জলবায়ু পরিবর্তনে বিশ্বজুড়ে সংকটের মুখে খাদ্য নিরাপত্তা

জলবায়ু পরিবর্তনে বিশ্বজুড়ে সংকটের মুখে খাদ্য নিরাপত্তা
অধ্যাপক মিনারা খাতুন

খাদ্য আমাদের জীবনের মৌলিক ভিত্তি। কিন্তু আজ বিশ্বজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তা এক নীরব সংকটের মুখে, যার প্রধান কারণ জলবায়ু পরিবর্তন। সাধারণত জলবায়ু পরিবর্তন বলতে আমরা বরফ গলন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি কিংবা ঘূর্ণিঝড়-বন্যার কথাই বেশি শুনি। অথচ এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো-জলবায়ু পরিবর্তন কীভাবে আমাদের খাদ্যকে অনিরাপদ করে তুলছে।
বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ক্ষতিকর জীবাণুর বিস্তার দ্রুত বাড়ছে। স্যালমোনেলা ও ই-কোলাইয়ের মতো জীবাণু গরম পরিবেশে দ্রুত বংশবিস্তার করে, ফলে ডায়রিয়া ও খাদ্যে বিষক্রিয়াসহ নানা খাদ্যবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়ছে। গবেষণায় দেখা যায়, গ্রীষ্মকালে এসব রোগের হার তুলনামূলক বেশি থাকে, যা ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘন ঘন বন্যা ও অতিবৃষ্টির ঘটনা ঘটছে। বন্যার পানি প্রায়ই শিল্পবর্জ্য ও ক্ষতিকর পদার্থ বহন করে কৃষিজমিতে প্রবেশ করে, ফলে শাকসবজি, ফলমূল ও শস্য দূষিত হয়। অপরদিকে, খরার সময় পানির সংকটে কৃষকরা অনিরাপদ সেচের পানি ব্যবহার করতে বাধ্য হন এবং ফসল রক্ষায় অতিরিক্ত সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করেন। এসব রাসায়নিক খাদ্যের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে ‘রেড টাইড’ বা ক্ষতিকর শৈবালের বিস্তার বেড়েছে, যা সামুদ্রিক মাছ ও শামুকে বিষাক্ত পদার্থ জমা করে। এসব খাদ্য গ্রহণ মারাত্মক বিষক্রিয়ার কারণ হতে পারে, বিশেষ করে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জন্য এটি বড় হুমকি। একই সঙ্গে গরম আবহাওয়া ও দুর্বল শীতল সংরক্ষণ ব্যবস্থার কারণে মাংস, মাছ ও দুধ দ্রুত নষ্ট হয়ে খাদ্য অনিরাপত্তা আরও বাড়িয়ে তুলছে।
খাদ্য অনিরাপত্তার প্রভাব শুধু জনস্বাস্থ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি অর্থনীতিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। খাদ্যজনিত রোগে কর্মক্ষমতা হ্রাস, চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধি এবং কৃষকের আর্থিক ক্ষতি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে।
এই সংকট মোকাবিলায় টেকসই ও জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি পদ্ধতির প্রসার, নিরাপদ পানি ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, রাসায়নিকের সঠিক ব্যবহার, খাদ্য নিরাপত্তা আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং কৃষক ও ভোক্তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তন শুধু পরিবেশগত সমস্যা নয়-এটি একটি বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা সংকট। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই আমরা ভবিষ্যতের জন্য নিরাপদ, পুষ্টিকর ও টেকসই খাদ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারি।
লেখক: অধ্যাপক ড. মোছা. মিনারা খাতুন, মাইক্রোবায়োলজি এন্ড হাইজিন বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ।

খাদ্য আমাদের জীবনের মৌলিক ভিত্তি। কিন্তু আজ বিশ্বজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তা এক নীরব সংকটের মুখে, যার প্রধান কারণ জলবায়ু পরিবর্তন। সাধারণত জলবায়ু পরিবর্তন বলতে আমরা বরফ গলন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি কিংবা ঘূর্ণিঝড়-বন্যার কথাই বেশি শুনি। অথচ এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো-জলবায়ু পরিবর্তন কীভাবে আমাদের খাদ্যকে অনিরাপদ করে তুলছে।
বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ক্ষতিকর জীবাণুর বিস্তার দ্রুত বাড়ছে। স্যালমোনেলা ও ই-কোলাইয়ের মতো জীবাণু গরম পরিবেশে দ্রুত বংশবিস্তার করে, ফলে ডায়রিয়া ও খাদ্যে বিষক্রিয়াসহ নানা খাদ্যবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়ছে। গবেষণায় দেখা যায়, গ্রীষ্মকালে এসব রোগের হার তুলনামূলক বেশি থাকে, যা ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘন ঘন বন্যা ও অতিবৃষ্টির ঘটনা ঘটছে। বন্যার পানি প্রায়ই শিল্পবর্জ্য ও ক্ষতিকর পদার্থ বহন করে কৃষিজমিতে প্রবেশ করে, ফলে শাকসবজি, ফলমূল ও শস্য দূষিত হয়। অপরদিকে, খরার সময় পানির সংকটে কৃষকরা অনিরাপদ সেচের পানি ব্যবহার করতে বাধ্য হন এবং ফসল রক্ষায় অতিরিক্ত সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করেন। এসব রাসায়নিক খাদ্যের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে ‘রেড টাইড’ বা ক্ষতিকর শৈবালের বিস্তার বেড়েছে, যা সামুদ্রিক মাছ ও শামুকে বিষাক্ত পদার্থ জমা করে। এসব খাদ্য গ্রহণ মারাত্মক বিষক্রিয়ার কারণ হতে পারে, বিশেষ করে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জন্য এটি বড় হুমকি। একই সঙ্গে গরম আবহাওয়া ও দুর্বল শীতল সংরক্ষণ ব্যবস্থার কারণে মাংস, মাছ ও দুধ দ্রুত নষ্ট হয়ে খাদ্য অনিরাপত্তা আরও বাড়িয়ে তুলছে।
খাদ্য অনিরাপত্তার প্রভাব শুধু জনস্বাস্থ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি অর্থনীতিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। খাদ্যজনিত রোগে কর্মক্ষমতা হ্রাস, চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধি এবং কৃষকের আর্থিক ক্ষতি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে।
এই সংকট মোকাবিলায় টেকসই ও জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি পদ্ধতির প্রসার, নিরাপদ পানি ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, রাসায়নিকের সঠিক ব্যবহার, খাদ্য নিরাপত্তা আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং কৃষক ও ভোক্তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তন শুধু পরিবেশগত সমস্যা নয়-এটি একটি বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা সংকট। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই আমরা ভবিষ্যতের জন্য নিরাপদ, পুষ্টিকর ও টেকসই খাদ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারি।
লেখক: অধ্যাপক ড. মোছা. মিনারা খাতুন, মাইক্রোবায়োলজি এন্ড হাইজিন বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ।

জলবায়ু পরিবর্তনে বিশ্বজুড়ে সংকটের মুখে খাদ্য নিরাপত্তা
অধ্যাপক মিনারা খাতুন

খাদ্য আমাদের জীবনের মৌলিক ভিত্তি। কিন্তু আজ বিশ্বজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তা এক নীরব সংকটের মুখে, যার প্রধান কারণ জলবায়ু পরিবর্তন। সাধারণত জলবায়ু পরিবর্তন বলতে আমরা বরফ গলন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি কিংবা ঘূর্ণিঝড়-বন্যার কথাই বেশি শুনি। অথচ এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো-জলবায়ু পরিবর্তন কীভাবে আমাদের খাদ্যকে অনিরাপদ করে তুলছে।
বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ক্ষতিকর জীবাণুর বিস্তার দ্রুত বাড়ছে। স্যালমোনেলা ও ই-কোলাইয়ের মতো জীবাণু গরম পরিবেশে দ্রুত বংশবিস্তার করে, ফলে ডায়রিয়া ও খাদ্যে বিষক্রিয়াসহ নানা খাদ্যবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়ছে। গবেষণায় দেখা যায়, গ্রীষ্মকালে এসব রোগের হার তুলনামূলক বেশি থাকে, যা ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘন ঘন বন্যা ও অতিবৃষ্টির ঘটনা ঘটছে। বন্যার পানি প্রায়ই শিল্পবর্জ্য ও ক্ষতিকর পদার্থ বহন করে কৃষিজমিতে প্রবেশ করে, ফলে শাকসবজি, ফলমূল ও শস্য দূষিত হয়। অপরদিকে, খরার সময় পানির সংকটে কৃষকরা অনিরাপদ সেচের পানি ব্যবহার করতে বাধ্য হন এবং ফসল রক্ষায় অতিরিক্ত সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করেন। এসব রাসায়নিক খাদ্যের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে ‘রেড টাইড’ বা ক্ষতিকর শৈবালের বিস্তার বেড়েছে, যা সামুদ্রিক মাছ ও শামুকে বিষাক্ত পদার্থ জমা করে। এসব খাদ্য গ্রহণ মারাত্মক বিষক্রিয়ার কারণ হতে পারে, বিশেষ করে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জন্য এটি বড় হুমকি। একই সঙ্গে গরম আবহাওয়া ও দুর্বল শীতল সংরক্ষণ ব্যবস্থার কারণে মাংস, মাছ ও দুধ দ্রুত নষ্ট হয়ে খাদ্য অনিরাপত্তা আরও বাড়িয়ে তুলছে।
খাদ্য অনিরাপত্তার প্রভাব শুধু জনস্বাস্থ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি অর্থনীতিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। খাদ্যজনিত রোগে কর্মক্ষমতা হ্রাস, চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধি এবং কৃষকের আর্থিক ক্ষতি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে।
এই সংকট মোকাবিলায় টেকসই ও জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি পদ্ধতির প্রসার, নিরাপদ পানি ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, রাসায়নিকের সঠিক ব্যবহার, খাদ্য নিরাপত্তা আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং কৃষক ও ভোক্তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তন শুধু পরিবেশগত সমস্যা নয়-এটি একটি বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা সংকট। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই আমরা ভবিষ্যতের জন্য নিরাপদ, পুষ্টিকর ও টেকসই খাদ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারি।
লেখক: অধ্যাপক ড. মোছা. মিনারা খাতুন, মাইক্রোবায়োলজি এন্ড হাইজিন বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ।




