শিরোনাম

জ্বালানি সংস্কারে ক্যাব যুব সংসদের ১৩ দফা দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
জ্বালানি সংস্কারে ক্যাব যুব সংসদের ১৩ দফা দাবি
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে ক্যাব যুব সংসদের নেতাকর্মীরা। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

জ্বালানি খাত সংস্কারে ১৩ দফা দাবি জানিয়েছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর অঙ্গসংগঠন ‘ক্যাব যুব সংসদ’। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্তির জন্য এই দাবি জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবিগুলো তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ১৩ দফা দাবি উত্থাপন করেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী তালহা বিন ইমরান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদমান সাকিব খান সামি।

ক্যাব যুব সংসদের উত্থাপিত ১৩ দফা দাবি হলো:

বিদ্যুৎ ও প্রাথমিক জ্বালানি খাতকে বাণিজ্যিক কাঠামো থেকে পুনরায় সেবাখাত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা এবং সরকারি সেবাগুলোকে মুনাফামুক্ত রেখে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহে কস্ট-প্লাস নয়, কস্টভিত্তিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা; জ্বালানি দক্ষতা ও সংরক্ষণ উন্নয়নের মাধ্যমে বর্তমানের তুলনায় আগামী সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদে গড়ে কমপক্ষে ৫ শতাংশ জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানি হ্রাস নিশ্চিত করা; সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বাড়িয়ে এই পাঁচ বছরে গড়ে ১৫ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করা এবং ক্ষুদ্র শিল্প হিসেবে এই খাতের উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেওয়া।

আগামী পাঁচ বছরের জন্য এলএনজি আমদানি বৃদ্ধি স্থগিত রাখা এবং নতুন করে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা বৃদ্ধি নিষিদ্ধ করা; গ্যাস উন্নয়ন তহবিলের অর্থ ব্যবহার করে বাপেক্সসহ দেশীয় কোম্পানির মাধ্যমে শতভাগ গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন নিশ্চিত করা, একইসঙ্গে গণশুনানির ভিত্তিতে ছাতক (পূর্ব) ও ভোলা/দক্ষিণাঞ্চলের অব্যবহৃত গ্যাস সম্পদ ব্যবহারের জন্য কার্যকর কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন নিশ্চিত করা।

১৩ দফা দাবি উত্থাপন করছেন ক্যাব যুব সংসদের নেতাকর্মীরা। ছবি: সিটিজেন জার্নাল
১৩ দফা দাবি উত্থাপন করছেন ক্যাব যুব সংসদের নেতাকর্মীরা। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

আদানির সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি বাতিল এবং আদানির কাছ থেকে বিদ্যুৎ আমদানি রদ নিশ্চিত করা; ক্যাব কর্তৃক দায়ের করা স্পিডি অ্যাক্ট ২০১০ রহিতকরণ অধ্যাদেশ ২০২৪–সংক্রান্ত রিট মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে এই আইনের আওতায় সম্পাদিত সব চুক্তি ও লাইসেন্স বাতিলসহ সব ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ করা; এসব চুক্তির কারণে রাষ্ট্রের যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে আদায় নিশ্চিত করা; জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্ট দুর্নীতি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের ‘জ্বালানি অপরাধী’ হিসেবে বিচার নিশ্চিত করা।

লুণ্ঠনমূলক ‘ব্যয় ও মুনাফা’ মুক্ত করে বিদ্যুৎ ও প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যয় কমিয়ে বিদ্যমান মূল্যহার কমানো। এলপিজি’র বাজার ওলিগোপলি থেকে মুক্ত করার জন্য এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব)-এর কর্তৃত্ব রদ করা, উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ীদের প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে এলপিজি আমদানির লাইসেন্স প্রদান করা, সরকারি মালিকানায় এলপিজি টার্মিনাল ও ওয়েল রিফাইনারি করা এবং সরকারি মালিকানায় এলপিজির ৫০ শতাংশ আমদানি ও স্টোরেজক্ষমতা উন্নয়ন নিশ্চিত করা।

বিইআরসি’র জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিইআরসি’র বিরুদ্ধে ক্যাবের উত্থাপিত অভিযোগগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা। একই সঙ্গে ক্যাব প্রস্তাবিত বিইআরসি আইন সংশোধনী কার্যকর করা এবং ক্যাব প্রণীত জ্বালানি রূপান্তর নীতি-২০২৪ অনুসারে গণবান্ধব জ্বালানি রূপান্তর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবসার সুরক্ষায় প্রণীত জ্বালানি সনদ চুক্তি-১৯৯২–এ স্বাক্ষর থেকে সরকারকে বিরত রাখা।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা থেকে জ্বালানি খাতে জনগণের সার্বভৌমত্ব ও সুবিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই দাবিগুলো উত্থাপন করা হয়েছে।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ক্যাব যুব সংসদের সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আশিকুল ইসলাম, অরিত্র রুদ্রধার, নওশীন জাহান তাকিয়া, সাবাত মোস্তফা প্রথন, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী রাফকাতুল আরেফিন প্রমুখ।

/এমএইচএম/জেএইচ/