শিরোনাম

সৈকতে বছরের শেষ সূর্যকে বিদায় জানালেন লাখো পর্যটক

কক্সবাজার-সংবাদদাতা
সৈকতে বছরের শেষ সূর্যকে বিদায় জানালেন লাখো পর্যটক
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

পশ্চিম আকাশে হেলে পড়েছে লাল সূর্য। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে লাখো পর্যটক দাঁড়িয়ে দেখেন সেই অপরূপ দৃশ্য। কেউবা উদাস দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলেন সূর্যের দিকে। কেউ কেউ বালুচরে দাঁড়িয়ে সূর্যকে পেছনে রেখে ছবি তোলায় ব্যস্ত ছিলেন। সব মিলিয়ে বছরের শেষ সূর্যাস্ত দেখতে সমুদ্র সৈকতে ছিল পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড়। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকালে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে দেখা গেছে এমন চিত্র।

সৈকতের কলাতলী, সি-গাল ও লাবণী পয়েন্টে দাঁড়িয়ে লাখো পর্যটক বছরের শেষ সূর্যকে বিদায় জানান। তবে সমুদ্র সৈকতের উন্মুক্ত স্থানে হয়নি বর্ষ বিদায়ের কোনো অনুষ্ঠান। এতে অনেক পর্যটক হতাশা প্রকাশ করেন। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোক পালন করায় তারকামানের হোটেলগুলোতে থার্টিফার্স্ট নাইটের আয়োজন বাতিল করা হয়েছে।

সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, এক কিলোমিটার সৈকতে অন্তত ৫০ হাজার পর্যটকের সমাগম হয়েছে। ভাটার কারণে পানি নেমে যাওয়ায় দেখা দেয় বিশাল বালুচর। সেখানে প্রিয়জনদের নিয়ে বছরের শেষ সূর্যাস্তের মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করতে পর্যটকেরা ব্যস্ত রয়েছেন। সবারই যেন চোখ ডুবন্ত সূর্যের দিকে। বিকাল সোয়া ৫টার দিকে ডুবে যায় সূর্য। পর্যটকদের অনেকেই তখন হইহুল্লোড় শুরু করে দেন। অনেকে হাত তুলে বিদায় জানান সূর্যকে। উচ্চস্বরে অনেককে বলতে শোনা যায়, বিদায় ২০২৫।

হোটেল মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বছরের শেষ সূর্যকে বিদায় জানাতে বুধবার সৈকতে অন্তত দেড় লক্ষাধিক পর্যটকের সমাগম হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে এ বছরও সৈকতে বর্ষবিদায় অনুষ্ঠান হয়নি। এ ছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবরেও শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। তার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালনের ঘোষণা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকার।

সমুদ্র 1

বর্তমানে কক্সবাজার শহরের পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, গেস্টহাউজ ও কটেজের প্রায় ৯০ শতাংশ রুম পর্যটকে ভরা। হোটেলগুলোর দৈনিক ধারণক্ষমতা প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার।

কক্সবাজার জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অলক বিশ্বাস জানান, থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপন উপলক্ষে কক্সবাজার শহর এলাকাসহ সমুদ্র সৈকতে আতশবাজি, পটকা ও ফানুস ওড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে আতশবাজি ও ফটকা বিক্রি ও বিপণন কেন্দ্র বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ১ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কক্সবাজার জেলার সকল বার ও মদের দোকানে মদ ক্রয়-বিক্রয় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা পুলিশের মুখপাত্র আরও বলেন, থার্টিফার্স্ট নাইট উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার ও উস্কানিমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো, নাশকতা, সহিংসতা কিংবা বোমা হামলাসহ যেকোনো ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে।

তারকা হোটেল ওশ্যান প্যারাডাইসের পরিচালক আবদুল কাদের মিশু বলেন, ‘কক্সবাজারে বিশ্বমানের পর্যটন বিকাশে আমরা শুরু থেকেই বাংলা নববর্ষ, থার্টিফার্স্ট নাইটসহ নানা দিবসকে পর্যটকদের কাছে উপভোগ্য করে তুলি। পর্যটক চাহিদার কারণে এবারো বলরুমে ইনহাউজ গেস্টদের জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ডিজে পার্টির আয়োজন ছিল। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আয়োজন সীমিত করা হয়েছে।

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের কিটকট ব্যবসায়ী রাফিউল আলম বলেন, ‘বিপুল পরিমাণ পর্যটকে ভরে গেছে কক্সবাজার সৈকত। আগামী এক সপ্তাহে আরও পর্যটকের সমাগম হবে। এতে আমরা ভালো ব্যবসা করতে পারবো। প্রতি মাসে এই রকম পর্যটক আগামন ঘটলে ব্যবসা আরও জমে উঠতো।’

হোটেল ব্যবসায়ী আবদুর রহমান বলেন, ‘সৈকতে কোনও প্রকার ওপেন কনসার্টের ব্যবস্থা রাখেনি প্রশাসন। নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে থার্টিফার্স্ট নাইটের অনুষ্ঠান বন্ধ করা ঠিক হয়নি।’

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, ‘থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপনে যেসব পর্যটক ইতোমধ্যে কক্সবাজার ভ্রমণে এসেছেন তাদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বলয় তৈরি করেছে পুলিশ।’

এসও