শিরোনাম

‘নতুন গাজার’ পরিকল্পনা জানালো যুক্তরাষ্ট্র

সিটিজেন-ডেস্ক­
‘নতুন গাজার’ পরিকল্পনা জানালো যুক্তরাষ্ট্র
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে নিউ গাজা নিয়ে পরিকল্পনা উপস্থাপন করে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত

গাজা পুনর্গঠনের একটি নতুন পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘নিউ গাজা’। এই পরিকল্পনায় যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডটিকে সম্পূর্ণ নতুনভাবে পুনর্গঠনের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

নিউ গাজা নিয়ে উপস্থাপিত স্লাইডে দেখা গেছে, ভূমধ্যসাগরের তীরবর্তী এলাকায় উঁচু ভবনের সারি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। রাফাহ এলাকায় থাকবে আবাসিক প্রকল্প।

একটি মানচিত্রে দেখানো হয়েছে, গাজার প্রায় ২১ লাখ মানুষের জন্য ধাপে ধাপে নতুন আবাসিক এলাকা, কৃষিজমি ও শিল্পাঞ্চল তৈরি করা হবে।

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে আয়োজিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের এক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এসব পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

এ সময়ই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন একটি বোর্ড অব পিস গঠনের ঘোষণা দেন। এই বোর্ডের দায়িত্ব হবে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে দুই বছর ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটানো এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা পুনর্গঠনের কার্যক্রম তদারকি ও পরিচালনা করা।

অনুষ্ঠানে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘মনে-প্রাণে আমি একজন রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী এবং এটি পুরোপুরি জায়গার খেলা। সমুদ্রের ধারের এই জায়গাটি দেখুন। এই অসাধারণ ভূখণ্ডটি দেখুন। অনেক মানুষের জন্য এটি অনেক বড় কিছু হয়ে উঠতে পারে।’

ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার গত অক্টোবরে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির আলোচনায় ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি বলেন, ‘গাজায় প্রায় ৯০ হাজার টন গোলাবারুদ ব্যবহার করা হয়েছে এবং সেখানে প্রায় ছয় কোটি টন ধ্বংসস্তূপ জমে আছে, যা পরিষ্কার করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শুরুতে তারা ভাবছিলেন একটি মুক্ত এলাকা করা হবে এবং আরেকটি থাকবে হামাসের জন্য; কিন্তু পরে তারা ভাবলেন, পুরোটাই একসাথে করা হবে।’

‘হামাস নিরস্ত্রীকরণের চুক্তিতে সই করেছে এবং সেটি বাস্তবায়ন করা হবে,’ যোগ করেন কুশনার।

তিনি জানান, ‘মানুষ আমাদের কাছে প্ল্যান বি জানতে চায়? এর কোনো প্ল্যান বি নেই।’

যুক্তরাষ্ট্রের মাস্টার প্ল্যানে গাজায় উপকূলীয় পর্যটন এলাকা দেখানো হয়েছে, যেখানে প্রায় ১৮০টি উঁচু ভবন থাকবে। পাশাপাশি থাকবে আবাসিক এলাকা, শিল্প অঞ্চল, তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্র, আধুনিক কারখানা, পার্ক, কৃষিজমি ও খেলাধুলার সুবিধা।

মিসর সীমান্তের কাছে একটি নতুন সমুদ্রবন্দর ও বিমানবন্দর নির্মাণের কথাও বলা হয়েছে এতে। পাশাপাশি, সেখানে এমন একটি বিশেষ সীমান্ত পারাপারের ব্যবস্থা থাকবে, যেখানে মিসর ও ইসরায়েলের সীমান্ত মিলিত হয়েছে।

গাজা পুনর্গঠনের কাজ চারটি ধাপে করা হবে। প্রথমে রাফাহ থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে উত্তরের দিকে গাজা শহরের দিকে অগ্রসর হওয়া হবে।

মানচিত্রে মিসর ও ইসরায়েল সীমান্ত বরাবর একটি খালি ভূখণ্ড দেখানো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সেই ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনায় উল্লেখ করা নিরাপত্তা এলাকা, যেখানে গাজা পুরোপুরি নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী অবস্থান করবে।

আরেকটি স্লাইডে বলা হয়, নিউ রাফাহ এলাকায় এক লাখের বেশি স্থায়ী ঘর, ২০০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ৭৫টি চিকিৎসাকেন্দ্র তৈরি করা হবে।

যুদ্ধের আগে গাজার দক্ষিণের এই শহরে প্রায় দুই লাখ ৮০ হাজার মানুষ বসবাস করতো।

কিন্তু ইসরায়েলি হামলা ও পরিকল্পিত ধ্বংসের ফলে শহরটি প্রায় পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে এবং এখন এটি ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণাধীন।

কুশনার বলেন, ‘দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেই নিউ রাফাহ নির্মাণ শেষ করা সম্ভব।’

তিনি জানান, ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। ‘নিউ গাজা হতে পারে আশার প্রতীক, একটি নতুন গন্তব্য এবং শিল্পনির্ভর একটি এলাকা।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ওয়াশিংটনে একটি সম্মেলন হবে।’

সেখানে বিভিন্ন দেশ তাদের আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দেবে এবং বেসরকারি খাতের জন্য বড় বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরা হবে, বলছিলেন কুশনার।

গাজার ফিলিস্তিনিদের প্রতিবেশী দেশগুলোতে স্থায়ীভাবে সরিয়ে নেওয়া যেতে পারে এবং এবং যুক্তরাষ্ট্র গাজাকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এটিকে মধ্যপ্রাচ্যের একটি পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত করতে পারে ‒ গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্পের বলা সেই কথা তখন বিশ্বজুড়ে বিতর্কের জন্ম দেয়।

কুশনার আরও বলেন, ‘গাজাকে নিরস্ত্রীকরণের প্রক্রিয়া এখন থেকেই শুরু হচ্ছে। তিনি বিশেষভাবে বলেন, নিরাপত্তা না থাকলে কেউই সেখানে বিনিয়োগ করবে না।’

‘গাজার নতুন প্রযুক্তিনির্ভর ফিলিস্তিনি প্রশাসন ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা (এনসিএজি) এই নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ায় হামাসের সঙ্গে কাজ করবে, যাতে চুক্তিতে যেসব বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করে পরের ধাপে নেওয়া যায়,’ বলেন তিনি।

হামাস বরাবরই জানিয়ে এসেছে, স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া তারা অস্ত্র ত্যাগ করবে না।

তবে ট্রাম্প হামাসকে সতর্ক করে বলেন, ‘হামাসকে অস্ত্র ছাড়তেই হবে। যদি তারা তা না করে, তাহলে সেটাই হবে তাদের শেষ।’

সূত্র : বিবিসি

/জেএইচ/