শিরোনাম

আকাশচুম্বি স্বর্ণের দামে উপহারের সংস্কৃতি বদল হচ্ছে

আকাশচুম্বি স্বর্ণের দামে উপহারের সংস্কৃতি বদল হচ্ছে
স্বর্ণের দাম রেকর্ড

বাংলাদেশে স্বর্ণ শুধু সম্পদই নয়, বিয়ের মতো অনুষ্ঠানে অপরিহার্য উপহার। কিন্তু ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ২৬ হাজার ২৮২ টাকায় উঠেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) ভরিতে ৪ হাজার ১৯৯ টাকা বাড়িয়ে নতুন নির্ধারিত এই মূল্য নির্ধারণ করেছে যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

২৩ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে মূল্যবৃদ্ধির এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

চলতি বছরের ১৯ অক্টোবর স্বর্ণের দামের আগের সর্বোচ্চ রেকর্ড তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীতে সর্বোচ্চ দুই লাখ ১৭ হাজার ৩৮১ থেকে কমে ভরি প্রতি দুই লাখে নেমেছিল এই মূল্যবান ধাতুর দাম। মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা কমে আসায় স্থানীয় বাজারেও দাম কমেছিল।

বাজুস জানায়, দাম বৃদ্ধির কারণে স্থানীয় বাজারে ক্রেতার সংখ্যা অন্তত ৫০ শতাংশ কমে গেছে। অপরদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, স্বর্ণের বাজারের চালিকা শক্তি মধ্যবিত্তরা উচ্চ মূল্যস্ফীতিসহ বিভিন্ন কারণে ইতোমধ্যে চাপে থাকায় তারাই এখন সবচেয়ে বেশি সমস্যায় জর্জরিত।

ঢাকার বাইতুল মোকাররম মার্কেটে বেসরকারি চাকরিজীবী মেহেরুন্নেসা তার ছোট ভাইয়ের বিয়েতে উপহার দেয়ার জন্য এক জোড়া স্বর্ণের কানের দুল কিনেছেন। উপহারটি ছিল বিশেষ। দাম পড়েছে ৫০ হাজার টাকা।

মেহেরুন্নেসা বলেন, 'দুই বছর আগে একটা ছোট লকেটসহ স্বর্ণের চেইনের দাম ছিল এখনকার তুলনায় অর্ধেক। এখন সেটার দাম প্রায় দ্বিগুণ।'

তিনি বলেন, 'আগে যে টাকায় বড় গহনা কেনা যেত, এখন সেই টাকায় নামমাত্র ছোট্ট গহনা কেনা যায়। কিন্তু এখন দাম বেড়ে যে জায়গায় পৌঁছেছে, এমন উপহার দেয়া অনেক কমে গেছে। স্বর্ণের গহনার পরিবর্তে এখন মানুষ অন্য কিছু উপহার হিসেবে দিতে আগ্রহী।

নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ২৬ হাজার ২৮২ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৬ হাজার ১৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৫ হাজার ১৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৪ হাজার ৩১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে, গতকাল ২২ ডিসেম্বর (সোমবার) ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ভরিতে ৩ হাজার ৯৬৬ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ২২ হাজার ৮৩ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম নতুন রেকর্ড ছুঁয়েছে।

২৩ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার) প্রতি আউন্স (০.৮৫৭ ভরি) ৪ হাজার ৫০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যায় স্বর্ণের দাম। একই সঙ্গে রূপাও উঠে যায় সর্বকালের সর্বোচ্চ দামে।  মঙ্গলবার স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৮৬.৫৫ ডলারে দাঁড়ায়। এর আগে লেনদেনের এক পর্যায়ে স্বর্ণের দাম রেকর্ড ৪ হাজার ৪৯৭.৫৫ ডলারে পৌঁছায়। ফেব্রুয়ারির ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচারস ১.১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫১৯.২০ ডলারে লেনদেন হয়।

গত সপ্তাহে মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস পূর্বাভাষ দেয়, ২০২৬ সালের ডিসেম্বর নাগাদ স্বর্ণের দাম ১৪ শতাংশ বেড়ে আউন্স প্রতি চার হাজার ৯০০ মার্কিন ডলার হতে পারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ছয় লাখ টাকা)। এর পেছনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও মার্কিন সরকারি কোষাগারের সুদের হার কমানোর মতো কারণ উল্লেখ করে ব্যাংকটি।

১৮ ডিসেম্বর রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, স্বর্ণের দাম বাড়াতে এসব উদ্যোগ নেয়া হতে পারে।

উল্লেখ্য, কঠিন পদার্থের ক্ষেত্রে ২৮ দশমিক ৩৪৯৫ গ্রাম এক আউন্সের সমান।