শিরোনাম

উত্তাল ইরান, বন্ধ ইন্টারনেট সংযোগ

সিটিজেন-ডেস্ক
উত্তাল ইরান, বন্ধ ইন্টারনেট সংযোগ
বিক্ষোভে উত্তাল ইরানে প্রায় পুরোপুরি ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে কর্তৃপক্ষ। ছবি: সংগৃহীত

কয়েকদিন ধরে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে ইরানে চলমান বিক্ষোভ সহিংস আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। দেশটিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করায় প্রায় সম্পূর্ণভাবে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেল থেকে ইরানের ইন্টারনেট কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

একইসঙ্গে রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বর্তমান শাসনব্যবস্থার অবসান দাবিতে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তেহরানের একাধিক এলাকায় বড় ধরনের জমায়েত হয়। বিক্ষোভকারীরা ‘স্বাধীনতা, স্বাধীনতা’ ও ‘খামেনির পতন চাই’ স্লোগান দেন। নারী-পুরুষসহ সব বয়সী মানুষ এতে অংশ নেন। আগে তুলনামূলকভাবে শান্ত হিসেবে পরিচিত অভিজাত এলাকাগুলোতেও এবার আন্দোলনের বিস্তার দেখা গেছে।

তেহরানের পাশাপাশি মাশহাদ, ইসফাহান, শিরাজ, বুশেহর ও কারাজ শহর থেকেও বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে সরকারি ভবন ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগের দৃশ্য দেখা যায়। রাতের দিকে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কোথাও কোথাও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কারাজ শহরে গুলির শব্দ শোনা গেছে বলে ভিডিওতে দাবি করা হলেও, কারা গুলি ছুড়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এই উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেই ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশের ভেতরের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। মানবাধিকারকর্মীদের অভিযোগ, বিক্ষোভ দমন এবং তথ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণে রাখার উদ্দেশ্যেই কর্তৃপক্ষ ইন্টারনেট বন্ধ করেছে।

এদিকে ইরানের বিচার বিভাগ ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, বিদেশি শক্তির উসকানিতেই এই আন্দোলন চলছে। তবে বিরোধী গোষ্ঠীগুলো সরকারের এই অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, সাম্প্রতিক সহিংসতায় অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। কয়েকটি সংগঠন নিহতের সংখ্যা ৪০ ছাড়িয়েছে বলে দাবি করছে। বহু মানুষ আহত হয়েছেন। গ্রেফতার করা হয়েছে অনেককে।

বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক সংকট, মূল্যস্ফীতি ও রাজনৈতিক দমননীতি এই বিক্ষোভের পেছনে প্রধান কারণ। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে ইরানে আরও বড় অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস

/জেএইচ/