শিরোনাম

জমির ই-রেজিস্ট্রেশন চালুতে অধ্যাদেশ জারি

সিটিজেন-ডেস্ক­
জমির ই-রেজিস্ট্রেশন চালুতে অধ্যাদেশ জারি
দলিল নিবন্ধনের সময়সীমা ৩০ দিনের পরিবর্তে ৬০ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। ছবি: সিটিজেন ডেস্ক

জমির দলিল নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে আধুনিক ও ডিজিটাল করতে নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছেন রাষ্ট্রপতি। ‘নিবন্ধন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ অনুযায়ী জমির ই-রেজিস্ট্রেশন বা ডিজিটাল নিবন্ধনের সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি দলিল নিবন্ধনের সময়সীমা ৩০ দিনের পরিবর্তে ৬০ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ এই অধ্যাদেশ জারি করে। এর মাধ্যমে ১৯০৮ সালের নিবন্ধন আইন সংশোধন করা হলো।

অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, সরকার অনুমোদিত সফটওয়্যার ব্যবহার করে বিধি অনুযায়ী দলিল উপস্থাপন, নিবন্ধনের জন্য গ্রহণ ও নিবন্ধনসহ সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রম ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা যাবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় বিধি সরকার প্রণয়ন করবে।

নতুন আইনে ভুল ফি বা কর আদায়ের ক্ষেত্রে দায়ী ব্যক্তির ওপর কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। কোনো নিবন্ধন কর্মকর্তা অনিয়মিতভাবে ফি, কর, সার্ভিস চার্জ বা শুল্ক আদায় করলে তা অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে। এমন ক্ষেত্রে অনাদায়ী অর্থ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছ থেকেই আদায় করা হবে।

এ ছাড়া নিবন্ধন সংক্রান্ত আপিল ও আবেদনের নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, কোনো আপিল দাখিলের ৪৫ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রারকে তা নিষ্পত্তি করতে হবে।

অধ্যাদেশে দলিল নিবন্ধনের আওতাও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বিক্রয়ের পাশাপাশি মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) অনুযায়ী হেবা ঘোষণা, হিন্দু, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ ব্যক্তিগত আইনের অধীনে দানের ঘোষণাও এখন নিবন্ধনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ জন্য আইনে ‘বিক্রেতা’ শব্দের সঙ্গে ‘অথবা দাতার’ শব্দ দুটি সংযোজন করা হয়েছে।

সরকারের ভাষ্য, এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে দলিল নিবন্ধন ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও সময়োপযোগী হবে। ডিজিটাল পদ্ধতি চালুর ফলে নাগরিক সেবা সহজ হবে এবং অনিয়ম কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।