শিরোনাম

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর

সিটিজেন-আন্তর্জাতিক-ডেস্ক
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর
সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির চেয়ারপারসন ও দেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর সংবাদ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে। বিশ্বের প্রভাবশালী সংবাদ সংস্থা ও মিডিয়াগুলো তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, নেতৃত্ব এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে তার অবদানের ওপর আলোকপাত করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

এপি

এপি তাদের প্রতিবেদনে জানায়, দীর্ঘদিন অসুস্থতার পাশাপাশি আইনি লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে গেছেন বেগম খালেদা জিয়া। তার বিরুদ্ধে আনা মামলাগুলোকে তিনি ও তার দল বরাবরই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছিল।

এপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট তাকে সর্বশেষ দুর্নীতি মামলা থেকে খালাস দেয়। এতে করে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথে তার সব আইনি বাধা দূর হয়েছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগের সরকারের সময় একাধিকবার তার বিদেশে চিকিৎসার আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলেও অন্তর্বর্তী সরকার চলতি বছরের জানুয়ারিতে তাঁকে বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি দেয়। উন্নত চিকিৎসা শেষে তিনি মে মাসে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফেরেন।

এএফপি

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মঙ্গলবার সকালে ইন্তেকাল করেন। বিএনপির পক্ষ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ সকাল ৬টায় ফজরের নামাজের পর ইন্তেকাল করেছেন। আমরা তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করছি।

আল জাজিরা

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি লিভার সিরোসিস, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, হৃদরোগসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। গত ২৩ নভেম্বর ফুসফুসের সংক্রমণ ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে নিউমোনিয়াসহ শারীরিক জটিলতা বেড়ে গেলে তাকে সিসিইউ ও আইসিইউতে রাখা হয়। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছিল।

বিবিসি

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু সংবাদ নিয়ে এখন পর্যন্ত দুটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ‘বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ৮০ বছর বয়সে মারা গেছেন’ শিরোনামের প্রতিবেদনে বিবিসি বলছে, দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর ৮০ বছর বয়সে মারা গেছেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

১৯৯১ সালে নিজের দলকে নেতৃত্ব দিয়ে টানা ২০ বছর পর অনুষ্ঠিত দেশের প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী সরকারপ্রধান হন।

সোমবার চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন, তার অবস্থা ছিল ‘চরম সংকটাপন্ন’। তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। তবে বয়স ও সার্বিক শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে একই সময়ে একাধিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না বলে তারা জানান। অসুস্থতা সত্ত্বেও এর আগে তার দল বলেছিল, আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনে অংশ নেবেন খালেদা জিয়া।

রয়টার্স

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়া বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ অসুস্থতার পর মঙ্গলবার মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। ক্ষমতার পালাবদলের দীর্ঘ সময়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে তার তীব্র রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছিল।

খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক দল বিএনপি জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের অসুস্থতায় ভুগে খালেদা জিয়া মারা গেছেন। চিকিৎসকরা বলেছেন, তিনি লিভারের সিরোসিসে ভুগছিলেন। এ ছাড়া তার আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস এবং হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যাও ছিল।

এনডিটিভি

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। আগামী বছরের নির্বাচনে তিনি বড় ধরনের জয় পেয়ে আবারও দেশকে নেতৃত্ব দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছিল।

গত ২৩ নভেম্বর হৃদ্‌যন্ত্র ও ফুসফুসে সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকে টানা ৩৬ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

এছাড়াও মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস, ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান, পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন, জিও নিউজ, আমিরাতি দৈনিক গালফ নিউজসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুর খবর বেশ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হয়েছে।