শিরোনাম

বন্ডাই সৈকত হামলা

অস্ট্রেলিয়ায় বন্দুক নিয়ন্ত্রণে চালু হচ্ছে ‘বাইব্যাক’ কর্মসূচি

সিটিজেন-ডেস্ক­
অস্ট্রেলিয়ায় বন্দুক নিয়ন্ত্রণে চালু হচ্ছে ‘বাইব্যাক’ কর্মসূচি
বন্ডাই সৈকতে সন্ত্রাসী হামলার পর দেশজুড়ে বন্দুক নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার ঘোষণা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার সরকার।

অস্ট্রেলিয়ার বন্ডাই সৈকতে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর দেশজুড়ে বন্দুক নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে বন্দুক বাইব্যাক বা পুনঃক্রয় কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। ১৯৯৬ সালে পোর্ট আর্থার গণহত্যার পর এটিই অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় বন্দুক পুনঃক্রয় উদ্যোগ।

রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় ও দৃষ্টিনন্দন সমুদ্রসৈকত বন্ডাইয়ে ইহুদিদের উৎসব চলাকালে দুই বন্দুকধারীর এলোপাতাড়ি গুলিতে অন্তত ১৫ জন নিহত হন। আহত হন আরও ডজনখানেক মানুষ। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হামলাকারীরা ‘ইসলামিক স্টেট’– অনুপ্রাণিত চরমপন্থি মতাদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন।

পুলিশ জানিয়েছে, হামলাটি একজন বাবা ও তার ছেলের মাধ্যমে সংঘটিত হয়। ২৪ বছর বয়সী নাভিদ আকরামের বিরুদ্ধে ৫৯টি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৫টি হত্যার অভিযোগ এবং একটি সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ। হামলার সময় তার বাবা সাজিদ আকরাম নিহত হন।

হামলার পরদিনই ফেডারেল সরকার এবং সব রাজ্য ও অঞ্চলের নেতাদের নিয়ে গঠিত জাতীয় মন্ত্রিসভা জরুরি বৈঠক করে। সেখানে বন্দুক নিয়ন্ত্রণ আইন আরও কঠোর করার বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়।

প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বলেন, বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় ৪০ লাখের বেশি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে, যা পোর্ট আর্থার গণহত্যার সময়কার সংখ্যার চেয়েও বেশি। তিনি বলেন, এই হামলাকারীদের একজনের কাছে বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স ছিল এবং সিডনির শহরতলিতে বসবাস করেও তার কাছে ছয়টি বন্দুক ছিল। বাস্তবতা হলো, এমন পরিস্থিতিতে কারও এত বন্দুকের প্রয়োজন নেই।

অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ কমিশনার ক্রিসি ব্যারেট বলেন, বন্দুকের সংখ্যা কমাতে চাইলে পুনঃক্রয় কর্মসূচি একটি অপরিহার্য পদক্ষেপ। তার মতে, এটি সহিংসতা কমানোর কার্যকর উপায় হতে পারে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এই কর্মসূচির আওতায় অতিরিক্ত, সদ্য নিষিদ্ধ ও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র সরকার কিনে নেবে। কর্মসূচির ব্যয় রাজ্য ও অঞ্চলগুলো সমানভাবে বহন করবে। সরকার কয়েক লাখ আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহ করে ধ্বংস করার পরিকল্পনা করেছে।

জাতীয় মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ কতটি আগ্নেয়াস্ত্র রাখতে পারবেন, তার সীমা নির্ধারণ করা হবে। অনির্দিষ্টকালের জন্য দেওয়া লাইসেন্স সীমিত করা হবে। কোনো ধরনের বন্দুক বৈধ হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হবে। পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পেতে অস্ট্রেলীয় নাগরিকত্ব বাধ্যতামূলক করা হবে।

এছাড়া জাতীয় আগ্নেয়াস্ত্র নিবন্ধন ব্যবস্থা দ্রুত কার্যকর করা হবে এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রকদের অপরাধসংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্যের প্রতি আরও বিস্তৃত প্রবেশাধিকার দেওয়া হবে।

এদিকে নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ জানিয়েছে, চরমপন্থি মতাদর্শের অভিযোগে আটক সাতজনকে মুক্তি দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে তাদের ওপর নজরদারি অব্যাহত থাকবে। রাজ্যটির পুলিশ কমিশনার ম্যাল ল্যানিয়ন বলেন, আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে হামলাকারীদের কোনো নিশ্চিত যোগসূত্র পাওয়া যায়নি, যদিও বন্ডাই সৈকত পরিদর্শনের একটি পরিকল্পনা তাদের ছিল।

সূত্র: বিবিসি