শিরোনাম

র‍্যাপার 'বালেন শাহ' কি নেপালের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী

  • র‍্যাপার থেকে রাজনীতির মঞ্চে ‘বালেন’
  • নেপালের ক্ষমতার লড়াইয়ে নতুন জোটের চ্যালেঞ্জ
সিটিজেন-ডেস্ক­
র‍্যাপার 'বালেন শাহ' কি নেপালের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী
সাবেক র‍্যাপার বালেন্দ্র শাহ। ছবি: সংগৃহীত

নেপালে আগামী মার্চে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশটির রাজনীতিতে নতুন মোড় নিয়েছে। রাজধানী কাঠমান্ডুর জনপ্রিয় মেয়র ও সাবেক র‍্যাপার বালেন্দ্র শাহ– যিনি ‘বালেন’ নামে পরিচিত এবং সাবেক টেলিভিশন উপস্থাপক ও রাজনীতিবিদ রবি লামিচানে একটি জোট গঠন করেছেন। এই জোট নেপালের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) বালেন্দ্র শাহ রবি লামিচানের নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি)–তে যোগ দেন। দলটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জোটচুক্তি অনুযায়ী আগামী ৫ মার্চের নির্বাচনে আরএসপি জয়ী হলে ৩৫ বছর বয়সী বালেন্দ্র শাহ হবেন দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং ৪৮ বছর বয়সী রবি লামিচানে দলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

তরুণদের রাজনীতিতে টানার অঙ্গীকার

দুই নেতা আগামী নির্বাচনে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন ও সংস্কারমূলক রাজনীতিকে প্রধান ইস্যু হিসেবে সামনে আনছেন। বিশেষ করে গত সেপ্টেম্বরের গণআন্দোলনের দাবিগুলো বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারা।

বালেন্দ্র শাহ রবি লামিচানের নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি)–তে যোগ দেন। ছবি: সংগৃহীত

সেপ্টেম্বরের ওই আন্দোলনে তরুণদের নেতৃত্বে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। তাতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলিকে পদত্যাগ করতে হয়। বিক্ষোভ ও সংঘর্ষে নিহত হন অন্তত ৭৭ জন। এর পর সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কারকির নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার।

‘জেন-জি’ প্রজন্মের ভরসা বালেন

রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিপিন অধিকারী বলেন, 'তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে বালেনকে দলে আনা আরএসপির কৌশলগত ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। ঐতিহ্যবাহী দলগুলো এখন তরুণ ভোটার হারানোর শঙ্কায় চাপে রয়েছে।'

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩ কোটি জনসংখ্যার নেপালে এবার ভোটার প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ। সেপ্টেম্বরের আন্দোলনের পর ভোটার তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছেন প্রায় ১০ লাখ মানুষ, যাদের বড় অংশই তরুণ। এই তরুণদের কাছে বালেন এক ধরনের অনানুষ্ঠানিক নেতা হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছেন।

যদিও আন্দোলনের সময় সরাসরি মাঠে কম উপস্থিত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সমালোচকেরা বলেন, তিনি মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন। তবুও কাঠমান্ডুর মেয়র হিসেবে তার জনপ্রিয়তা এবং একজন র‍্যাপার হিসেবে সাংস্কৃতিক পরিচিতি তাঁকে সাধারণ মানুষের কাছে আলাদা গ্রহণযোগ্যতা দিয়েছে।

পুরোনো রাজনীতির সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ

গত তিন দশক ধরে নেপালের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল কে পি শর্মা ওলির নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট পার্টি (ইউএমএল) ও নেপালি কংগ্রেস। তবে বালেন্দ্র শাহ ও রবি লামিচানের এই জোট এবার সেই শক্ত ভিত্তিতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।

রবি লামিচানে দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত হলেও বর্তমানে তিনি সমবায় তহবিল অপব্যবহারের একটি মামলায় জামিনে রয়েছেন।

নেপালি কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রকাশ শরণ মাহাত এই জোটকে তেমন গুরুত্ব দেননি। রয়টার্সকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বালেন ও লামিচানেকে ‘বিতর্কিত নেতা’ আখ্যা দিয়ে বলেন, শেষ পর্যন্ত ভোটাররা অভিজ্ঞ ও পুরোনো দলগুলোকেই বেছে নেবে।

সূত্র: রয়টার্স