শিরোনাম

নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা

জ্যেষ্ঠ-প্রতিবেদক
নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা
ডা. তাসনিম জারা। কোলাজ: সিটিজেন জার্নাল

ঢাকা-৯ আসনের ভোটারদের প্রতি অবহেলা ও বৈষম্যের অভিযোগ তুলে নিজের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা। তার ভাষায়, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হওয়া সত্ত্বেও ঢাকা-৯ দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য সেবা থেকে বঞ্চিত। গুলশান-বনানীর মতো কর ও বিল পরিশোধ করলেও এখানকার মানুষ পান নিম্নমানের নাগরিক সুবিধা। এই বাস্তবতা বদলাতেই তিনি নির্বাচনে এসেছেন বলে জানান।

নিজেকে এলাকার ‘ঘরের মেয়ে’ উল্লেখ করে তাসনিম জারা জানান, ভোটের সময় এসে পরে হারিয়ে যাওয়ার রাজনীতিতে তিনি বিশ্বাসী নন। এলাকার মানুষের অধিকার আদায়ে সরব থাকতে তিনি ‘ফুটবল’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই নির্বাচনী অঙ্গীকারনামা প্রকাশ করেন। পেশাদার রাজনীতিক নন উল্লেখ করে তিনি জানান, এলাকার মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ের লক্ষ্যেই ‘ফুটবল’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

ইশতেহারে গ্যাস, রাস্তা ও জলাবদ্ধতার সমস্যাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন তাসনিম জারা। তিনি বলেন, নিয়মিত গ্যাসের বিল দেওয়া হলেও চুলা জ্বালালে অনেক সময় বাতাস ছাড়া কিছুই পাওয়া যায় না। এটিকে তিনি সরাসরি প্রতারণা হিসেবে উল্লেখ করেন। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে ‘সেবা না দিলে বিল নেই’ নীতি চালুর জন্য আইন প্রস্তাব করবেন বলে জানান তিনি। তিতাস গ্যাস সরবরাহে ব্যর্থ হলে সেই মাসের বিল মওকুফের দাবি সংসদে তুলবেন বলেও উল্লেখ করেন। পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং রাস্তা সংস্কারে ঠিকাদারদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

চিকিৎসক পরিচয়ের কারণে স্বাস্থ্য খাতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন তাসনিম জারা। তার ভাষায়, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওপর অমানবিক চাপ কমাতে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ ও আধুনিক যন্ত্রপাতি নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া পাড়ার ক্লিনিকগুলোকে আধুনিক ‘মিনি হাসপাতাল’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সারা বছর কার্যকর থাকবে– এমন একটি স্থায়ী মশা নিধন ব্যবস্থার কথাও বলেন তিনি।

শিক্ষাক্ষেত্রে তিনি কোনো ধরনের এমপি কোটা বা ভর্তি বাণিজ্য রাখবেন না বলে অঙ্গীকার করেন। তার লক্ষ্য প্রতিটি স্কুলকে আধুনিক শিক্ষার কেন্দ্রে পরিণত করা, যেখানে শিক্ষার্থীরা কোডিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ হয়ে উঠবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো এলাকাকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা এবং মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

অর্থনীতি ও জীবিকার প্রশ্নে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ তহবিল গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তাসনিম জারা। কর্মজীবী মায়েদের কথা বিবেচনায় রেখে প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিউনিটি ডে-কেয়ার সেন্টার গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

এমপির জবাবদিহিতার নতুন সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চান জানিয়ে তাসনিম জারা বলেন, নির্বাচনের পর আমি এলাকায় দৃশ্যমান থাকব। এলাকার প্রাণকেন্দ্রে স্থায়ী কার্যালয় স্থাপন, ডিজিটাল মাধ্যমে অভিযোগের অগ্রগতি জানানো এবং কোনো মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সরাসরি যোগাযোগের ব্যবস্থা রাখার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

সবশেষে ভোটারদের উদ্দেশে তাসনিম জারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর স্বচ্ছভাবে দেশ গড়ার যে সুযোগ এসেছে, তা থেকেই আমি রাজনীতিতে এসেছি। তার আহ্বান, একজন ডাক্তারকে সুযোগ দেওয়া হোক– যিনি জানেন সমস্যার শিকড় কোথায় এবং সমাধান কোন পথে।

/এসএ/