শিরোনাম

শেখ হাসিনা ও জয় ‘সাহস থাকলে’ দেশে এসে কথা বলুক: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক
শেখ হাসিনা ও জয় ‘সাহস থাকলে’ দেশে এসে কথা বলুক: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বাইতুল ইজ্জতে বিজিবি ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজের ‘বীর উত্তম মজিবুর রহমান প্যারেড গ্রাউন্ডে’ বিজিবির ১০৪তম রিক্রুটিং প্যারেডের সমাপনী অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা (ছবি: বিজিবি)

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে সাহস থাকলে দেশে এসে বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) চট্টগ্রামে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে এই মন্তব্য করেন তিনি।

শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয় নির্বাচন নিয়ে যেসব বক্তব্য দিচ্ছেন, তা ভোটারদের শঙ্কিত করবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনি তো নিজে শঙ্কিত না। আর ওই দূরে থেকে তারা বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য দিচ্ছে। যদি তাদের এত সাহস থাকে, তাহলে দেশে এসেই বলুক। যারা পালায়া আছে, অন্য জায়গা থেকে পালায়া চোর তো অনেক কিছু বলতে পারে। অন্য দেশে পালায়া কথা বললে এর কোনো ভ্যালু নাই।’ দেশে এসে আইনের আশ্রয় নিয়ে কথা বলার আহ্বান জানালেও বিদেশে বসে দেওয়া বক্তব্যে জনগণ শঙ্কিত হবে না বলে তিনি মনে করেন।

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বাইতুল ইজ্জতে বিজিবি ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজের ‘বীর উত্তম মজিবুর রহমান রিক্রুটিং প্যারেড গ্রাউন্ডে’ বিজিবির ১০৪তম র সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

নির্বাচনের সময় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে, তাদের জন্যই ফোর্সের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারবে না। সবাই সহযোগিতা করলে নির্বাচন খুব শান্তিপূর্ণভাবে হবে।’

প্যারেড সমাপনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানান, আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৮ লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এ সময় তিনি নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে– এমন সব অনৈতিক ও পক্ষপাতমূলক আচরণ থেকে বিরত থাকার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কঠোর নির্দেশনা দেন।

মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘রাখাইনের পুরো সীমান্ত এলাকায় বর্তমানে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং মিয়ানমার সেনাবাহিনী সেখানে নেই। এতে বাংলাদেশের জন্য কিছু সমস্যা তৈরি হচ্ছে।’

তিনি জানান, সীমান্তে যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে মিয়ানমার সরকারকে প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে। তবে আরাকান আর্মিকে এখনো বৈধতা দেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে মর্টারের আঘাতে বাংলাদেশের এক শিশু আহত হয়েছে এবং তাকে ঢাকায় চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, নির্বাচনের সময় দেশের ৬১টি জেলায় বিজিবির ৩৭ হাজার সদস্য মোতায়েন থাকবে। এবারের রিক্রুটিং প্যারেডে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৩ জন নবীন সৈনিক যোগ দিয়েছেন, যার মধ্যে ২ হাজার ৯৫০ জন পুরুষ ও ৭৩ জন নারী।

/এসএ/