শিরোনাম

ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামকে প্যারোলে মুক্তি না দেওয়ার কারণ

খুলনা সংবাদদাতা
ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামকে প্যারোলে মুক্তি না দেওয়ার কারণ
সাদ্দাম হোসেন জুয়েল। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

বাগেরহাট সদর উপজেলার নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনকে প্যারোলে মুক্তি না দেওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আলোচনা চলছে। এদিকে যশোর জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে প্যারোলের আবেদন বিষয়ে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী (২২) তার শিশুসন্তানকে পানিতে চুবিয়ে হত্যার পর গলায় নিয়ে আত্মহত্যা করেন। শুক্রবার তার ঝুলন্ত মরদেহ এবং শিশু সেজাদ হাসানের নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, প্যারোলে মুক্তি সংক্রান্ত একটি আবেদন শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) আমার বাংলোতে আসে। অবগত হওয়ার পর বিষয়টি বাগেরহাট কারা কর্তৃপক্ষকে জানাই।

জেল গেটে ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দামকে দেখানো হয় স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ। ছবি: সংগৃহীত
জেল গেটে ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দামকে দেখানো হয় স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ। ছবি: সংগৃহীত

বাগেরহাট কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাদ্দাম জেলার বাইরের কারাগারে বন্দি রয়েছেন। তাই ২০১৬ সালের কারা আইন অনুযায়ী, প্যারোলে মুক্তি দেওয়া নিয়মবহির্ভূত। আবেদনকারীদের বিষয়টি জানানো হলে তারা চলে যান। এ বিষয়ে আর কোনো যোগাযোগ করা হয়নি।

সাদ্দামের মামা হেমায়েত উদ্দিন বলেন, ২৩ জানুয়ারি প্যারোলে মুক্তির জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়। জেলা প্রশাসক আমাকে বাগেরহাট জেলা কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠান। সেখান থেকে জানানো হয়, প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার কোনো এখতিয়ার তাদের নেই। আইন অনুযায়ী, যেই কারাগারে আসামি বন্দি আছেন, সেখানেই আবেদন করতে পরামর্শ দেওয়া হয়। কোনো উপায় না পেয়ে যশোর কারাগারে মরদেহ নিয়ে গেলে তিন মিনিটের জন্য দেখার সুযোগ দেওয়া হয়।

জুয়েল হাসান সাদ্দাম নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলা শাখার সভাপতি। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাকে গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সন্তান সেজাদ হাসানের জন্মের সময় তিনি বাগেরহাট কারাগারে বন্দি। গত ১৫ ডিসেম্বর জুয়েল হাসানকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়। শনিবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে দূর থেকে তাকে শেষবার স্ত্রী-সন্তানের মুখ দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়।

জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী ও সন্তানের কবর। ছবি:  সিটিজেন জার্নাল
জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী ও সন্তানের কবর। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

রবিবার (২৫ জানুয়ারি) যশোর জেলা প্রশাসকের মিডিয়া সেলের সহকারী কমিশনার আশীষ কুমার দাসের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্যারোলের আবেদন বিষয়ে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাগেরহাট কারাগার থেকে গত ১৫ ডিসেম্বর যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা বন্দি জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে যশোর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ বরাবর প্যারোলে মুক্তির কোনো আবেদন করা হয়নি। বরং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে পরিবারের বক্তব্য থেকে জানা যায়, সময় স্বল্পতার কারণে তাদের পারিবারিক সিদ্ধান্তে প্যারোলে মুক্তির আবেদন না করে জেল গেটে মরদেহ দেখানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

/এসআর/