যে কারণে ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত বাতিল করেছেন ট্রাম্প
যে কারণে ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত বাতিল করেছেন ট্রাম্প
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘উপসাগরীয় কোনো দেশ বা ইসরাইল তাকে হামলা থেকে বিরত রেখেছে– এমন মন্তব্য সঠিক নয়; বরং


নিহতদের মধ্যে যারা বিক্ষোভে সন্ত্রাস ও দাঙ্গাবাজি করেছে, সরকারি ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে– তাদেরকে ‘সন্ত্রাসী-দাঙ্গাবাজ’ হিসেবে ক্যাটাগরিভুক্ত করা হয়েছে।

রবিবার অল্প সময়ের জন্য ইরানে আংশিকভাবে ইন্টারনেট সংযোগ চালু করা হলেও দেশটির বেশিরভাগ এলাকায় এখনও পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকে ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকে ইরানের রাজধানী তেহরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে এই বিক্ষোভ দেশটির বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। এই বিক্ষোভে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।

ইরানে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ-সহিংসতায় অন্তত ৫ হাজার মানুষের প্রাণ গেছে। নিহতদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রায় পাঁচশ সদস্য রয়েছেন। দেশটির কর্তৃপক্ষ মৃতের এ সংখ্যা যাছাই করেছে বলে সেখানকার এক কর্মকর্তা রবিবার (১৮ জানুয়ারি) রয়টার্সকে জানিয়েছেন।
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘উপসাগরীয় কোনো দেশ বা ইসরাইল তাকে হামলা থেকে বিরত রেখেছে– এমন মন্তব্য সঠিক নয়; বরং

ইরান যাতে তার সদিচ্ছা প্রদর্শন করার সুযোগ পায়, সে জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে রাজি করাতে দীর্ঘ সময় ধরে শেষ মুহূর্তের মরিয়া কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছে এ তিন দেশ।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্রদের চাপের পর ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে গত ৮ জানুয়ারি নিজের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের মাত্র তিন দিনের মধ্যে তাকে ফাঁসির দণ্ড দেওয়া দেওয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহবান জানিয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের উসকে দিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, ‘বিক্ষোভ চালিয়ে যান, সহায়তা আসছে’।

ইরানে চলমান বিক্ষোভে প্রায় দুই হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন দেশটির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য জানান।

নির্দেশনায় যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, ‘ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকবে এমন প্রস্তুতি রাখুন। যোগাযোগের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করুন এবং স্থলপথে আর্মেনিয়া অথবা তুরস্কে চলে যান। এ মুহূর্তে ইরান ছাড়ুন।’

গত প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে ব্যাপক আকারে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে ইরানে। দিন যতো গড়াচ্ছে, আন্দোলনের মাত্রাও তত তীব্র হচ্ছে।

১৩ দিন চলা এ বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ৬২ জনে পৌঁছেছে। তবে একটি মানবাধিকার সংস্থা ৫২ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে।

তেহরান বলেছে, তারা পাল্টা জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সীমাবদ্ধতা রাখবে না এবং আগে হামলার শিকার হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে না।

একইসঙ্গে রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বর্তমান শাসনব্যবস্থার অবসান দাবিতে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে।

শহর ও অঙ্গরাজ্যের নেতৃত্ব ও জাতীয় পর্যায়ের ডেমোক্র্যাটরা এই ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
