শিরোনাম

৮ কোটি টাকা ঋণ খেলাপির অভিযোগ ছিল ভুয়া: মান্না

নিজস্ব প্রতিবেদক
৮ কোটি টাকা ঋণ খেলাপির অভিযোগ ছিল ভুয়া: মান্না
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না (ছবি: সংগৃহীত)

ঋণ খেলাপির অভিযোগে বগুড়া-২ আসনে প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার পর আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পেয়ে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।’

রবিবার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন।

মান্না বলেন, একটি ভুয়া নোটিশ তৈরি করে বিষয়টি সাজানো হয়েছিল। পরে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে যোগাযোগ করার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা শাস্তিমূলকভাবে স্ট্যান্ড রিলিজ ও ট্রান্সফার হন। কিন্তু সেই তথ্য মিডিয়ায় আসেনি।’

তিনি বলেন, ‘মনোনয়ন বাতিলের পেছনে যে ষড়যন্ত্র ছিল, তা শেষ পর্যন্ত টেকেনি। আমি প্রথমেই আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। আমার বিশ্বাস ছিল, এই ষড়যন্ত্র টিকবে না।’

রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রসঙ্গে মান্না বলেন, ‘কোমরের নিচে আঘাত করে কাউকে হারানোর চেষ্টা রাজনীতি নয়। ষড়যন্ত্র করে জেতা যায় না। গণতন্ত্রের লড়াই দীর্ঘস্থায়ী হলে ষড়যন্ত্র টিকে না। আজকের রায় তার প্রমাণ।’

তিনি বলেন, ‘প্রার্থিতা যাচাই-বাছাইয়ের উদ্দেশ্য কাউকে বাদ দেওয়া নয়; বরং ত্রুটি থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ দেওয়া। আইন অনুযায়ী মনোনয়নপত্রে ভুল থাকলে তা সংশোধন কিংবা সময় দিয়ে ঠিক করার সুযোগ রয়েছে।’

মান্না জানান, তিনি আগেও বগুড়া থেকে নির্বাচন করেছেন, এবারও করছেন। অথচ তাকে বিরোধিতা করতে যে কূটকৌশল নেওয়া হয়েছে, তা অশুভ ইঙ্গিত বহন করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা প্রশাসন বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠায়। না হলে মনোনয়ন বাতিলের কোনো কারণ ছিল না।

নির্বাচনকালীন পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘কমিশন অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে আমার শঙ্কা রয়েছে। পুলিশ এখন পর্যন্ত যথেষ্ট সক্রিয় বা প্রোঅ্যাকটিভ ভূমিকা রাখছে না। অনেক জায়গায় নীরবতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।’

বিএনপির সমর্থন প্রসঙ্গে মান্না জানান, এখনো তাদের প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন ঘোষণার পর নিয়ম অনুযায়ী সেই প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন।

উল্লেখ্য, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় ঢাকা-১৮ আসনে তার মনোনয়ন বৈধ হলেও বগুড়া-২ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা তা বাতিল করেছিলেন। আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় এখন তিনি দুই আসন থেকেই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।

/এসএ/