শিরোনাম

এলপিজি সংকট কাটাতে সরকারের উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
এলপিজি সংকট কাটাতে সরকারের উদ্যোগ
ছবি: সংগৃহীত

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) থেকে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডার সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড। এ উপলক্ষে বুধবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সারা দেশের পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের উদ্দেশে একটি নোটিশ জারি করেছে সংগঠনটি।

এতে বলা হয়, সব কোম্পানির প্লান্ট থেকে এলপিজি উত্তোলনও বন্ধ থাকবে।

এর আগে একই দিন সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের দাবি তুলে ধরে এলপিজি ব্যবসায়ী সমিতি। সংবাদ সম্মেলনে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবি আদায় না হলে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দেন সংগঠনটির নেতারা।

সারাদেশে সিলিন্ডার বিক্রি ও সরবরাহ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ভোক্তারা।

খুচরা পর্যায়ে দোকানগুলোতে সিলিন্ডার মিলছে না। হোটেলগুলো বিকল্প ব্যবস্থায় রান্না চালিয়ে গেলেও বহু বাসাবাড়িতে চুলা জ্বলছে না। এতে ভোক্তারা কার্যত জিম্মি অবস্থায় পড়েছেন।

এই সংকট কাটাতে ইতোমদ্যেই বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। এলপি গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমদানি ও উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট এবং আগাম কর প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) পাঠানো এক চিঠিতে এই সুপারিশ করা হয়।

চিঠিতে এলপি গ্যাস আমদানিতে বিদ্যমান ১৫ শতাংশ ভ্যাট কমিয়ে ১০ শতাংশের নিচে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে আরোপিত সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট, ব্যবসায়ী পর্যায়ের ভ্যাট এবং আগাম কর পুরোপুরি প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে মন্ত্রণালয়।

বাংলাদেশ ব্যাংককে ঋণপ্রাপ্তির আবেদন ও এলসি খোলার প্রক্রিয়া দ্রুত নিষ্পত্তির অনুরোধ করে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

আমদানির সিলিং বৃদ্ধির জন্য ওমেরা, মেঘনা, যমুনা, ইউনাইটেড আই গ্যাস ও ডেল্টা থেকে পাওয়া আবেদনের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তি দিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে বিইআরসিকে অনুরোধ করা হয়েছে।

জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে যেকোনো কৃত্রিম সংকট তৈরির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে মন্ত্রিসভা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করা হয়েছে।

অপারেটরদের আমদানি করা এলপিজির প্রকৃত চিত্র জানার জন্য চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরসংলগ্ন স্টোরেজ পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দিতে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের অফিস আদেশ প্রদান করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো, যাতে এলপিজির আমদানি ও ডিস্ট্রিবিউটর, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতা পর্যায়ে সাপ্লাই চেইনের প্রকৃত অবস্থা জানা যায়।

/জেএইচ/