অনিয়মের অভিযোগ
রূপায়ণ চেয়ারম্যান মুকুলসহ ৪৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

রূপায়ণ চেয়ারম্যান মুকুলসহ ৪৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা
নিজস্ব প্রতিবেদক

বেসরকারি আবাসন প্রতিষ্ঠান রূপায়ণ হাউজিং এস্টেট লিমিটেডের প্রকল্পে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া পর প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খাঁন মুকুলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদক আইনের ৫(২) ধারায় করা মামলায় মুকুল ছাড়াও তার স্ত্রী, ছেলে ও পরিবারের সদস্য এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ৪৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
রাজধানীতে ওই আবাসন প্রকল্প গড়ে তুলতে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি নিয়ে আদালতের দেওয়া স্থিতাবস্থা ‘অমান্য করে অবৈধভাবে’ ভূমি ব্যবহারের ছাড়পত্র, বিশেষ প্রকল্প এবং নকশা ও নির্মাণ অনুমোদন নিয়েছে। এ ছাড়াও প্রকল্পটিতে ‘অবৈধভাবে’ সরকারি খাস জমি ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে মামলায়।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক আফিয়া খাতুন বাদী হয়ে সমন্বিত জেলা কার্যালয়, (ঢাকা-১) এ মামলাটি দায়ের করেছেন। সংস্থাটির মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন উপস্থিত সাংবাদিকদের মামলার বিষয় নিশ্চিত করেন। এ সময় তিনি বলেন, রূপায়ণের চেয়ারম্যান মুকুল ছাড়াও রূপায়ণ হাউজিং এস্টেটের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা এবং রাজউকসহ ৪৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আসামি করা হয়েছে।
আসামির তালিকায় রয়েছেন– রূপায়ণ হাউজিং এস্টেট লিমিটেডের মালিক ও চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খাঁন মুকুল, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ও তার স্ত্রী রোকেয়া বেগম নাসিমা, ছেলে ও পরিচালক মাহির আলী খাঁন রাতুল, ভাই আলী আকবর খাঁন রতন, মুকুলের ফুফু ও পরিচালক ফরিদা বেগম এবং এস্টেট অফিসার সাজ্জাদ হুসাইন।

রাজউকের আসামিরা হলেন– রাজউকের তৎকালীন উপ-নগর পরিকল্পনাবিদ কামরুল হাসান সোহাগ ও মো. সিরাজুল ইসলাম, সদস্য (পরিকল্পনা) জিয়াউল হাসান, সদস্য (উন্নয়ন) মো. আবদুর রহমান, সদস্য (পরিকল্পনা) শেখ আব্দুল মান্নান, প্রধান প্রকৌশলী মো. এমদাদুল ইসলাম, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোবারক হোসেন ও আব্দুল্লাহ মো. জুবাইর, রেখাকার মো. আলমগীর কবীর, নকশাকার মো. এমদাদুল হক মুনসী, ফটোগ্রাফিক অ্যাসিস্ট্যান্ট এমরান হোসেন সুমন, ড্রাফটসম্যান মো. নাজমুল হক, গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী স্বর্ণেন্দু শেখর মন্ডল, পরিচালক মো. রোকন উদদৌলা, গোলাম মোস্তফা, ড. মুহাম্মদ মোশরফ হোসেন, আনন্দ কুমার বিশ্বাস, অথরাইজড অফিসার (সাময়িক বরখাস্ত) মো. মিজানুর রহমান, অথরাইজড অফিসার মো. পারভেজ খাদেম ও মো. আশরাফুল ইসলাম আহমেদ, আইন কর্মকর্তা মো. মাহফুজুল করিম, আইনজীবী ও সহকারী আইন পরামর্শক মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তার, সহকারী অথরাইজড অফিসার জান্নাতুল নাইমা, তামান্না বিনতে রহমান, এস এম এহসানুল ইমাম ও মো. খায়রুজ্জামান, প্রধান ইমারত পরিদর্শক মো. আব্দুস সালাম, আবু শামস রকিব উদ্দিন আহমেদ, মো. আব্দুল গনি ও মো. বিল্লাল হোসেন, পরিদর্শক মো. সিরাজুল ইসলাম, ইমারত পরিদর্শক মো. মাসুদুর রহমান, সহকারী পরিদর্শক (এস্টেট ও ভূমি) জ্ঞানময় চাকমা, এস্টেট পরিদর্শক তৌফিকুল ইসলাম, জরিপকারক মো. আলী আজগর এবং জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সহকারী স্থপতি মো. তাওফিকুজ্জামান।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, রাজউকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দায়িত্ব পালন না করে রূপায়ন হাউজিং লিমিটেডের আবেদনে ব্যবহৃত রেকর্ডপত্র ও কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করেনি। সংশ্লিষ্ট ভূমি সরেজমিন পরিদর্শন না করে অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে পরস্পর যোগসাজস, ক্ষমতার অপব্যবহার, জাল-জালিয়াতি ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধভাবে ভূমি সংস্কার বোর্ড কোডস অব ওয়ার্ডের নামে খতিয়ানভুক্ত সম্পত্তি এবং অভিযোগকারীদের সম্পত্তি যাচাই না করে রূপায়ন হাউজিং এস্টেটের নামে ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্রে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ প্রকল্পের ছাড়পত্র দেওয়া ও নির্মাণ অনুমোদনসহ যাবতীয় কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য রূপায়ন হাউজিং এস্টেটকে সহযোগিতা করেছেন উল্লেখিত আসামিরা। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ও দুদক আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, রূপায়ণ কর্তৃপক্ষ রাজউকের কাছে ৪১ দশমিক ৫৪৮ একর জমিতে পাঁচ ধাপে বিশেষ প্রকল্প অনুমোদনের আবেদন করলেও কাগজপত্র জমা দেয় মাত্র ১৬ দশমিক ৩২ একরের। তদন্তে দেখা যায়, মহানগর জরিপের খতিয়ান ও আরএস দাগ অনুযায়ী ওই জমির মধ্যে ২ দশমিক ৩৫ একর জমি সরকারের ভাওয়াল রাজ এস্টেটভুক্ত এবং ১ নম্বর খাস খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত। অভিযোগ পাওয়া যায়, সরকারি সম্পত্তির অস্তিত্ব বিলীন করে ড্যাপ নির্ধারিত ৬০ ফুট রাস্তা নিজেদের প্রকল্প এলাকার ভেতর অন্তর্ভুক্ত করেছে রূপায়ণ।
২০০৮ সালের ঢাকা মহানগর ইমারত বিধিমালা অনুযায়ী, বিশেষ প্রকল্প ছাড়পত্র পেতে আবেদনকারীকে জমির মালিকানায় নিরঙ্কুশ হতে হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও মালিকানা বিরোধের তথ্য গোপন করে ভুয়া রেকর্ডপত্রের মাধ্যমে রাজউক থেকে নকশা অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল।
এ বিষয়ে জানতে রূপায়ণ হাউজিং এস্টেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খাঁন মুকুলের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।

বেসরকারি আবাসন প্রতিষ্ঠান রূপায়ণ হাউজিং এস্টেট লিমিটেডের প্রকল্পে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া পর প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খাঁন মুকুলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদক আইনের ৫(২) ধারায় করা মামলায় মুকুল ছাড়াও তার স্ত্রী, ছেলে ও পরিবারের সদস্য এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ৪৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
রাজধানীতে ওই আবাসন প্রকল্প গড়ে তুলতে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি নিয়ে আদালতের দেওয়া স্থিতাবস্থা ‘অমান্য করে অবৈধভাবে’ ভূমি ব্যবহারের ছাড়পত্র, বিশেষ প্রকল্প এবং নকশা ও নির্মাণ অনুমোদন নিয়েছে। এ ছাড়াও প্রকল্পটিতে ‘অবৈধভাবে’ সরকারি খাস জমি ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে মামলায়।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক আফিয়া খাতুন বাদী হয়ে সমন্বিত জেলা কার্যালয়, (ঢাকা-১) এ মামলাটি দায়ের করেছেন। সংস্থাটির মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন উপস্থিত সাংবাদিকদের মামলার বিষয় নিশ্চিত করেন। এ সময় তিনি বলেন, রূপায়ণের চেয়ারম্যান মুকুল ছাড়াও রূপায়ণ হাউজিং এস্টেটের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা এবং রাজউকসহ ৪৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আসামি করা হয়েছে।
আসামির তালিকায় রয়েছেন– রূপায়ণ হাউজিং এস্টেট লিমিটেডের মালিক ও চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খাঁন মুকুল, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ও তার স্ত্রী রোকেয়া বেগম নাসিমা, ছেলে ও পরিচালক মাহির আলী খাঁন রাতুল, ভাই আলী আকবর খাঁন রতন, মুকুলের ফুফু ও পরিচালক ফরিদা বেগম এবং এস্টেট অফিসার সাজ্জাদ হুসাইন।

রাজউকের আসামিরা হলেন– রাজউকের তৎকালীন উপ-নগর পরিকল্পনাবিদ কামরুল হাসান সোহাগ ও মো. সিরাজুল ইসলাম, সদস্য (পরিকল্পনা) জিয়াউল হাসান, সদস্য (উন্নয়ন) মো. আবদুর রহমান, সদস্য (পরিকল্পনা) শেখ আব্দুল মান্নান, প্রধান প্রকৌশলী মো. এমদাদুল ইসলাম, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোবারক হোসেন ও আব্দুল্লাহ মো. জুবাইর, রেখাকার মো. আলমগীর কবীর, নকশাকার মো. এমদাদুল হক মুনসী, ফটোগ্রাফিক অ্যাসিস্ট্যান্ট এমরান হোসেন সুমন, ড্রাফটসম্যান মো. নাজমুল হক, গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী স্বর্ণেন্দু শেখর মন্ডল, পরিচালক মো. রোকন উদদৌলা, গোলাম মোস্তফা, ড. মুহাম্মদ মোশরফ হোসেন, আনন্দ কুমার বিশ্বাস, অথরাইজড অফিসার (সাময়িক বরখাস্ত) মো. মিজানুর রহমান, অথরাইজড অফিসার মো. পারভেজ খাদেম ও মো. আশরাফুল ইসলাম আহমেদ, আইন কর্মকর্তা মো. মাহফুজুল করিম, আইনজীবী ও সহকারী আইন পরামর্শক মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তার, সহকারী অথরাইজড অফিসার জান্নাতুল নাইমা, তামান্না বিনতে রহমান, এস এম এহসানুল ইমাম ও মো. খায়রুজ্জামান, প্রধান ইমারত পরিদর্শক মো. আব্দুস সালাম, আবু শামস রকিব উদ্দিন আহমেদ, মো. আব্দুল গনি ও মো. বিল্লাল হোসেন, পরিদর্শক মো. সিরাজুল ইসলাম, ইমারত পরিদর্শক মো. মাসুদুর রহমান, সহকারী পরিদর্শক (এস্টেট ও ভূমি) জ্ঞানময় চাকমা, এস্টেট পরিদর্শক তৌফিকুল ইসলাম, জরিপকারক মো. আলী আজগর এবং জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সহকারী স্থপতি মো. তাওফিকুজ্জামান।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, রাজউকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দায়িত্ব পালন না করে রূপায়ন হাউজিং লিমিটেডের আবেদনে ব্যবহৃত রেকর্ডপত্র ও কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করেনি। সংশ্লিষ্ট ভূমি সরেজমিন পরিদর্শন না করে অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে পরস্পর যোগসাজস, ক্ষমতার অপব্যবহার, জাল-জালিয়াতি ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধভাবে ভূমি সংস্কার বোর্ড কোডস অব ওয়ার্ডের নামে খতিয়ানভুক্ত সম্পত্তি এবং অভিযোগকারীদের সম্পত্তি যাচাই না করে রূপায়ন হাউজিং এস্টেটের নামে ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্রে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ প্রকল্পের ছাড়পত্র দেওয়া ও নির্মাণ অনুমোদনসহ যাবতীয় কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য রূপায়ন হাউজিং এস্টেটকে সহযোগিতা করেছেন উল্লেখিত আসামিরা। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ও দুদক আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, রূপায়ণ কর্তৃপক্ষ রাজউকের কাছে ৪১ দশমিক ৫৪৮ একর জমিতে পাঁচ ধাপে বিশেষ প্রকল্প অনুমোদনের আবেদন করলেও কাগজপত্র জমা দেয় মাত্র ১৬ দশমিক ৩২ একরের। তদন্তে দেখা যায়, মহানগর জরিপের খতিয়ান ও আরএস দাগ অনুযায়ী ওই জমির মধ্যে ২ দশমিক ৩৫ একর জমি সরকারের ভাওয়াল রাজ এস্টেটভুক্ত এবং ১ নম্বর খাস খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত। অভিযোগ পাওয়া যায়, সরকারি সম্পত্তির অস্তিত্ব বিলীন করে ড্যাপ নির্ধারিত ৬০ ফুট রাস্তা নিজেদের প্রকল্প এলাকার ভেতর অন্তর্ভুক্ত করেছে রূপায়ণ।
২০০৮ সালের ঢাকা মহানগর ইমারত বিধিমালা অনুযায়ী, বিশেষ প্রকল্প ছাড়পত্র পেতে আবেদনকারীকে জমির মালিকানায় নিরঙ্কুশ হতে হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও মালিকানা বিরোধের তথ্য গোপন করে ভুয়া রেকর্ডপত্রের মাধ্যমে রাজউক থেকে নকশা অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল।
এ বিষয়ে জানতে রূপায়ণ হাউজিং এস্টেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খাঁন মুকুলের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।

রূপায়ণ চেয়ারম্যান মুকুলসহ ৪৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা
নিজস্ব প্রতিবেদক

বেসরকারি আবাসন প্রতিষ্ঠান রূপায়ণ হাউজিং এস্টেট লিমিটেডের প্রকল্পে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া পর প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খাঁন মুকুলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদক আইনের ৫(২) ধারায় করা মামলায় মুকুল ছাড়াও তার স্ত্রী, ছেলে ও পরিবারের সদস্য এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ৪৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
রাজধানীতে ওই আবাসন প্রকল্প গড়ে তুলতে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি নিয়ে আদালতের দেওয়া স্থিতাবস্থা ‘অমান্য করে অবৈধভাবে’ ভূমি ব্যবহারের ছাড়পত্র, বিশেষ প্রকল্প এবং নকশা ও নির্মাণ অনুমোদন নিয়েছে। এ ছাড়াও প্রকল্পটিতে ‘অবৈধভাবে’ সরকারি খাস জমি ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে মামলায়।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক আফিয়া খাতুন বাদী হয়ে সমন্বিত জেলা কার্যালয়, (ঢাকা-১) এ মামলাটি দায়ের করেছেন। সংস্থাটির মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন উপস্থিত সাংবাদিকদের মামলার বিষয় নিশ্চিত করেন। এ সময় তিনি বলেন, রূপায়ণের চেয়ারম্যান মুকুল ছাড়াও রূপায়ণ হাউজিং এস্টেটের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা এবং রাজউকসহ ৪৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আসামি করা হয়েছে।
আসামির তালিকায় রয়েছেন– রূপায়ণ হাউজিং এস্টেট লিমিটেডের মালিক ও চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খাঁন মুকুল, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ও তার স্ত্রী রোকেয়া বেগম নাসিমা, ছেলে ও পরিচালক মাহির আলী খাঁন রাতুল, ভাই আলী আকবর খাঁন রতন, মুকুলের ফুফু ও পরিচালক ফরিদা বেগম এবং এস্টেট অফিসার সাজ্জাদ হুসাইন।

রাজউকের আসামিরা হলেন– রাজউকের তৎকালীন উপ-নগর পরিকল্পনাবিদ কামরুল হাসান সোহাগ ও মো. সিরাজুল ইসলাম, সদস্য (পরিকল্পনা) জিয়াউল হাসান, সদস্য (উন্নয়ন) মো. আবদুর রহমান, সদস্য (পরিকল্পনা) শেখ আব্দুল মান্নান, প্রধান প্রকৌশলী মো. এমদাদুল ইসলাম, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোবারক হোসেন ও আব্দুল্লাহ মো. জুবাইর, রেখাকার মো. আলমগীর কবীর, নকশাকার মো. এমদাদুল হক মুনসী, ফটোগ্রাফিক অ্যাসিস্ট্যান্ট এমরান হোসেন সুমন, ড্রাফটসম্যান মো. নাজমুল হক, গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী স্বর্ণেন্দু শেখর মন্ডল, পরিচালক মো. রোকন উদদৌলা, গোলাম মোস্তফা, ড. মুহাম্মদ মোশরফ হোসেন, আনন্দ কুমার বিশ্বাস, অথরাইজড অফিসার (সাময়িক বরখাস্ত) মো. মিজানুর রহমান, অথরাইজড অফিসার মো. পারভেজ খাদেম ও মো. আশরাফুল ইসলাম আহমেদ, আইন কর্মকর্তা মো. মাহফুজুল করিম, আইনজীবী ও সহকারী আইন পরামর্শক মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তার, সহকারী অথরাইজড অফিসার জান্নাতুল নাইমা, তামান্না বিনতে রহমান, এস এম এহসানুল ইমাম ও মো. খায়রুজ্জামান, প্রধান ইমারত পরিদর্শক মো. আব্দুস সালাম, আবু শামস রকিব উদ্দিন আহমেদ, মো. আব্দুল গনি ও মো. বিল্লাল হোসেন, পরিদর্শক মো. সিরাজুল ইসলাম, ইমারত পরিদর্শক মো. মাসুদুর রহমান, সহকারী পরিদর্শক (এস্টেট ও ভূমি) জ্ঞানময় চাকমা, এস্টেট পরিদর্শক তৌফিকুল ইসলাম, জরিপকারক মো. আলী আজগর এবং জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সহকারী স্থপতি মো. তাওফিকুজ্জামান।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, রাজউকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দায়িত্ব পালন না করে রূপায়ন হাউজিং লিমিটেডের আবেদনে ব্যবহৃত রেকর্ডপত্র ও কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করেনি। সংশ্লিষ্ট ভূমি সরেজমিন পরিদর্শন না করে অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে পরস্পর যোগসাজস, ক্ষমতার অপব্যবহার, জাল-জালিয়াতি ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধভাবে ভূমি সংস্কার বোর্ড কোডস অব ওয়ার্ডের নামে খতিয়ানভুক্ত সম্পত্তি এবং অভিযোগকারীদের সম্পত্তি যাচাই না করে রূপায়ন হাউজিং এস্টেটের নামে ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্রে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ প্রকল্পের ছাড়পত্র দেওয়া ও নির্মাণ অনুমোদনসহ যাবতীয় কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য রূপায়ন হাউজিং এস্টেটকে সহযোগিতা করেছেন উল্লেখিত আসামিরা। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ও দুদক আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, রূপায়ণ কর্তৃপক্ষ রাজউকের কাছে ৪১ দশমিক ৫৪৮ একর জমিতে পাঁচ ধাপে বিশেষ প্রকল্প অনুমোদনের আবেদন করলেও কাগজপত্র জমা দেয় মাত্র ১৬ দশমিক ৩২ একরের। তদন্তে দেখা যায়, মহানগর জরিপের খতিয়ান ও আরএস দাগ অনুযায়ী ওই জমির মধ্যে ২ দশমিক ৩৫ একর জমি সরকারের ভাওয়াল রাজ এস্টেটভুক্ত এবং ১ নম্বর খাস খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত। অভিযোগ পাওয়া যায়, সরকারি সম্পত্তির অস্তিত্ব বিলীন করে ড্যাপ নির্ধারিত ৬০ ফুট রাস্তা নিজেদের প্রকল্প এলাকার ভেতর অন্তর্ভুক্ত করেছে রূপায়ণ।
২০০৮ সালের ঢাকা মহানগর ইমারত বিধিমালা অনুযায়ী, বিশেষ প্রকল্প ছাড়পত্র পেতে আবেদনকারীকে জমির মালিকানায় নিরঙ্কুশ হতে হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও মালিকানা বিরোধের তথ্য গোপন করে ভুয়া রেকর্ডপত্রের মাধ্যমে রাজউক থেকে নকশা অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল।
এ বিষয়ে জানতে রূপায়ণ হাউজিং এস্টেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খাঁন মুকুলের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।




