শিরোনাম

নাগরিক শোকসভায় খালেদা জিয়াকে নিয়ে স্মৃতিচারণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নাগরিক শোকসভায় খালেদা জিয়াকে নিয়ে স্মৃতিচারণ
জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘নাগরিক সমাজ’র উদ্যোগে আয়োজিত ‘নাগরিক শোকসভা’। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে নাগরিক শোকসভায় স্মৃতিচারণ করেছেন বিশিষ্টজনেরা। আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেছেন, বাংলাদেশকে ভালো থাকতে হলে বেগম খালেদা জিয়াকে ধারণ করতে হবে।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া যখন জীবিত ছিলেন, আমি উনার জন্য বিভিন্ন প্রোগ্রামে যেতাম। আপনাদের মনে আছে, আমি একটা কথা বলতাম– বেগম জিয়া ভালো থাকলে, ভালো থাকবে বাংলাদেশ। আমি বিশ্বাস করি অবশ্যই উনি এখন ভালো আছেন। কিন্তু বাংলাদেশ কি ভালো আছে? বা ভালো থাকবে? যদি বাংলাদেশকে ভালো থাকতে হয় তাহলে বেগম জিয়াকে ধারণ করতে হবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, আল্লাহর কাছে হাজার শোকর যে আজ আমরা মুক্তভাবে বেগম জিয়ার প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানাতে পারছি।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘নাগরিক সমাজ’র উদ্যোগে আয়োজিত ‘নাগরিক শোকসভা’য় আইন উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে এ শোকসভার আয়োজন করা হয়। শোকসভায় দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক, কূটনৈতিক, সাংবাদিক, উন্নয়নকর্মী, শিক্ষাবিদ, গবেষক, সম্পাদক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ যোগ দেন।

শোকসভায় ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ সম্পাদক ও সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীর বলেন, খালেদা জিয়া কেবল একটি জাতীয়তাবাদী দলের নেত্রী ছিলেন না; তিনি সত্যিকার অর্থেই মানুষ ও দেশের নেত্রী হয়ে উঠেছিলেন, যা দলমত নির্বিশেষে লাখ লাখ মানুষের জানাজায় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে।

তিনি বলেন, মানুষ ও রাজনৈতিক নেত্রী হিসেবে খালেদা জিয়ার যে গুণটি আমাকে বরাবরই আকৃষ্ট করেছে, তা হলো তার রুচিশীলতা ও পরিমিতিবোধ। বিশেষ করে এমন এক সময়ে, যখন দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে শালীনতা ও সংযমের ঘাটতি প্রকট ছিল। তখন আমি লক্ষ করেছি– তিনি নিরন্তর ও বিনা ব্যতিক্রমে একজন রাজনীতিক হিসেবে নিজের ওপর ও তার পরিবারের ওপর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কাছ থেকে যে আঘাত ও দুর্ভোগ নেমে এসেছে, সেসবের প্রতিক্রিয়ায় তিনি কখনোই প্রকাশ্যে নিজের বেদনা, ক্ষোভ কিংবা নিন্দাসূচক কোনো বক্তব্য উচ্চারণ করেননি।

নিউ এজ সম্পাদক বলেন, আপাতদৃষ্টিতে এটি খুব সহজ কথা হতে পারে। কিন্তু এই যে সংযম, পরিমিতিবোধ এবং আত্মমর্যাদা– রাজনীতিতে অনেক অনুসারী থাকতে পারেন, অনেক মত ও পথদর্শন থাকতে পারে; কিন্তু যিনি যেই রাজনীতির, যেই সংস্কৃতিরই অনুসারী হন না কেন, বিষয়টি আজকের বাংলাদেশের অসহিষ্ণুতার সময়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি।

খালেদা জিয়ার স্মরণে নাগরিক শোকসভায় মোনাজাতে অংশ নেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা। ছবি: সিটিজেন জার্নাল
খালেদা জিয়ার স্মরণে নাগরিক শোকসভায় মোনাজাতে অংশ নেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

শোকসভায় যোগ দেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান, খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শামিলা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা। সাবেক এই সরকারপ্রধানের স্মরণে আয়োজিত সভায় যোগ দেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ, মনির হায়দার প্রমুখ।

শোকসভায় সভাপতিত্ব করেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেন। উপস্থাপনা করেন আশরাফ কায়সার ও কাজী জেসিন। এসময় দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, গবেষক, চিকিৎসক, শিক্ষক, ধর্মীয় প্রতিনিধি, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি ও বিভিন্ন পেশাজীবী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

শুক্রবার বেলা আড়াইটার পর কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকবার্তা পাঠ করেন দৈনিক ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক সালেহ উদ্দিন। এর পর অতিথিরা একে একে তাদের স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য রাখেন। বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়।

/এফসি/