শিরোনাম

পাকিস্তানে ব্যাংক লুট ও পুলিশ স্টেশনে হামলা, নিহত ১২

সিটিজেন-ডেস্ক­
পাকিস্তানে ব্যাংক লুট ও পুলিশ স্টেশনে হামলা, নিহত ১২
ডাকাতি ও পুলিশ স্টেশনে হামলার পর পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানের খারান শহরে দুটি ব্যাংকে ডাকাতি ও একটি পুলিশ স্টেশনে সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার পর নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) খারান শহরে একযোগে এসব হামলা চালানো হয়। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর এক বিবৃতিতে জানায়, ভারতের মদদপুষ্ট বলে অভিযুক্ত সন্ত্রাসী সংগঠন ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’-এর সঙ্গে যুক্ত ১৫ থেকে ২০ জন সন্ত্রাসী এই হামলায় অংশ নেয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, হামলাকারীরা খারান সিটি পুলিশ স্টেশন, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান এবং হাবিব ব্যাংক লিমিটেডকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায়। এ সময় তারা দুই ব্যাংক থেকে প্রায় ৩৪ লাখ রুপি লুট করে। পাশাপাশি পুলিশ স্টেশনে হামলা চালিয়ে জিম্মি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।

তবে নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত ও সমন্বিত অভিযানে সন্ত্রাসীদের সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। অভিযানে অন্তত ১২ জন নিহত হয় বলে জানানো হয়েছে।

আইএসপিআর জানায়, খারান ও আশপাশের এলাকায় ক্লিন-আপ বা মপ-আপ অভিযান চলছে চলমান রয়েছে। জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান) এবং ফেডারেল সরকারের অনুমোদিত ‘আজম-ই-ইস্তেহকাম’ ভিশনের আওতায় বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

পাকিস্তান সরকার বেলুচ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে মূলত আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ হিসেবে চিহ্নিত করে থাকে। ইসলামাবাদের অভিযোগ, ভারত একটি বিস্তৃত হাইব্রিড যুদ্ধ কৌশলের অংশ হিসেবে বিশেষ করে বেলুচিস্তানকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।

বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী মীর সরফরাজ বুগতি নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। তিনি জানান, অভিযানে একজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন এবং তাকে কম্বাইন্ড মিলিটারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনটি স্থানে প্রাথমিক সংঘর্ষেই চার সন্ত্রাসী নিহত হয়, পরে অন্যদেরও বিভিন্ন অভিযানে নিষ্ক্রিয় করা হয়।

তিনি জানান, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেখাচ্ছে যে সন্ত্রাসীরা আদর্শিক তৎপরতার পাশাপাশি এখন সংগঠিত অপরাধ যেমন- ব্যাংক ডাকাতির দিকে ঝুঁকছে। তিনি বলেন, ‘ওরা রাস্তায় নামলে পরাজিত হবে, আর লুকিয়ে থাকলে গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযানে খুঁজে বের করা হবে।’

মুখ্যমন্ত্রী বুগতি বেলুচিস্তানের দুর্গম এলাকায় ডিজিটাল অবকাঠামো নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সাঙ্গানের মতো কম জনবসতিপূর্ণ এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট টাওয়ার স্থাপনকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রণহীন ৪জি নেটওয়ার্ক নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে শত্রুপক্ষের অপব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

একইসঙ্গে তিনি ৩০০ কোটি রুপির একটি প্রাদেশিক প্রকল্পের ঘোষণা দিয়েছেন, যার আওতায় বেলুচিস্তানজুড়ে ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতালগুলোকে সংযুক্ত করা হবে, পাশাপাশি অপব্যবহার রোধে নজরদারিও বজায় রাখা হবে।

সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন

/জেএইচ/