন জ্বালানো ও রান্নাবান্নাও নিষিদ্ধ থাকবে এই এলাকায়।
জোন-৩: টেকসই ব্যবস্থাপনা অঞ্চল
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে এই এলাকাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এখানে বসতি স্থাপন, অবকাঠামো নির্মাণ, প্রাকৃতিক পরিবেশ বিনষ্ট হয়, এমন কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকবে। এই এলাকার ম্যানগ্রোভ, ল্যাগুন (ছোট জলাধার) ও কচ্ছপের প্রজনন স্থান বিশেষ সুরক্ষার আওতায় আসবে।
জোন-৪: ছেঁড়াদিয়া দ্বীপের অংশ
ছেঁড়াদিয়া দ্বীপের অংশ নিয়ে হবে জোন-৪। এই এলাকায় অনুমোদিত ব্যক্তি ছাড়া সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিয়ন্ত্রিত থাকবে। এই জোনের এক কিলোমিটারের মধ্যে মাছ ধরা, দূষণ ও বন্য প্রাণীকে বিরক্ত করা নিষিদ্ধের সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রতি পাঁচ বছর পরপর দ্বীপের পরিবেশ সংরক্ষণের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় পর্যটকের সংখ্যা বাড়ানো যেতে পারে বলে পরামর্শ এসেছে মহাপরিকল্পনায়।
মহাপরিকল্পনা তৈরিতে যুক্ত ছিলেন সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইস)-এর জ্যেষ্ঠ গবেষক এইচ এম নুরুল ইসলাম। তিনি জানান, জোন-১-এ সব হোটেল ও রিসোর্ট থাকবে। অন্য তিন অংশে যে হোটেল ও রিসোর্ট আছে, সেগুলোকে এখানে নিয়ে আসা হবে। প্রয়োজনে ক্ষতিগ্রস্ত হোটেল ও রিসোর্টের মালিকদের ক্ষতিপূরণ দেবে সরকার।
এইচ এম নুরুল ইসলাম বলেন, পর্যটকেরা অন্য তিন জোনে দিনে ঘোরাঘুরি করতে পারবেন। কিন্তু রাত যাপন করতে পারবেন না। এছাড়া ছেঁড়াদিয়া দ্বীপ ৫০০ থেকে ১০০০ মিটার দূরত্ব থেকে দেখবেন পর্যটকরা, তবে অবতরণ করতে পারবেন না।
এই মহাপরিকল্পনা ১০ বছর মেয়াদি। প্রথম পাঁচ বছর ধরে এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। এর জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৫ কোটি টাকা। পরবর্তী পাঁচ বছর বাস্তবায়িত পদক্ষেপগুলোর পর্যবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা হবে।
খসড়া মহাপরিকল্পনায় বলা হয়েছে, সেন্ট মার্টিনে বসবাস করে মোট ১ হাজার ৪৪৫টি পরিবার। জনসংখ্যা ৯ হাজার ৮৮৫। প্রতি পরিবারে সদস্যসংখ্যা গড়ে ৬ দশমিক ৮৪। মোট জনসংখ্যার ৪৪ শতাংশের বয়স ১৯ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে। তাদের আয়ের দুটি মাত্র উৎস– পর্যটন ও মাছ ধরা। এসব পরিবারের মোট আয়ের ৬১ শতাংশ আসে মাছ ধরা এবং ৩১ শতাংশ আসে পর্যটন খাত থেকে। মাসিক গড় আয় ৬ হাজার ৪৪৮ টাকা। দ্বীপের ৭০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে।
পর্যটন ব্যবসা ও মাছ ধরা নিয়ন্ত্রিত হলে এসব পরিবারের আয়ের উৎসে প্রভাব পড়বে। অক্টোবর থেকে মার্চ– এ সময়টা পর্যটন মৌসুম। এ দ্বীপে হোটেল ও রিসোর্টের সংখ্যা ১০৯।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা গণমাধ্যমকে বলেন, সেন্ট মার্টিনকে রক্ষা করতে হলে নিয়ন্ত্রিত পর্যটনের কোনো বিকল্প নেই। এখানে পর্যটন হতে হবে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেন্দ্রিক। এ ছাড়া বিকল্প কর্মসংস্থানে মৎস্য ও কৃষি মন্ত্রণালয় প্রকল্প হাতে নেবে। এর মধ্যে বাংলাদেশের নিজস্ব জলবায়ু তহবিল থেকে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

২০২০ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় বলা হয়, সেন্ট মার্টিনে ১৯৮০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে বৃক্ষ আচ্ছাদিত এলাকা সাড়ে ৪ বর্গকিলোমিটার থেকে কমে নেমেছে ৩ বর্গকিলোমিটারে।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, সেন্ট মার্টিনে জমি ব্যবস্থাপনার ওপর নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে। জমি হস্তান্তর কোন উদ্দেশ্যে হবে, সেটা জেলা প্রশাসন থেকে উল্লেখ থাকতে হবে। এটা না হলে বহিরাগতরা গিয়ে জমি কিনে স্থানীয় লোকজনের ওপর ছড়ি ঘোরাবে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ওশানোগ্রাফিক বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মোসলেম উদ্দিন বলেন, মাস্টারপ্ল্যান করা হয় অনেক চিন্তাভাবনা করে দীর্ঘ মেয়াদে ফল পাওয়ার জন্য। সেন্ট মার্টিনের মতো পৃথিবীতে যত প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা আছে, সেগুলোর সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক কনভেনশন ও জাতিসংঘের নির্দেশনা আছে। বিভিন্ন দেশে এ ধরনের অঞ্চলগুলোকে বিশেষ প্রাধান্য দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়।




