শিরোনাম

অভিযানে আটকের পর বিএনপি নেতার মৃত্যু

সিটিজেন-ডেস্ক­
অভিযানে আটকের পর বিএনপি নেতার মৃত্যু
শামসুজ্জামান ডাবলু। ছবি: সংগৃহীত

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলু (৫২) হেফাজতে থাকা অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় বিক্ষোভ করেছেন দলটির সমর্থক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

জানা গেছে, সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সেনাবাহিনীর একটি দল জীবননগর পৌর এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানকালে বিএনপি নেতা শামসুজ্জামানকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘হাফিজা ফার্মেসি’ থেকে আটক করা হয়। পরে তাকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মকবুল হোসেন বলেন, রাত ১২টা ১৬ মিনিটে ডাবলুকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। আমরা তাকে মৃত অবস্থায় পেয়েছি।

পৌর বিএনপির এই নেতাকে আটক ও তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা গভীর রাতেই রাস্তায় নেমে আসেন। তারা হাসপাতালের সামনের সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান। শামসুজ্জামানের মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে জড়িতদের শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবু রাত আড়াইটার দিকে হাসপাতালের ভেতরে গিয়ে প্রকৃত অবস্থা জানার চেষ্টা করেন। রাত ৩টার দিকে মাহমুদ হাসান হাসপাতালের বাইরে বের হন। তিনি বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল আমীনের উপস্থিতিতে জীবননগর থানার পুলিশ শামসুজ্জামানের মরদেহের সুরতহাল করেছে।

সকাল ১০টার দিকে বিএনপি নেতার মরদেহ জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা ছিল। এসময় হাসপাতালের ফটকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করায় রোগী ও রোগীর স্বজন ছাড়া অন্য কেউ ভেতরে ঢুকতে পারেননি। স্থানীয় প্রশাসন ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে নিতে চাইলে বাধা দেন বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।

নেতাকর্মীদের দাবি, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে উপস্থিত হয়ে বিএনপি নেতার মৃত্যুর ঘটনায় নির্যাতনে জড়িত ব্যক্তিদের যথাযথ শাস্তির বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে তারা মরদেহ বের করতে দেবেন না। তাদের অভিযোগ, আটকের পর শামসুজ্জামানকে মারধর করা হয়। এতে তার মৃত্যু হয়।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতর স্বামীর মরদেহের অপেক্ষায় ছিলেন স্ত্রী জেসমিন নাহার। তিনি বলেন, এটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। সেনাবাহিনী তাকে ফার্মেসি থেকে তুলে নিয়ে হত্যা করেছে।

স্থানীয় শ্রমিক নেতা শফিকুল ইসলাম খোকা জানান, রাত ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে ডাবলুকে তার ফার্মেসি থেকে তুলে ৫০ মিটার দূরে বিএনপির দলীয় অফিসে নিয়ে যান সেনাসদস্যরা। সকালে তিনি দলীয় অফিসের ওই কক্ষ সাংবাদিকদের দেখিয়ে বলেন, 'এখানেই ডাবলু ভাইকে দুই ঘণ্টা ধরে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।'

শামসুজ্জামানের ভাই ও জীবননগর উপজেলা বন কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম কাজল গণমাধ্যমকে বলেন, আমার ভাই পুরোপুরি নিরপরাধ ছিলেন। তাকে যেভাবে পেটানো হয়েছে, তা অমানবিক। এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, এটি হত্যাকাণ্ড।

জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, শামসুজ্জামানের মৃত্যুর পর সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইমরান তাকে বিস্তারিত জানিয়েছেন। তিনি তাকে বলেছেন, অভিযান চলাকালে জিজ্ঞাসাবাদের সময় শামসুজ্জামান শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর হাসপাতালে নেওয়া হলে তিনি মারা যান। মনিরুল ইসলাম আরও বলেন, 'সেনা কর্মকর্তারা পুলিশকে জানিয়েছেন, তারা অভিযান চালিয়ে ডাবলুর কাছ থেকে একটি অস্ত্র উদ্ধার করেন।'

চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান ডাবলু হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন বলে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের দাবি এটা হত্যাকাণ্ড। লাশের সুরতহাল হয়েছে, ময়নাতদন্ত হবে। আমরা তদন্ত করে দেখব। যদি হত্যাকাণ্ড প্রমাণিত হয়, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের সর্বোচ্চ মহলকে জানাব।

/এসআর/