শিরোনাম

২০২৫ সাল

বছরজুড়ে ইবি ক্যাম্পাসে যেভাবে ভূমিকা রেখেছে ছাত্র সংগঠনগুলো

ইবি সংবাদদাতা
বছরজুড়ে ইবি ক্যাম্পাসে যেভাবে ভূমিকা রেখেছে ছাত্র সংগঠনগুলো
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

বিগত এক বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে বিভিন্ন বিষয়ে সংস্কারের দাবিসহ নানামুখী কার্যক্রম চালিয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার বিচার, কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়ক দ্রুত সংস্কার, রেল যোগাযোগ চালু, গুম হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধানসহ নানা দাবি জানিয়েছে শাখা ছাত্রদল ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এছাড়া সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার বিচার দাবিসহ শিক্ষা, সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া, সেবামূলক ও সামাজিক শিক্ষার্থীবান্ধব নানা কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে শাখা ছাত্রশিবির।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, শাখা ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ভর্তি পরীক্ষার সময় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের জন্য পানি, কলম, ফুল, প্রাথমিক চিকিৎসা সামগ্রী প্রদান ও অভিভাবকদের থাকার ব্যবস্থা করে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝাল চত্বরে শিক্ষার্থীদের চলাচলের সুবিধার জন্য জলাবদ্ধ জায়গা ভরাটের ব্যবস্থা করে শাখা ছাত্রদল। বিসিএস পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশাসনের সহায়তায় ফ্রী বাসের ব্যবস্থা করার ক্ষেত্রেও ভূমিকা পালন করে ছাত্র সংগঠনগুলো।

এছাড়া, ৫০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে লক্ষাধিক টাকার বৃত্তি প্রদান, হাফেজে কোরআন ও এসএসসি, এইচএসসি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, ক্রিকেট, ফুটবল ও ভলিবল টুর্নামেন্ট, হল সংলগ্ন রাস্তা সংস্কার, ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রাম ও সাংবাদিক-অমুসলিম শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে শাখা ছাত্রশিবির।

বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি, অসহায় শিক্ষার্থীদের ভর্তির ফি দিয়ে সহায়তা, জাতীয় দিবসসমূহে হলের খাবারের টোকেনের ক্ষেত্রে আবাসিক-অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য সমমূল্যের ব্যবস্থা, রমজান মাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য ইফতার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনসহ সেশনজট নিরসনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে শাখা ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

এছাড়া সনদ উত্তোলন জটিলতা নিরসনে হলের খাবারের মান বৃদ্ধি ও চিকিৎসা কেন্দ্রে আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহের জন্য স্মারকলিপি প্রদানসহ নানাবিধ কর্মকাণ্ড চালান ছাত্র সংগঠনগুলো।

এ বিষয়ে আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী নুর হোসাইন আল রিফাত বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের পরে ইবির রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনগুলো প্রতিযোগিতামূলক রাজনীতি করছে। আমাদের প্রত্যাশা এমনই ছিল। ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি হবে গঠনতান্ত্রিক ও প্রতিযোগিতামূলক। এখন অবধি তেমনটিই পরিলক্ষিত হয়েছে। আগামী দিনে ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি করতে হলে শিক্ষার্থীবান্ধব ও প্রতিযোগিতামূলক হতে হবে। পূর্বে যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ছিল, আবারও যদি তেমনটি পরিলক্ষিত হয় তাহলে শিক্ষার্থীরা তা প্রত্যাখ্যান করবে। সুষ্ঠু ও সুন্দর ছাত্ররাজনীতিই আমরা কামনা করি।

ইবি শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মাসুদ রুমি মিথুন বলেন,‘ইবি ছাত্রদল সবসময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি আদায়ে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। বিগত সময়ে শিক্ষার উন্নয়ন ও সেবামূলক যে কোনো ন্যায্য দাবির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে কাজ করেছে ছাত্রদল। আগামীদিনেও তা অব্যাহত রাখবে। ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করা, তাদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটানো এবং একটি সু্ষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি করা ইবি ছাত্রদলের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।’

এ বিষয়ে ইবি শাখা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক এসএম সুইট বলেন, জুলাইয়ে আমাদের আন্দোলনই ছিল বৈষম্যের বিরুদ্ধে। বৈষম্যহীন একটি সুষ্ঠু ক্যাম্পাস গড়তে আমরা সবসময় চেষ্টা করেছি। তারই ধারাবাহিকতায় অধিকার নিশ্চিত, পড়াশোনার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে আমরা সরব ভূমিকা পালন করেছি। আগামী দিনেও আমাদের এসব কার্যক্রম অব্যাহত থাকব।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাহমুদুল হাসান বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ছাত্রশিবির শিক্ষার্থীবান্ধব কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বিশেষ করে ছাত্রকল্যাণমূলক যতগুলো কাজ করা দরকার এবং ছাত্রসংগঠন হিসেবে যেভাবে রুল প্লে করা দরকার– আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি।

/এসআর/