শিরোনাম

হান্নান ম্যাজিকে শিরোপা জিতলো রাজশাহী

নিজস্ব প্রতিবেদক
হান্নান ম্যাজিকে শিরোপা জিতলো রাজশাহী
ট্রফি হাতে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের কোচ হান্নান সরকার (ছবি: আকবর আলী)

বিপিএলের বারোতম আসরে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল শিরোপা খরা কাটানো। ২০১৯-২০ সালের পর ঘরোয়া এই আসরে খুব একটা লড়াই করতে পারেনি রাজশাহী। সর্বশেষ শিরোপা জেতা দলটার ম্যানেজার ছিলেন হান্নান সরকার। এবার কোচ হিসেবে পেলেন সাফল্য।

মাঠের পারফরম্যান্স শিরোপা জেতা রাজশাহীর এবার মাঠের বাইরের পরিকল্পনাও ছিল দারুণ। তারুণ্য আর অভিজ্ঞতার ভারসাম্যে স্কোয়াড গড়েছিল রাজশাহী। যার নেপথ্যে ছিলেন কোচ হান্নান সরকার। গত বছরের শুরুর দিকে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে তুলনামূলক কম শক্তির আবাহনী লিমিটেডকে কোচিং করিয়ে শিরোপার স্বাদ পেয়েছিলেন তিনি। এবার রাজশাহীর হয়েও একই গল্প লিখলেন সাম্প্রতিক সময়ে কোচিংয়ে নাম লেখানো সাবেক এই ক্রিকেটার।

নিলাম শুরুর আগ থেকেই সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনায় এগিয়েছে রাজশাহী। মুশফিকুর রহিম, নাজমুল হোসেন শান্ত, তানজিদ হাসান তামিম, তানজিম হাসান সাকিবের মতো অভিজ্ঞরা ছিলেন দলে। অন্যদিকে, গতির ঝড় তোলা তরুণ ক্রিকেটার রিপন মন্ডল, আব্দুল গাফ্ফার সাকলাইন, মেহরাব হোসেন ও হাসান মুরাদরা প্রতিপক্ষকে চমকে দিতে ছিলেন প্রস্তুত। বিশেষ করে রিপন ও আব্দুল গাফ্ফার পুরো আসরজুড়েই দুর্দান্ত বোলিং করেছেন।

দেশি ক্রিকেটারদের সঙ্গে বিদেশিদের সম্মিলিত পারফরম্যান্সের প্রভাব ছিল স্পষ্ট। হান্নান বিদেশি ক্রিকেটার নির্বাচনে দেখিয়েছেন চমৎকার দূরদর্শিতা। সাম্প্রতিক সময়ে যারা ধারাবাহিক ফর্মে ছিলেন, মূলত এমন ক্রিকেটারদের ঘিরেই সাজানো হয়েছিল স্কোয়াড। আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান সাহিবজাদা ফারহান, লঙ্কান পেসার বিনুরা ফার্নান্দো এবং ভরসা জাগানো অলরাউন্ডার জিমি নিশাম চমৎকার ইমপ্যাক্ট রেখেছেন দলে। শেষ দুই ম্যাচে রাজশাহীর জার্সিতে খেলতে আসা কেন উইলিয়ামসনও ছিলেন উজ্জ্বল। সবমিলিয়ে রাজশাহীর শিরোপা খরা কাটানোর পেছনে গোছানো পরিকল্পনা স্পষ্ট।

ট্রফিসহ টিমবয়দের সঙ্গে হান্নান সরকার (ছবি: ফেসবুক)
ট্রফিসহ টিমবয়দের সঙ্গে হান্নান সরকার (ছবি: ফেসবুক)

শুক্রবারের (২৩ জানুয়ারি) ফাইনালটি দুই দলের জন্যই ছিল শিরোপার দীর্ঘ অপেক্ষা ঘোচানোর মঞ্চ। গত আসরে ফাইনাল খেলেও ফরচুন বরিশালের কাছে হেরে রানার্সআপ হয়েছিল চট্টগ্রাম ফ্র্যাঞ্চাইজি। অন্যদিকে ২০১৯-২০ সালে সর্বশেষ ফাইনাল খেলে শিরোপা জিতেছিল রাজশাহী। ফলে দুই দলই ফাইনালে নেমেছিল সমান প্রত্যাশা আর লক্ষ্য নিয়ে। তবে পুরো আসরজুড়ে দাপট দেখানো চট্টগ্রামকে ফাইনালে একপ্রকার তুলোধুনো করে দেয় নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন দলটি। ছন্দময় ক্রিকেট খেলে ৬৩ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে ২৫ হাজার ডলার মূল্যের হীরাখচিত ট্রফি ঘরে তোলে রাজশাহী।

টস জিতে শুরুতে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল চট্টগ্রাম। অধিনায়ক শেখ মেহেদী রাজশাহীকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান। রাজশাহীর দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও শাহিবজাদা ফারহান সতর্কতার সঙ্গে ইনিংস শুরু করেন। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ৪০ রান তুললেও কোনো উইকেট হারায়নি দল। ১০.২ ওভারে দলীয় ৮৩ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ৩০ রানে ফিরে যান শাহিবজাদা ফারহান। কিছুটা ধীরগতির ব্যাটিং করলেও অন্য প্রান্তে আক্রমণাত্মক ছিলেন তানজিদ হাসান তামিম। ২৯ বলেই হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি এবং ৬১ বলে সেঞ্চুরি করে স্পর্শ করেন অনন্য এক রেকর্ড।

বিপিএলের ইতিহাসে তিনটি সেঞ্চুরি করা একমাত্র ব্যাটার এখন তানজিদ হাসান তামিম। ২০২৪ সালে প্রথমবার বিপিএলে সেঞ্চুরির স্বাদ পাওয়ার পর গত বছর করেন দ্বিতীয়টি। আর ফাইনালে এসে পূর্ণ করলেন নিজের তৃতীয় সেঞ্চুরি। তার এই অনবদ্য ইনিংসেই রাজশাহী ১৭৪ রানের শক্ত সংগ্রহ গড়ে তোলে। একসময় মনে হচ্ছিল স্কোর ২০০ ছাড়াবে, তবে মিডল ওভারগুলোতে প্রত্যাশিত রান তুলতে না পারায় তা সম্ভব হয়নি।

উইকেটের কন্ডিশন বিবেচনায় লক্ষ্যটা চট্টগ্রামের জন্য অসম্ভব ছিল না। কিন্তু পাওয়ার প্লেতেই শ্রীলঙ্কান পেসার বিনুরা ফার্নান্দোর আগ্রাসী বোলিংয়ে ভেঙে পড়ে চট্টগ্রামের ব্যাটিং লাইনআপ। তৃতীয় ওভারে পরপর দুই বলে নাঈম শেখ ও মাহমুদুল হাসান জয়কে ফিরিয়ে দিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিয়ে নেয় রাজশাহী। বিনুরার আগুনে বোলিংয়ে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজশাহীর অন্য বোলাররাও ত্রাস ছড়ান। ফলাফল হিসেবে পুরো ২০ ওভার ব্যাটিং করতেই পারেনি চট্টগ্রাম। ১৭.৫ ওভারে মাত্র ১১১ রানে অলআউট হয়ে যায় গতবারের রানার্সআপরা। শিরোপা উৎসবে মাতে হান্নান সরকারের কোচিংয়ে খেলা রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।

/টিই/