শিরোনাম

বছরের প্রথম দিন নতুন বই পেয়ে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
বছরের প্রথম দিন নতুন বই পেয়ে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা
নতুন বই হাতে পেয়ে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা। শেরেবাংলা নগর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, ০১ জানুয়ারি ২০২৬। ছবি: হারুন-অর-রশীদ

বছরের প্রথম দিনেই দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে নতুন পাঠ্যবই। এবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কোনো জাঁকজমকপূর্ণ ‘বই উৎসব’ অনুষ্ঠিত হয়নি।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকালে ঢাকার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেন শিক্ষক ও কর্তৃপক্ষ। উৎসবের আমেজ না থাকলেও নতুন বইয়ের ঘ্রাণে শিক্ষার্থীদের চোখে-মুখে আনন্দের ঝিলিক দেখা গেছে। অভিভাবকরাও বছরের প্রথম দিনে বই পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা অনেকে বই পায়নি। কেউ কেউ দুই থেকে তিনটি বই পেয়েছে। তাতে মন খারাপ তাদের।

সরেজমিনে শেরেবাংলা নগরসহ রাজধানীর বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

নতুন বই হাতে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা। ছবি: হারুন-অর-রশীদ
নতুন বই হাতে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা। ছবি: হারুন-অর-রশীদ

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল ৯টা থেকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা স্কুলে এসেছেন। শিক্ষার্থীদের রেজাল্ট শিট দেখে বই হাতে তুলে দিচ্ছেন শিক্ষকরা। বই হাতে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছন শিক্ষার্থীরা।

শেরেবাংলা নগর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলেন, বছরের শুরুতেই নতুন বই হাতে পেয়েছি, এজন্য আমি খুব খুশি।

এক অভিভাবক জানান, আমার ছেলে ক্লাস ফাইভে পড়ে। সে সবগুলো বই হাতে পেয়েছে। নতুন বই হাতে পেয়ে সে বেজায় খুশি হয়েছে। আনন্দে ছোটাছুটি করছে।

বই হাতে পেয়ে খুশি শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি খুশি অভিভাবকেরাও। ছবি: হারুন-অর-রশীদ
বই হাতে পেয়ে খুশি শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি খুশি অভিভাবকেরাও। ছবি: হারুন-অর-রশীদ

এদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেখানে বই পৌঁছেছে শতভাগ, সেখানে মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো এখনও চাহিদা অনুযায়ী বই পায়নি। এজন্য সকাল থেকেই শিক্ষকরা হিসাব করছেন কোন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কতটি করে বই দেওয়া হবে। ফলে মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা এখনো নতুন বই হাতে পায়নি এবং নতুন বই পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

এদিন মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের এদিক-সেদিক ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে। অনেকেই আবার খেলায় মেতেছেন। যদিও সবগুলো বই হাতে না পেয়ে মন খারাপ করেছেন অনেকেই। অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বলেন, অন্যরা সব বই হাতে পেয়েছে। আমি মাত্র তিনটা বই পেয়েছি। এজন্য কিছুটা মন খারাপ রয়েছে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্র জানিয়েছে, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত এবার মোট বইয়ের সংখ্যা ৮ কোটি ৫৯ লাখ ২৫ হাজার ৩৭৯ কপি। শতভাগ বই ছাপা, বাঁধাই, কাটিংয়ের কাজ শেষে বিতরণে জন্য উপজেলায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের দেওয়ার জন্য বিদ্যালয়ে পৌছে দেওয়া হচ্ছে পাঠ্যবই। ছবি: হারুন-অর-রশীদ
শিক্ষার্থীদের দেওয়ার জন্য বিদ্যালয়ে পৌছে দেওয়া হচ্ছে পাঠ্যবই। ছবি: হারুন-অর-রশীদ

অন্যদিকে মাধ্যমিক, দাখিল, দাখিল (ভোকেশনাল) ও কারিগরি স্তরের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও সরবরাহের কাজ চলমান। ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম ও নবমের মোট ১৮ কোটি ৩২ লাখ ৮ হাজার ৬৯৩ কপি বইয়ের মধ্যে ৬৬ শতাংশ বই উপজেলার পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে।

এনসিটিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বছরের শুরুতেই সব শিক্ষার্থীর হাতে অন্তত কয়েকটি করে বই তুলে দেওয়া হবে। তবে মাধ্যমিক বিশেষ করে সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির সব বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিতে আরও কিছুদিন লাগবে।

এনসিটিবি সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক রিয়াদ চৌধুরী বলেন, বছরের প্রথমদিন শতভাগ শিক্ষার্থীর হাতে পাঠ্যবই তুলে দিতে পারবো, সেটা আমরা বলছি না। কিন্তু শতভাগ শিক্ষার্থী যেন বই হাতে পায়, সে চেষ্টা করছি। ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬৬ শতাংশের বেশি বই দেশের বিভিন্ন উপজেলায় সরবরাহ করা হয়েছে। বাকি ৪৪ শতাংশ বই যতদ্রুত সম্ভব প্রস্তুত করে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

/জেএইচ/

বিষয়:

পাঠ্যবই