শিরোনাম

ডিএনসিসি নাগরিক পদক পেলেন যারা

নিজস্ব প্রতিবেদক
ডিএনসিসি নাগরিক পদক পেলেন যারা
৮টি ক্যাটগরিতে ডিএনসিসির নাগরিক পদক পেয়েছেন ৩ ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠান (ছবি: সংগৃহীত)

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নগর উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, সামাজিক সেবা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে অবদান রাখা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনগুলোকে স্বীকৃতি হিসেবে ‘নাগরিক পদক-২৫’ প্রদান করেছে।

রবিবার (১১ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানের ডিএনসিসি নগর ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আটটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে আট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে পদক দেওয়া হয়। বিজয়ীদের হাতে পদক, সনদ, সম্মাননা স্মারক ও অর্থ প্রদান করা হয়।

উদ্ভাবক ও স্টার্টআপ ক্যাটাগরিতে পদক পেয়েছেন আবদুর রশিদ সোহাগ, যিনি পিউপিল স্কুল বাস লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। তার উদ্যোগে ঢাকা ও চট্টগ্রামের ব্যস্ত নগরীতে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবহন ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এতে দৈনিক প্রায় সাত হাজার শিক্ষার্থী নিরাপদে যাতায়াত করছে এবং রাস্তায় ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

ব্যক্তি উদ্যোগ ক্যাটাগরিতে পদক পেয়েছেন শ্রুতি রানী দে। তিনি এলাকায় বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং প্লাস্টিক ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি কার্যক্রম চালাচ্ছেন। পাশাপাশি বাল্যবিবাহ রোধে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং শিশুশ্রমে নিয়োজিত শিশুদের পুনঃশিক্ষার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট নির্মাণ ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত হয়েছে আপলিফট বাংলাদেশ। পাঁচ বছর ধরে তারা নগর এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার অগ্রগতি এবং স্থানীয় পরিবর্তনগুলো নিয়মিত ও দায়িত্বশীলভাবে তুলে ধরছে।

পরিবেশবান্ধব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্যাটাগরিতে পদক পেয়েছে ভাষানটেক স্কুল এন্ড কলেজ। ১৯৮০ সালে যাত্রা শুরু করা এই প্রতিষ্ঠান কেবল শিক্ষাদানেই সীমাবদ্ধ নয়; মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করছে।

সামাজিক সংগঠন ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত হয়েছে উত্তরা পাবলিক লাইব্রেরি। জ্ঞানচর্চা, মানবিক মূল্যবোধ এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় এই প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থী সংবর্ধনা, চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা, আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণ আয়োজন করে আসছে।

প্রাণী সুরক্ষা ও অধিকার রক্ষা ক্যাটাগরিতে পদক পেয়েছে প ফাউন্ডেশন (পিপল ফর এনিমেল ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ)। এই প্রতিষ্ঠান আহত ও বিপন্ন প্রাণী উদ্ধার, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করে, জনসচেতনতা বৃদ্ধি করে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

অ্যাডভোকেসি ক্যাটাগরিতে হাওয়া বেগমকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার, জীবনমান ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন তিনি। নগর কৃষি, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও ওয়াশ (পানি, স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্যবিধি) কর্মসূচির মাধ্যমে বস্তিবাসীর জীবনমান উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন।

সর্বোচ্চ করদাতা ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডকে পদক প্রদান করা হয়েছে।ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষের মতে, এই পদকের মাধ্যমে নাগরিক উদ্যোগকে উৎসাহিত করা হচ্ছে এবং নগর উন্নয়ন ও সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রতি মানুষের মনোযোগ আকৃষ্ট করা সম্ভব হচ্ছে।

/এসএ/