পাহাড় কেটে অবৈধ বসতি, নিয়ন্ত্রণ দুই বাহিনীর হাতে

পাহাড় কেটে অবৈধ বসতি, নিয়ন্ত্রণ দুই বাহিনীর হাতে
সিটিজেন-ডেস্ক

সরকারি পাহাড় কেটে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে গড়ে উঠেছে কয়েক হাজার অবৈধ বসতি। চার দশক ধরে এখানে চলছে কোটি কোটি টাকার লুটপাট ও প্লট-বাণিজ্য। দখল–আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলেছেন প্রভাবশালীরা। মূলত খাস জমির নিয়ন্ত্রণকে ঘিরে বছরের পর বছর চলছে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ।
স্থানীয়রা বলছেন, সলিমপুর ও আলীনগরে বাসিন্দাদের প্রবেশের জন্য রয়েছে পরিচয়পত্র। বাইরের কেউ এখানে ঢুকতে পারেন না। এমনকী পুলিশ, জেলা প্রশাসনের লোকজনও এলাকাটিতে প্রবেশ করতে গিয়ে বারবার হামলার শিকার হয়েছেন।
জেলা প্রশাসনের কার্যালয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে জঙ্গল সলিমপুরের অবস্থান। সীতাকুণ্ডে হলেও এটি অনেকটা নগরের ভেতরেই। এখানে পাঁচটি মৌজায় খাস জমির পরিমাণ ৩ হাজার ১০০ একর। এ পর্যন্ত জঙ্গল সলিমপুরে ৪০০ একর পাহাড় কাটা হয়েছে। সলিমপুরের পূর্ব ও উত্তরে রয়েছে চট্টগ্রাম সেনানিবাস ও বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি, পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণে চট্টগ্রাম শহর ও বায়েজিদ থানা।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকালে জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চালাতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় র্যাবের উপসহকারী পরিচালক আবদুল মোতালেব নিহত হন। এ ঘটনায় র্যাবের তিন সদস্যসহ সোর্স মনা গুরুতর আহত হন।
পুলিশ, র্যাব ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এদিন বিকালে ইয়াসিনের নেতৃত্বে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় একটি বিএনপি কার্যালয় উদ্বোধনের কথা ছিল। এ উপলক্ষে সেখানে বিপুলসংখ্যক লোকজন জড়ো হয়।
অন্যদিকে রুকন গ্রুপের অনুসারীরা র্যাবকে জানান, ওই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সন্ত্রাসী ইয়াসিন উপস্থিত থাকবেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম র্যাবের পতেঙ্গা কোম্পানি থেকে একটি টিম সেখানে অভিযান চালাতে যায়। বিকাল পৌনে চারটার দিকে র্যাব সদস্যদের ওপর ইয়াসিন গ্রুপ হামলা চালায়।
খবর পেয়ে সেখানে যায় সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ। গুরুতর আহত অবস্থায় পাঁচজনকে উদ্ধার করে ভর্তি করে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে। কর্তব্যরত চিকিৎসক র্যাবের উপসহকারী পরিচালক আবদুল মোতালেবকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত আবদুল মোতালেব বিজিবির নায়েব সুবেদার ছিলেন এবং ডেপুটেশনে র্যাবে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার পর জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়।
র্যাব জানায়, হামলায় অন্তত ৪০০ থেকে ৫০০ জন লোক অংশ নেয়। পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, র্যাবের দুটি মাইক্রোবাস (হাইয়েস) সলিমপুরে যাওয়ার পর লাঠিসোঁটা নিয়ে কিছু ব্যক্তি সেটিকে ধাওয়া দিচ্ছেন। একপর্যায়ে মাইক্রোবাস দুটির কাচ ভাঙচুর করেন হামলাকারীরা। তখন ওই এলাকায় মাইকে ঘোষণা দেওয়ার শব্দ শোনা যাচ্ছিল। ফটক আটকানোর জন্য বলছিলেন এক ব্যক্তি।
আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি কক্ষে বসে আছেন আহত কয়েকজন র্যাব সদস্য। তাদের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যান্ডেজ। কক্ষের মেঝে রক্তে লাল হয়ে আছে। পুলিশ সদস্যরা আহত র্যাব সদস্যদের গাড়িতে তুলে দিয়ে আসছেন।

র্যাব-৭, চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এ আর এম মোজাফফর হোসেন গতকাল রাতে জানান, সন্ধ্যায় সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় ৪৩ জন র্যাব সদস্য অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের ধরতে অভিযানে গিয়েছিলেন। এলাকাটিতে র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ দুষ্কৃতকারী র্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় নায়েব সুবেদার মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়াসহ র্যাবের চারজন সদস্য গুরুতর আহত হন। তাদের পুলিশের সহযোগিতায় উদ্ধার করে চট্টগ্রামের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মোতালেব হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।
হামলা আগেও হয়েছে
২০২৫ সালের ১৫ জুলাই জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা সলিমপুরে সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজে গেলে গাড়িবহর থেকে স্থানীয় ইউপি সদস্যকে নামিয়ে মারধর করা হয়। এ হামলায় নেতৃত্ব দেন সলিমপুরের স্বঘোষিত সম্রাট হিসেবে পরিচিত মো. ইয়াসীন। এ ঘটনায় ১৬ জুলাই সীতাকুণ্ড থানায় মামলা করা হয়। ১৮ জুলাই কোতোয়ালি থানার আদালত ভবন এলাকা থেকে ইয়াসীনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
২০২৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর জঙ্গল সলিমপুর ছিন্নমূল বড়ইতলা ২ নম্বর সমাজ এলাকায় পাহাড় থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শেষে ফেরার পথে হামলায় জেলা প্রশাসনের তৎকালীন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. উমর ফারুক, সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফায়েল আহমেদসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। এ সময় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ওপর ককটেল, ইটপাটকেলও নিক্ষেপ করেন ওই এলাকার বাসিন্দারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশও গুলি ছোড়ে।
এর আগের বছর ২০২২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি র্যাবের সঙ্গে জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের গুলির ঘটনা ঘটেছিল। একই বছরের ২ আগস্ট অবৈধ ঘরবাড়ি উচ্ছেদ অভিযান শেষে ফেরার পথে বাধা দেওয়া হয় জেলা প্রশাসনের লোকজনদের। ৮ সেপ্টেম্বর আলীনগরে অবৈধ বসতি ভাঙতে যায় প্রশাসন। সেই সময় আলীনগরের সন্ত্রাসীরা পুলিশের ওপর হামলা করে।
জেলা প্রশাসন জানায়, সলিমপুরে ২০১৭ ও ২০১৯ সালে উচ্ছেদে গেলে বাধার মুখে পড়ে জেলা প্রশাসন। সেখানকার প্রভাবশালী দখলদাররা রাস্তায় নারীদের দিয়ে মানববন্ধন করিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রবেশে বাধা দেয়।

সরকারি পাহাড় কেটে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে গড়ে উঠেছে কয়েক হাজার অবৈধ বসতি। চার দশক ধরে এখানে চলছে কোটি কোটি টাকার লুটপাট ও প্লট-বাণিজ্য। দখল–আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলেছেন প্রভাবশালীরা। মূলত খাস জমির নিয়ন্ত্রণকে ঘিরে বছরের পর বছর চলছে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ।
স্থানীয়রা বলছেন, সলিমপুর ও আলীনগরে বাসিন্দাদের প্রবেশের জন্য রয়েছে পরিচয়পত্র। বাইরের কেউ এখানে ঢুকতে পারেন না। এমনকী পুলিশ, জেলা প্রশাসনের লোকজনও এলাকাটিতে প্রবেশ করতে গিয়ে বারবার হামলার শিকার হয়েছেন।
জেলা প্রশাসনের কার্যালয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে জঙ্গল সলিমপুরের অবস্থান। সীতাকুণ্ডে হলেও এটি অনেকটা নগরের ভেতরেই। এখানে পাঁচটি মৌজায় খাস জমির পরিমাণ ৩ হাজার ১০০ একর। এ পর্যন্ত জঙ্গল সলিমপুরে ৪০০ একর পাহাড় কাটা হয়েছে। সলিমপুরের পূর্ব ও উত্তরে রয়েছে চট্টগ্রাম সেনানিবাস ও বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি, পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণে চট্টগ্রাম শহর ও বায়েজিদ থানা।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকালে জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চালাতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় র্যাবের উপসহকারী পরিচালক আবদুল মোতালেব নিহত হন। এ ঘটনায় র্যাবের তিন সদস্যসহ সোর্স মনা গুরুতর আহত হন।
পুলিশ, র্যাব ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এদিন বিকালে ইয়াসিনের নেতৃত্বে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় একটি বিএনপি কার্যালয় উদ্বোধনের কথা ছিল। এ উপলক্ষে সেখানে বিপুলসংখ্যক লোকজন জড়ো হয়।
অন্যদিকে রুকন গ্রুপের অনুসারীরা র্যাবকে জানান, ওই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সন্ত্রাসী ইয়াসিন উপস্থিত থাকবেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম র্যাবের পতেঙ্গা কোম্পানি থেকে একটি টিম সেখানে অভিযান চালাতে যায়। বিকাল পৌনে চারটার দিকে র্যাব সদস্যদের ওপর ইয়াসিন গ্রুপ হামলা চালায়।
খবর পেয়ে সেখানে যায় সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ। গুরুতর আহত অবস্থায় পাঁচজনকে উদ্ধার করে ভর্তি করে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে। কর্তব্যরত চিকিৎসক র্যাবের উপসহকারী পরিচালক আবদুল মোতালেবকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত আবদুল মোতালেব বিজিবির নায়েব সুবেদার ছিলেন এবং ডেপুটেশনে র্যাবে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার পর জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়।
র্যাব জানায়, হামলায় অন্তত ৪০০ থেকে ৫০০ জন লোক অংশ নেয়। পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, র্যাবের দুটি মাইক্রোবাস (হাইয়েস) সলিমপুরে যাওয়ার পর লাঠিসোঁটা নিয়ে কিছু ব্যক্তি সেটিকে ধাওয়া দিচ্ছেন। একপর্যায়ে মাইক্রোবাস দুটির কাচ ভাঙচুর করেন হামলাকারীরা। তখন ওই এলাকায় মাইকে ঘোষণা দেওয়ার শব্দ শোনা যাচ্ছিল। ফটক আটকানোর জন্য বলছিলেন এক ব্যক্তি।
আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি কক্ষে বসে আছেন আহত কয়েকজন র্যাব সদস্য। তাদের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যান্ডেজ। কক্ষের মেঝে রক্তে লাল হয়ে আছে। পুলিশ সদস্যরা আহত র্যাব সদস্যদের গাড়িতে তুলে দিয়ে আসছেন।

র্যাব-৭, চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এ আর এম মোজাফফর হোসেন গতকাল রাতে জানান, সন্ধ্যায় সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় ৪৩ জন র্যাব সদস্য অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের ধরতে অভিযানে গিয়েছিলেন। এলাকাটিতে র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ দুষ্কৃতকারী র্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় নায়েব সুবেদার মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়াসহ র্যাবের চারজন সদস্য গুরুতর আহত হন। তাদের পুলিশের সহযোগিতায় উদ্ধার করে চট্টগ্রামের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মোতালেব হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।
হামলা আগেও হয়েছে
২০২৫ সালের ১৫ জুলাই জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা সলিমপুরে সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজে গেলে গাড়িবহর থেকে স্থানীয় ইউপি সদস্যকে নামিয়ে মারধর করা হয়। এ হামলায় নেতৃত্ব দেন সলিমপুরের স্বঘোষিত সম্রাট হিসেবে পরিচিত মো. ইয়াসীন। এ ঘটনায় ১৬ জুলাই সীতাকুণ্ড থানায় মামলা করা হয়। ১৮ জুলাই কোতোয়ালি থানার আদালত ভবন এলাকা থেকে ইয়াসীনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
২০২৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর জঙ্গল সলিমপুর ছিন্নমূল বড়ইতলা ২ নম্বর সমাজ এলাকায় পাহাড় থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শেষে ফেরার পথে হামলায় জেলা প্রশাসনের তৎকালীন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. উমর ফারুক, সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফায়েল আহমেদসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। এ সময় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ওপর ককটেল, ইটপাটকেলও নিক্ষেপ করেন ওই এলাকার বাসিন্দারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশও গুলি ছোড়ে।
এর আগের বছর ২০২২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি র্যাবের সঙ্গে জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের গুলির ঘটনা ঘটেছিল। একই বছরের ২ আগস্ট অবৈধ ঘরবাড়ি উচ্ছেদ অভিযান শেষে ফেরার পথে বাধা দেওয়া হয় জেলা প্রশাসনের লোকজনদের। ৮ সেপ্টেম্বর আলীনগরে অবৈধ বসতি ভাঙতে যায় প্রশাসন। সেই সময় আলীনগরের সন্ত্রাসীরা পুলিশের ওপর হামলা করে।
জেলা প্রশাসন জানায়, সলিমপুরে ২০১৭ ও ২০১৯ সালে উচ্ছেদে গেলে বাধার মুখে পড়ে জেলা প্রশাসন। সেখানকার প্রভাবশালী দখলদাররা রাস্তায় নারীদের দিয়ে মানববন্ধন করিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রবেশে বাধা দেয়।

পাহাড় কেটে অবৈধ বসতি, নিয়ন্ত্রণ দুই বাহিনীর হাতে
সিটিজেন-ডেস্ক

সরকারি পাহাড় কেটে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে গড়ে উঠেছে কয়েক হাজার অবৈধ বসতি। চার দশক ধরে এখানে চলছে কোটি কোটি টাকার লুটপাট ও প্লট-বাণিজ্য। দখল–আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলেছেন প্রভাবশালীরা। মূলত খাস জমির নিয়ন্ত্রণকে ঘিরে বছরের পর বছর চলছে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ।
স্থানীয়রা বলছেন, সলিমপুর ও আলীনগরে বাসিন্দাদের প্রবেশের জন্য রয়েছে পরিচয়পত্র। বাইরের কেউ এখানে ঢুকতে পারেন না। এমনকী পুলিশ, জেলা প্রশাসনের লোকজনও এলাকাটিতে প্রবেশ করতে গিয়ে বারবার হামলার শিকার হয়েছেন।
জেলা প্রশাসনের কার্যালয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে জঙ্গল সলিমপুরের অবস্থান। সীতাকুণ্ডে হলেও এটি অনেকটা নগরের ভেতরেই। এখানে পাঁচটি মৌজায় খাস জমির পরিমাণ ৩ হাজার ১০০ একর। এ পর্যন্ত জঙ্গল সলিমপুরে ৪০০ একর পাহাড় কাটা হয়েছে। সলিমপুরের পূর্ব ও উত্তরে রয়েছে চট্টগ্রাম সেনানিবাস ও বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি, পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণে চট্টগ্রাম শহর ও বায়েজিদ থানা।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকালে জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চালাতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় র্যাবের উপসহকারী পরিচালক আবদুল মোতালেব নিহত হন। এ ঘটনায় র্যাবের তিন সদস্যসহ সোর্স মনা গুরুতর আহত হন।
পুলিশ, র্যাব ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এদিন বিকালে ইয়াসিনের নেতৃত্বে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় একটি বিএনপি কার্যালয় উদ্বোধনের কথা ছিল। এ উপলক্ষে সেখানে বিপুলসংখ্যক লোকজন জড়ো হয়।
অন্যদিকে রুকন গ্রুপের অনুসারীরা র্যাবকে জানান, ওই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সন্ত্রাসী ইয়াসিন উপস্থিত থাকবেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম র্যাবের পতেঙ্গা কোম্পানি থেকে একটি টিম সেখানে অভিযান চালাতে যায়। বিকাল পৌনে চারটার দিকে র্যাব সদস্যদের ওপর ইয়াসিন গ্রুপ হামলা চালায়।
খবর পেয়ে সেখানে যায় সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ। গুরুতর আহত অবস্থায় পাঁচজনকে উদ্ধার করে ভর্তি করে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে। কর্তব্যরত চিকিৎসক র্যাবের উপসহকারী পরিচালক আবদুল মোতালেবকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত আবদুল মোতালেব বিজিবির নায়েব সুবেদার ছিলেন এবং ডেপুটেশনে র্যাবে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার পর জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়।
র্যাব জানায়, হামলায় অন্তত ৪০০ থেকে ৫০০ জন লোক অংশ নেয়। পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, র্যাবের দুটি মাইক্রোবাস (হাইয়েস) সলিমপুরে যাওয়ার পর লাঠিসোঁটা নিয়ে কিছু ব্যক্তি সেটিকে ধাওয়া দিচ্ছেন। একপর্যায়ে মাইক্রোবাস দুটির কাচ ভাঙচুর করেন হামলাকারীরা। তখন ওই এলাকায় মাইকে ঘোষণা দেওয়ার শব্দ শোনা যাচ্ছিল। ফটক আটকানোর জন্য বলছিলেন এক ব্যক্তি।
আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি কক্ষে বসে আছেন আহত কয়েকজন র্যাব সদস্য। তাদের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যান্ডেজ। কক্ষের মেঝে রক্তে লাল হয়ে আছে। পুলিশ সদস্যরা আহত র্যাব সদস্যদের গাড়িতে তুলে দিয়ে আসছেন।

র্যাব-৭, চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এ আর এম মোজাফফর হোসেন গতকাল রাতে জানান, সন্ধ্যায় সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় ৪৩ জন র্যাব সদস্য অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের ধরতে অভিযানে গিয়েছিলেন। এলাকাটিতে র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ দুষ্কৃতকারী র্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় নায়েব সুবেদার মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়াসহ র্যাবের চারজন সদস্য গুরুতর আহত হন। তাদের পুলিশের সহযোগিতায় উদ্ধার করে চট্টগ্রামের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মোতালেব হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।
হামলা আগেও হয়েছে
২০২৫ সালের ১৫ জুলাই জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা সলিমপুরে সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজে গেলে গাড়িবহর থেকে স্থানীয় ইউপি সদস্যকে নামিয়ে মারধর করা হয়। এ হামলায় নেতৃত্ব দেন সলিমপুরের স্বঘোষিত সম্রাট হিসেবে পরিচিত মো. ইয়াসীন। এ ঘটনায় ১৬ জুলাই সীতাকুণ্ড থানায় মামলা করা হয়। ১৮ জুলাই কোতোয়ালি থানার আদালত ভবন এলাকা থেকে ইয়াসীনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
২০২৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর জঙ্গল সলিমপুর ছিন্নমূল বড়ইতলা ২ নম্বর সমাজ এলাকায় পাহাড় থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শেষে ফেরার পথে হামলায় জেলা প্রশাসনের তৎকালীন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. উমর ফারুক, সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফায়েল আহমেদসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। এ সময় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ওপর ককটেল, ইটপাটকেলও নিক্ষেপ করেন ওই এলাকার বাসিন্দারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশও গুলি ছোড়ে।
এর আগের বছর ২০২২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি র্যাবের সঙ্গে জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের গুলির ঘটনা ঘটেছিল। একই বছরের ২ আগস্ট অবৈধ ঘরবাড়ি উচ্ছেদ অভিযান শেষে ফেরার পথে বাধা দেওয়া হয় জেলা প্রশাসনের লোকজনদের। ৮ সেপ্টেম্বর আলীনগরে অবৈধ বসতি ভাঙতে যায় প্রশাসন। সেই সময় আলীনগরের সন্ত্রাসীরা পুলিশের ওপর হামলা করে।
জেলা প্রশাসন জানায়, সলিমপুরে ২০১৭ ও ২০১৯ সালে উচ্ছেদে গেলে বাধার মুখে পড়ে জেলা প্রশাসন। সেখানকার প্রভাবশালী দখলদাররা রাস্তায় নারীদের দিয়ে মানববন্ধন করিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রবেশে বাধা দেয়।




