শিরোনাম

মার্কিন ভিসা বন্ড

বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের ভ্রমণ সহজ করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের ভ্রমণ সহজ করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিষয়ক দূত জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গে বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন ভিসা বন্ড তালিকায় বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করায় ভ্রমণ জটিলতা বাড়ছে। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ সহজ করার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিষয়ক দূত জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গে বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এ আহ্বান জানান। এ তথ্য জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর।

গত মঙ্গলবার হালনাগাদ তালিকা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। সেখানে বাংলাদেশসহ নতুন কয়েকটি দেশকে ভিসা বন্ডের শর্তযুক্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এই তালিকায় নাম থাকার মানে হলো, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী কোনো ব্যক্তি যদি বি১/বি২ ভিসার জন্য যোগ্য হন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদন করার সময় সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড বা জামানত দিতে হবে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা (প্রতি ডলার ১২২.৩১ টাকা হিসাবে)।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে খলিলুর রহমান বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক অগ্রগতি তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হওয়ার আগেই বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর ক্ষেত্রে বড় অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং চুক্তির কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করেছে।’

বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এসব তথ্য তুলে ধরে যুক্তরাষ্ট্র আরোপিত বাড়তি ২০ শতাংশ শুল্ক কমানোর প্রস্তাব দেন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তরকে (ইউএসটিআর)। দূত গ্রিয়ার এ প্রস্তাবটি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার বিষয়ে সম্মতি দেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কাঁচামাল ব্যবহার করে তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত শুল্ক কমানো বা সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন জেমিসন গ্রিয়ার।

এছাড়া বাড়তি শুল্ক সংক্রান্ত চুক্তি দ্রুত চূড়ান্ত ও কার্যকর করার লক্ষ্যে বৈঠকে কয়েকটি অমীমাংসিত বিষয় দ্রুত সমাধানের বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছেন।

খলিলুর রহমান বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির ফলে আগামী দিনে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক যোগাযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।’

তিনি বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের জন্য ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স করপোরেশনের (ডিএফসি) তহবিলে প্রবেশাধিকার প্রদানের অনুরোধ জানান। এ বিষয়ে দূত জেমিসন গ্রিয়ার সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন। ইউএসটিআরের পক্ষে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সহকারী প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর জানিয়েছে, নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান ইউএসটিআরের সহকারী প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চের সঙ্গে একটি পৃথক বৈঠকও করেছেন। এছাড়া খলিলুর রহমান শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আরও একটি বৈঠকে অংশ নেবেন।

/জেএইচ/