শিরোনাম

যশোরে ১২০ কোটি টাকার খেজুর গুড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা

যশোর সংবাদদাতা
যশোরে ১২০ কোটি টাকার খেজুর গুড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা
রস জ্বাল দিয়ে তৈরি করা হয় খেজুর গুড়। ছবি: সংবাদদাতা

চলতি মৌসুমে প্রায় ১২০ কোটি টাকার খেজুর গুড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর কার্যালয়।

জানা গেছে, দেশজুড়ে খ্যাতি রয়েছে যশোরের খেজুর গুড়ের। জেলায় ২৩ লাখ ৩০ হাজার ৬৯৫টি খেজুর গাছ রয়েছে। এর মধ্যে রস আহরণের উপযোগী গাছের সংখ্যা ৩ লাখ ৭ হাজার ১৩০টি।

গত বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি যশোরের ঐতিহ্যবাহী খেজুর গুড় ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এ গুড়ের রয়েছে ঐতিহ্য, তেমনি আছে অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও । বর্তমানে খেজুরের কাঁচা রস প্রতি মাটির ভাড় ২০০ থেকে ৪০০ টাকা বিক্রি করা হয়। এছাড়া, দানা গুড় প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, পাটালি ৫০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

খেজুর গাছ
খেজুর গাছ

গাছিরা বলছেন, খেজুর গাছের রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরিতে বেশ কষ্ট। নতুন প্রজন্ম গাছি পেশায় যুক্ত না হওয়ায় সংকট বাড়ছে।

প্রায় ৩৫ বছর ধরে খেজুর গাছ কাটেন সদরের নওয়াপাড়া গ্রামের আজিবর। আগে দেড়শ গাছ কাটলেও এখন বয়সের কারণে ৩০ থেকে ৪০টা গাছ কাটেন। তিনি বলেন, ‘আগের চেয়ে রস ও গুড়ের দাম বেশি। এবার শীত ভাল পড়ছে। তাই ভাল রসও নামছে। গুড়ের উৎপাদনও বেশি হচ্ছে।

মনিরামপুর উপজেলার সরসকাটি গ্রামের আতিয়ার গাছ কাটেন প্রায় ৪০ বছর ধরে। তিনি বলেন, ‘এবার ৫০টা গাছ কাটছি। প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ কেজি করে গুড় তৈরি হয়। লাভ হলেও খুব কষ্টের কাজ গাছ কাটা।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপপরিচালক মোশাররফ হোসেন বলেন, এবার বেশ ঠান্ডা পড়ছে। এ কারণে গাছে রসের পরিমাণ বাড়ছে। রসের মানও ভালো। জেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় ১২০ কোটি টাকার রস ও গুড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

/এসআর/