শিরোনাম

সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন হারাল দুই শেয়াবাজার

  • ডিএসই সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা, সিএসই ৪০ কোটি টাকা
জ্যেষ্ঠ-প্রতিবেদক
সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন হারাল দুই শেয়াবাজার

সূচকের পতনের মধ্য দিয়ে চলতি সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে দেশের পুঁজিবাজারে। এতে সপ্তাহ ব্যবধানে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন কমেছে ১০ হাজার ৫০২ কোটি টাকা। অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সপ্তাহ ব্যবধানে লেনদেন কমেছে ৪০ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।

পুঁজিবাজারের সাপ্তাহিক হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

ডিএসই

সপ্তাহ ব্যবধানে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ১ দশমিক ৫৩ শতাংশ বা ১০ হাজার ৫০২ কোটি টাকা। চলতি সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৭৫ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা। এর আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে এই মূলধন ছিল ৬ লাখ ৮৬ হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা। চলতি সপ্তাহে কমেছে ডিএসইর সব কয়টি সূচকও। প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স কমেছে ১৩২ দশমিক ৪২ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

এছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক কমেছে ৪৩ দশমিক ৪৩ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ২৮ শতাংশ। আর ডিএসইএস সূচক কমেছে ৩৩ দশমিক ৬৬ পয়েন্ট বা ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ।

সূচকের পতনের পাশাপাশি ডিএসইতে কমেছে লেনদেনের পরিমাণও। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৫৪৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। এর আগের সপ্তাহে মোট লেনদেন হয়েছিল ২ হাজার ৮৮ কোটি টাকা। এক সপ্তাহে লেনদেন কমেছে ৫৩৮ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। আর প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন কমেছে ৩০ কোটি ২২ লাখ টাকা বা ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ। চলতি সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৩৮৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। এর আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছিল ৪১৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে ৩৮৯টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ৩২টি কোম্পানির, কমেছে ৩৩৫টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২২টি কোম্পানির শেয়ারের দাম।

সিএসই

এদিকে সপ্তাহ ব্যবধানে দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) প্রধান সূচক সিএএসপিআই ও সিএসসিএক্স যথাক্রমে ১ দশমিক ৭৮ শতাংশ ও ১ দশমিক ৭২ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১৩৬২৪ দশমিক ৩৬ পয়েন্টে ও ৮৪০৩ দশমিক ৬৪ পয়েন্টে।

এছাড়া সিএসই-৫০ সূচক ১ দশমিক ৭৭ শতাংশ ও সিএসআই সূচক ২ দশমিক ০২ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১০৪৬ দশমিক ৩২ পয়েন্টে ও ৮৫৮ দশমিক ১৮ পয়েন্টে। আর সিএসই-৩০ সূচক কমেছে ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। সূচকটি অবস্থান করছে ১২০৯০ দশমিক ৫৭ পয়েন্টে।

চলতি সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ২৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা, যা এর আগের সপ্তাহে ছিল ৬৮ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। সপ্তাহ ব্যবধানে লেনদেন কমেছে ৪০ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে ২৫০টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ৭১টির, কমেছে ১৫৯টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২০টির কোম্পানির শেয়ার দর।

সাপ্তাহিক দর বৃদ্ধিতে শীর্ষ ১০ কোম্পানি

বিদায়ী সপ্তাহে (১৪-১৮ ডিসেম্বর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকার প্রথম স্থানে উঠে এসেছে বঙ্গজ লিমিটেড। সাপ্তাহিক বাজার তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ১৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ। আগের সপ্তাহে ক্লোজিং দর ছিল ১১৩ টাকা ৫০ পয়সা, যা বিদায়ীয় সপ্তাহে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১৩০ টাকা ৫০ পয়সায়।

দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রিলায়েন্স ওয়ান মিউচুয়াল ফান্ড। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ১৪ দশমিক ৭১ শতাংশ। আগের সপ্তাহে ক্লোজিং দর ছিল ১৩ টাকা ৬০ পয়সা, যা বেড়ে হয়েছে ১৫ টাকা ৬০ পয়সা। তৃতীয় স্থানে রয়েছে সিএপিএম আইবিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড। কোম্পানিটির শেয়ারদর সপ্তাহজুড়ে বেড়েছে ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশ। আগের সপ্তাহে দর ছিল ৬ টাকা ৮০ পয়সা, যা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৭ টাকা ৭০ পয়সায়।

চতুর্থ স্থানে রয়েছে বিডি ওয়েল্ডিং। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারদর বেড়েছে ৮.২০ শতাংশ। আগের সপ্তাহে শেয়ারের দাম ছিল ১২ টাকা ২০ পয়সা, যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ টাকা ২০ পয়সায়। পঞ্চম স্থানে রয়েছে ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স। কোম্পানিটির শেয়ার সপ্তাহজুড়ে বেড়েছে ৮.০০ শতাংশ। আগের সপ্তাহে দর ছিল ৩২ টাকা ৫০ পয়সা, যা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৩৫ টাকা ১০ পয়সা।

পরবর্তী অবস্থানে থাকা কোম্পানিগুলোর দর বৃদ্ধি পেয়েছে—ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের ৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ, প্রোগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৭ দশমিক ৬২ শতাংশ, ওয়াটা কেমিক্যালের ৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ, ভিএফএস থ্রেড ডাইংয়ের ৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং সায়হাম কটনের ৪ দশমিক ৯৭ শতাংশ।

দর পতনের শীর্ষ ১০ কোম্পানি

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দর পতনের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে শ্যামপুর সুগার মিলস। সাপ্তাহিক বাজার তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিটির শেয়ারদর কমেছে ২০ দশমিক ৭৯ শতাংশ। আগের সপ্তাহে ক্লোজিং দর ছিল ২০২ টাকা ৫০ পয়সা, যা কমে দাঁড়িয়েছে ১৬০ টাকা ৪০ পয়সায়।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরপতন হয়েছে জিলবাংলা সুগার মিলসের। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারদর সপ্তাহজুড়ে কমেছে ১৭.৩৭ শতাংশ। আগের সপ্তাহে শেয়ারের দর ছিল ১৭১ টাকা ৬০ পয়সা, যা কমে দাঁড়িয়েছে ১৪১ টাকা ৮০ পয়সায়। তৃতীয় স্থানে রয়েছে এএফসি এগ্রো বায়োটেক। কোম্পানিটির শেয়ারদর কমেছে ১৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ। আগের সপ্তাহে দর ছিল ৫ টাকা ৯০ পয়সা, যা নেমে এসেছে ৪ টাকা ৯০ পয়সায়।

চতুর্থ স্থানে রয়েছে খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ। এর দর কমেছে ১৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ। আগের সপ্তাহের ক্লোজিং দর ৫৬ টাকা ৫০ পয়সা, যা নেমে দাঁড়িয়েছে ৪৭ টাকা ১০ পয়সায়। পঞ্চম স্থানে থাকা ফার্স্ট ফাইন্যান্স-এর শেয়ারদর সপ্তাহজুড়ে কমেছে ১৬ দশমিক ০৫ শতাংশ। আগের সপ্তাহে দর ছিল ৮১ পয়সা, যা কমে হয়েছে ৬৮ পয়সা।

পরবর্তী অবস্থানে থাকা কোম্পানিগুলোর দর কমেছে— আরএসআরএম স্টিলের ১৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ, প্রিমিয়ার লিজিংয়ের ১৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ, নর্দান ইন্স্যুরেন্সের ১৪ দশমিক ৪১ শতাংশ, খুলনা প্রিন্টিংয়ের ১৪ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং সিভিওপেট্রো কেমিক্যালের ১৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ।