শিরোনাম

ইউরোপে বদলে যাচ্ছে গোল্ডেন ভিসার নিয়ম

সিটিজেন-ডেস্ক­
ইউরোপে বদলে যাচ্ছে গোল্ডেন ভিসার নিয়ম
২০২৫ সালে ইউরোপের গোল্ডেন ভিসা বাজারে বড় ধাক্কা আসে স্পেন থেকে। ছবি: সংগৃহীত

বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশ গোল্ডেন ভিসা প্রদান করছে। এই ভিসা বিশ্বের ধনী ও উচ্চ-মধ্যবিত্তদের কাছে কেবল একটি অতিরিক্ত ভিসা নয়; এটি এখন নিরাপত্তা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং উন্নত জীবনযাপনের একধরনের নিশ্চয়তার প্রতীক। ২০২৫ সাল এই বাস্তবতাকে আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে। কোথাও কর্মসূচি স্থগিত, কোথাও আইন কঠোর, আবার কোথাও নতুন সুযোগের দরজা খুলে দেওয়া হয়েছে। ফলশ্রুতিতে গোল্ডেন ভিসার নিয়মে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।

এই পরিবর্তনের বড় প্রভাব পড়তে যাচ্ছে চলতি বছরেই। এ বছর কোন দেশ এগিয়ে থাকবে, তা নির্ভর করবে গত বছরের এই সিদ্ধান্তগুলোর ওপরই। তাই বলা যায়, ২০২৫ ছিল প্রস্তুতির বছর। আর ২০২৬ হতে যাচ্ছে গোল্ডেন ভিসা দুনিয়ার নতুন অধ্যায়।

স্পেন

২০২৫ সালে ইউরোপের গোল্ডেন ভিসা বাজারে বড় ধাক্কা আসে স্পেন থেকে। দেশটি গোল্ডেন ভিসা বন্ধ করে দিলে বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি চলে যায় প্রধানত পর্তুগাল ও গ্রিসের দিকে। পর্তুগাল বহু বছর ধরে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছিল। উষ্ণ আবহাওয়া, ইউরোপজুড়ে সহজ ভ্রমণের সুবিধা, শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন এবং তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল অর্থনীতি—এসব কারণে দেশটি বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বপ্নের মতো গন্তব্য। ২০২৫ সালে ‘দ্য ইকোনমিস্ট’ পর্তুগালকে ‘ইকোনমি অব দ্য ইয়ার’ ঘোষণা করে।

কিন্তু অক্টোবরের এক সিদ্ধান্ত অনেককে বিচলিত করে তোলে। নাগরিকত্বের জন্য আবাসনকাল ৫ বছর থেকে বৃদ্ধি করে ১০ বছর করা হয়। সঙ্গে আসে জটিল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। ফলে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সময় লাগতে পারে এক দশকেরও বেশি। অনেক বিনিয়োগকারী তখন বিকল্প পথ খোঁজার চিন্তা শুরু করেন।

গ্রিস

তুলনামূলক কম খরচ আর দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত, শত শত দ্বীপ, বছরের বেশির ভাগ সময় রোদের কারণে— অনেকের কাছে গ্রিস যেন ভূমধ্যসাগরীয় স্বপ্নের ঠিকানা। গোল্ডেন ভিসাধারীদের জন্য গ্রিসে নাগরিকত্বের পথও অনেক দেশের চেয়ে সহজ। সেখানে ৭ বছর বসবাস করলেই নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা যায়।

ইতালি

একই সময়ে ইতালি দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী অনেকের নজর এখন দেশটির দিকে। এর পেছনে প্রধান কারণ হলো যুক্তরাজ্যের কর ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন। ২০১৮ সালে ইতালিতে গোল্ডেন ভিসার আবেদন মাত্র ৮টি ছিল, কিন্তু ২০২৫ সালের শেষে সেই সংখ্যা প্রায় ৬৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে গেছে।

মাল্টা

২০২৫ সালের মে মাসে ইউরোপীয় আদালত মাল্টার গোল্ডেন পাসপোর্ট কর্মসূচিকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে। কারণ, সরাসরি টাকার বিনিময়ে নাগরিকত্ব ইউরোপের চোখে গ্রহণযোগ্য নয়। এই রায়ের প্রভাবে নতুন করে সমালোচনায় পড়ে গোটা গোল্ডেন ভিসা ধারণা। সমালোচকদের অভিযোগ, এতে ধনী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বৈষম্য বাড়ে, নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি তৈরি হয়।

নিউজিল্যান্ড

ইউরোপে যখন অনিশ্চয়তার বিরাজ করছে, তখন প্রশান্ত মহাসাগরের এক কোণের দেশ নিউজিল্যান্ড বড় চমক দেখাচ্ছে। দেশটি ২০২৫ সালে অভিবাসন নীতিতে বড় পরিবর্তন আনে। নিউজিল্যান্ডের গোল্ডেন ভিসা প্রাপ্তির জন্য ইংরেজি ভাষার শর্ত তুলে দিয়েছে এবং চালু করেছে নতুন বিনিয়োগ প্যাকেজ। এমনকি ডিজিটাল নোম্যাডদের জন্যও আলাদা ভিসা দেওয়া শুরু হয়েছে, যেখানে মাসিক আয়ের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। বড় খবর হলো, এ বছর থেকে গোল্ডেন ভিসাধারীরা পুনরায় নিউজিল্যান্ডে বাড়ি কিনতে পারবেন। নিরাপদ সমাজ, উন্নত জীবনমান এবং কর সুবিধার কারণে দেশটি এখন অনেক মার্কিন নাগরিকের কাছে আকর্ষণীয় বিকল্প।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গোল্ডেন ভিসা কর্মসূচি বন্ধ হয়ে যাবে এমনটা ভাবার কারণ নেই। এটি সরকারের কাছে অল্পসংখ্যক মানুষ থেকে বড় অঙ্কের রাজস্ব আয়ের একটি সহজ উপায়। অন্যদিকে, ধনী নাগরিকদের মধ্যেও গোল্ডেন ভিসা নেওয়ার আগ্রহ বেড়ে চলেছে। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, স্বাস্থ্যসেবার খরচ বৃদ্ধি, অবসরযাপন ও শান্ত জীবন—সব মিলিয়ে অনেকে এখন দ্বিতীয় দেশের কথা ভাবছেন।

২০২৫ সালে এই প্রবণতা বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ বছর এটি আরও ব্যাপক আকার নেবে। ইউরোপের মধ্যে গ্রিস ও ইতালি, আর ইউরোপের বাইরে নিউজিল্যান্ড—এই গন্তব্যগুলো এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

গোল্ডেন ভিসা এখন শুধুই বিলাসিতা নয়; এটি ভবিষ্যতের নিরাপত্তা এবং উন্নত জীবনমান বেছে নেওয়ার একটি কৌশল হয়ে উঠেছে।

সূত্র: ফোর্বস

/জেএইচ/