শিরোনাম

জীবনযাপন /শ্বাসচর্চা: চাপ কমানোর সহজ উপায়

সিটিজেন-ডেস্ক­
শ্বাসচর্চা: চাপ কমানোর সহজ উপায়
ছবি: সংগৃহীত

চারপাশের চাপ, দুশ্চিন্তা আর অস্থিরতায় কখনো কি মনে হয়– দম যেন বন্ধ হয়ে আসছে? ঠিক তখন একটি গভীর শ্বাস অনেক সময় এনে দেয় অদ্ভুত স্বস্তি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতনভাবে শ্বাস নেওয়ার এই ছোট অভ্যাস শুধু সাময়িক আরামই নয়, ঘুমের মান উন্নত করা থেকে শুরু করে মানসিক চাপ কমানো এবং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ানো পর্যন্ত নানা ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

শ্বাসচর্চা আসলে কী

শ্বাসচর্চা মানে ইচ্ছাকৃতভাবে শ্বাস নেওয়ার ধরণ নিয়ন্ত্রণ করা। এর মাধ্যমে স্নায়ুতন্ত্রের ওপর প্রভাব পড়ে এবং শরীর ধীরে ধীরে চাপের অবস্থা থেকে শান্ত অবস্থায় ফিরে আসে।

মার্কিন স্নায়ুতন্ত্র-বিষয়ক শিক্ষাবিদ জেসিকা ম্যাগুইর রিয়েলসিম্পল ডটকমকে বলেন, শ্বাসচর্চাকে অনেকেই ধ্যানের সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন, কিন্তু এর পরিসর আরও বড়। ধীরে ও গভীরভাবে শ্বাস নেওয়ার মতো কোমল পদ্ধতি শরীরকে শান্ত করে, আবার কিছু তুলনামূলক সক্রিয় পদ্ধতি জমে থাকা আবেগ ও মানসিক ভার মুক্ত করতে সাহায্য করে।

ভুল শ্বাসের অভ্যাসের ক্ষতি

যুক্তরাজ্যের শ্বাসচর্চা থেরাপিস্ট এলিসা পাওয়েল বলেন, মানুষ জন্মগতভাবে শ্বাস নিতে জানে, কিন্তু সঠিকভাবে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস সবার থাকে না। সময়ের সঙ্গে ভঙ্গি, দ্রুত শ্বাস, মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার মতো অভ্যাস শরীরে অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করে। দিনে প্রায় ২০ হাজার বার এই ভুল শ্বাসের পুনরাবৃত্তি দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ও মানসিক সমস্যার জন্ম দিতে পারে।

মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমায়

নিয়মিত শ্বাসচর্চা স্নায়ুতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশকে সক্রিয় করে, যা মস্তিষ্ক ও শরীরের যোগাযোগ উন্নত করে। ফলে মানুষ চাপের পরিস্থিতিতে বেশি স্থির থাকতে পারে, উদ্বেগ কমে এবং মানসিক সহনশীলতা বাড়ে।

ঘুমের মান বাড়ায়

অনিদ্রা বা হালকা ঘুমের সমস্যায় শ্বাসচর্চা খুব কার্যকর। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে কয়েক মিনিট ধীরে ও গভীর শ্বাস শরীরকে বিশ্রামের সংকেত দেয়, ঘুম গভীর ও প্রশান্ত হয়।

মস্তিষ্কের নমনীয়তা ও মনোযোগ বৃদ্ধি

দীর্ঘদিন নিয়মিত শ্বাসচর্চা করলে মস্তিষ্কে এমন স্নায়ুপথ শক্তিশালী হয়, যা শান্ত ও স্থির মানসিক অবস্থাকে সহজ করে। একই সঙ্গে পুরোনো চাপের অভ্যাস দুর্বল হয়ে যায়। এতে মনোযোগ বাড়ে, চিন্তা পরিষ্কার হয়, দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা ও ক্লান্তি কমে।

শক্তি ও শারীরিক সহনশীলতা বাড়ে

সঠিক শ্বাস শরীরের কোষে শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে, রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখে এবং দৈনন্দিন কাজে ক্লান্তি কম অনুভূত হয়। ফলে এক ধরনের স্থায়ী সতেজতা তৈরি হয়।

bigStoryContent

যেভাবে শুরু করবেন

শুরুটা খুব সহজ।প্রতিদিন কয়েক মিনিট নিজের স্বাভাবিক শ্বাসের দিকে মনোযোগ দিন। সন্ধ্যায় বা বিশ্রামের সময় শ্বাসের গতি লক্ষ করুন। দুশ্চিন্তায় শ্বাস সাধারণত দ্রুত হয়, আর হতাশায় অনেক সময় অগভীর হয়ে পড়ে। লক্ষ্য হবে ধীরে ও গভীরভাবে নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়া।

সহজ অনুশীলন

আরাম করে বসে মেরুদণ্ড সোজা রাখুন। এক হাত বুকে, অন্য হাত পেটে। নাক দিয়ে ধীরে শ্বাস নিন– পেট যেন বেশি ওঠে, বুক নয়। কয়েক সেকেন্ড ধরে রেখে ধীরে ছাড়ুন। দিনে ১০–১৫ মিনিট, কয়েকবার এই চর্চা করলেই পরিবর্তন টের পাওয়া যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শ্বাসচর্চার প্রকৃত উপকার পেতে হলে নিয়মিত অনুশীলনের বিকল্প নেই। ব্যস্ত দিনের মাঝেও কয়েক মিনিটের এই অভ্যাস মানসিক বিরতি ও প্রশান্তি এনে দিতে পারে।

একটি গভীর শ্বাস– শুনতে ছোট মনে হলেও, এর ভেতর লুকিয়ে আছে শরীর ও মনের সুস্থতার বড় সমাধান।