খুলনা
এনসিপির শ্রমিকনেতাকে গুলি: সঙ্গী নারীকে খুঁজছে পুলিশ

এনসিপির শ্রমিকনেতাকে গুলি: সঙ্গী নারীকে খুঁজছে পুলিশ
খুলনা প্রতিনিধি

এনসিপির সহযোগী সংগঠন শ্রমিক শক্তির খুলনা বিভাগীয় প্রধান মোতালেব শিকদারকে গুলির ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা এক নারীকে খুঁজছে পুলিশ। তাদের বাসা থেকে পুলিশ বিভিন্ন মাদকের আলামত সংগ্রহ করেছে। মোতালেব ছাড়াও সেই বাসায় যাতায়াত ছিলো আরও অনেকের।
সোমবার দুপুরে নগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকায় একটি ফ্ল্যাটে মোতালেবকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। গতকাল রবিবার রাতে তিনি তিনতলা ওই ফ্ল্যাটের নিচতলার একটি কক্ষে অবস্থান করছিলেন।
প্রথমে খুজে পাওয়া যাচ্ছিলো না মোতালেবকে গুলি করার স্থান। পরে রাস্তা থেকে রক্তের ফোটা ধরে সোনাডাঙ্গার আল আকসা মসজিদ গলিতে অবস্থিত মুক্তা হাউজ নামের একটি ভবনে প্রবেশ করে পুলিশ। নিচতলার তালাবদ্ধ ফ্লাটে ঢুকেই পাওয়া যায় সব আলামত। সেখানে ছিলো রক্তের ফোটা। একটি গুলির খোসাও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছে, এই বাসায় সব অনৈতিক কার্যক্রম ও মাদক সেবন করা হতো। বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ইয়াবা সেবনের নানা সরঞ্জাম ও বিদেশি মদের বোতল। রাতভর এক সঙ্গে থাকার পর নিজেদের মধ্যে বিবাধের জেরে সোমবার সকালে গুলি করা হয় মোতালেবকে। তারপর তিনি নিজেই পাঁয়ে হেটে বাসা থেকে বের হন। ছুটে যায় হাসপাতালের দিকে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে খুমেক হাসপাতালের সার্জারী ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার পর বাসা তালা মেরে বের হয়ে যায় তার সহযোগীরা। পুলিশ তাদের খোঁজাখুঁজি করছে। পুলিশ বলেছে, চাঁদার টাকা ভাগাভাগি নিয়েই গুলি করা হয়।

পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, রাতে সেখানে মোতালেব শিকদারের সহযোগীরা ইয়াবা সেবন, মদ্যপানসহ অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত ছিলেন। নিজেদের মধ্যে মতবিরোধের জেরে সহযোগীদের কেউ একজন তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিনি রিকশাযোগে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যান। ঘটনার পর থেকে ওই ফ্ল্যাটের ভাড়াটে তন্বীর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।
কেএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, সকালে আমরা তথ্য পাই- এনসিপির একজন গাজী মেডিকেলের সামনে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ঘটনাস্থলে যাই। শুরুতে ঘটনাস্থল ও সাক্ষী পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে এনসিপির ভিকটিমের প্রাইভেটকার পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হয়। লাজফার্মা থেকে একটি ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করি। এতে দেখা যায়, রাত সাড়ে ১২টার দিকে ভিকটিমসহ আরও দুইজন সেখানে আসে এবং কোথাও অবস্থান করে। ওই সূত্র ধরে মুক্তা হাউজে আসি। ওই কক্ষ থেকে মাদকের বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া গেছে, তারা এখানে অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত ছিলেন এবং নিজেদের মধ্যে কোন্দলের কারণেই গুলির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আরও অনেকে জড়িত। মোতালেবকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বাকিদের নাম জানা যাবে। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। গুলিটি তার মাথার ভেতরে ঢোকেনি, চামড়া ভেদ করে বেরিয়ে গেছে। মোতালেব এখন শঙ্কামুক্ত।
মজিদ স্মরণীর মুক্তা হাউজের মালিকের স্ত্রী আশরাফুন্নাহার বলেন, স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে তন্বী নামে এক তরুণী এক মাস আগে নিচতলার ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেয়। তিনি নিজেকে এনজিওকর্মী হিসেবে পরিচয় দিতেন। প্রায়ই বাড়ির বাইরে থাকতেন। তার কক্ষে একাধিক পুরুষের আসা-যাওয়া ছিল। পরে অন্যদের মাধ্যমে তার অসামাজিক কার্যকলাপের বিষয়টি জানতে পেরে এ মাসে বাড়ি ছাড়ার নোটিস দেয়া হয়। তবে ছাড়ার আগেই এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে ছেলের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান মোতালেবের মা রাবেয়া বেগম, স্ত্রী ফাহিমা আক্তার ও তিন বছরের কন্যা। তারা জানান, গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় মোতালেবের সঙ্গে সর্বশেষ মোবাইলে কথা হয়। তখন তিনি জানান, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাদের একজন কর্মী আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তার খোঁজ নিতে সেখানে আছেন। এরপর ডাকবাংলো মোড়ে স্যান্ডেল কিনতে যাবেন- এ কথা বলে ফোন কেটে দেন। রাতে আর যোগাযোগ হয়নি। রাত ১১টার দিকে ফোন পেয়ে জানতে পারেন তাকে গুলি করা হয়েছে। তারা দাবি করেন, জাতীয় নাগরিক পার্টিতে যোগ দেওয়ার কারণে প্রতিপক্ষ তাকে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে।
এনসিপি খুলনা মহানগর সংগঠক হামিম রাহাত বলেন, সোনাডাঙ্গা এলাকায় মোতালেব শিকদার গুলিবিদ্ধ হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, খুলনা সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে নগরীতে অহরহ গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। এসব সন্ত্রাসী গ্রুপ রাজনৈতিক মদদে সক্রিয়। অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার হারুন অর রশিদ বলেন, গুলিটি তার বাম কানের চামড়া ভেদ করে বের হয়ে গেছে। খুলনা সিটি ইমেজিং সেন্টারে তার মাথার স্ক্যান করা হয়েছে, সেখানে গুলির কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। আহত মোতালেব মিয়া এখন শঙ্কামুক্ত।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গুলিবিদ্ধ মোতালেব আগে শ্রমিক লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর তিনি এনসিপির শ্রমিক সংগঠন জাতীয় শ্রমিক শক্তির সঙ্গে যুক্ত হন।

এনসিপির সহযোগী সংগঠন শ্রমিক শক্তির খুলনা বিভাগীয় প্রধান মোতালেব শিকদারকে গুলির ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা এক নারীকে খুঁজছে পুলিশ। তাদের বাসা থেকে পুলিশ বিভিন্ন মাদকের আলামত সংগ্রহ করেছে। মোতালেব ছাড়াও সেই বাসায় যাতায়াত ছিলো আরও অনেকের।
সোমবার দুপুরে নগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকায় একটি ফ্ল্যাটে মোতালেবকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। গতকাল রবিবার রাতে তিনি তিনতলা ওই ফ্ল্যাটের নিচতলার একটি কক্ষে অবস্থান করছিলেন।
প্রথমে খুজে পাওয়া যাচ্ছিলো না মোতালেবকে গুলি করার স্থান। পরে রাস্তা থেকে রক্তের ফোটা ধরে সোনাডাঙ্গার আল আকসা মসজিদ গলিতে অবস্থিত মুক্তা হাউজ নামের একটি ভবনে প্রবেশ করে পুলিশ। নিচতলার তালাবদ্ধ ফ্লাটে ঢুকেই পাওয়া যায় সব আলামত। সেখানে ছিলো রক্তের ফোটা। একটি গুলির খোসাও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছে, এই বাসায় সব অনৈতিক কার্যক্রম ও মাদক সেবন করা হতো। বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ইয়াবা সেবনের নানা সরঞ্জাম ও বিদেশি মদের বোতল। রাতভর এক সঙ্গে থাকার পর নিজেদের মধ্যে বিবাধের জেরে সোমবার সকালে গুলি করা হয় মোতালেবকে। তারপর তিনি নিজেই পাঁয়ে হেটে বাসা থেকে বের হন। ছুটে যায় হাসপাতালের দিকে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে খুমেক হাসপাতালের সার্জারী ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার পর বাসা তালা মেরে বের হয়ে যায় তার সহযোগীরা। পুলিশ তাদের খোঁজাখুঁজি করছে। পুলিশ বলেছে, চাঁদার টাকা ভাগাভাগি নিয়েই গুলি করা হয়।

পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, রাতে সেখানে মোতালেব শিকদারের সহযোগীরা ইয়াবা সেবন, মদ্যপানসহ অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত ছিলেন। নিজেদের মধ্যে মতবিরোধের জেরে সহযোগীদের কেউ একজন তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিনি রিকশাযোগে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যান। ঘটনার পর থেকে ওই ফ্ল্যাটের ভাড়াটে তন্বীর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।
কেএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, সকালে আমরা তথ্য পাই- এনসিপির একজন গাজী মেডিকেলের সামনে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ঘটনাস্থলে যাই। শুরুতে ঘটনাস্থল ও সাক্ষী পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে এনসিপির ভিকটিমের প্রাইভেটকার পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হয়। লাজফার্মা থেকে একটি ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করি। এতে দেখা যায়, রাত সাড়ে ১২টার দিকে ভিকটিমসহ আরও দুইজন সেখানে আসে এবং কোথাও অবস্থান করে। ওই সূত্র ধরে মুক্তা হাউজে আসি। ওই কক্ষ থেকে মাদকের বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া গেছে, তারা এখানে অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত ছিলেন এবং নিজেদের মধ্যে কোন্দলের কারণেই গুলির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আরও অনেকে জড়িত। মোতালেবকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বাকিদের নাম জানা যাবে। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। গুলিটি তার মাথার ভেতরে ঢোকেনি, চামড়া ভেদ করে বেরিয়ে গেছে। মোতালেব এখন শঙ্কামুক্ত।
মজিদ স্মরণীর মুক্তা হাউজের মালিকের স্ত্রী আশরাফুন্নাহার বলেন, স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে তন্বী নামে এক তরুণী এক মাস আগে নিচতলার ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেয়। তিনি নিজেকে এনজিওকর্মী হিসেবে পরিচয় দিতেন। প্রায়ই বাড়ির বাইরে থাকতেন। তার কক্ষে একাধিক পুরুষের আসা-যাওয়া ছিল। পরে অন্যদের মাধ্যমে তার অসামাজিক কার্যকলাপের বিষয়টি জানতে পেরে এ মাসে বাড়ি ছাড়ার নোটিস দেয়া হয়। তবে ছাড়ার আগেই এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে ছেলের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান মোতালেবের মা রাবেয়া বেগম, স্ত্রী ফাহিমা আক্তার ও তিন বছরের কন্যা। তারা জানান, গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় মোতালেবের সঙ্গে সর্বশেষ মোবাইলে কথা হয়। তখন তিনি জানান, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাদের একজন কর্মী আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তার খোঁজ নিতে সেখানে আছেন। এরপর ডাকবাংলো মোড়ে স্যান্ডেল কিনতে যাবেন- এ কথা বলে ফোন কেটে দেন। রাতে আর যোগাযোগ হয়নি। রাত ১১টার দিকে ফোন পেয়ে জানতে পারেন তাকে গুলি করা হয়েছে। তারা দাবি করেন, জাতীয় নাগরিক পার্টিতে যোগ দেওয়ার কারণে প্রতিপক্ষ তাকে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে।
এনসিপি খুলনা মহানগর সংগঠক হামিম রাহাত বলেন, সোনাডাঙ্গা এলাকায় মোতালেব শিকদার গুলিবিদ্ধ হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, খুলনা সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে নগরীতে অহরহ গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। এসব সন্ত্রাসী গ্রুপ রাজনৈতিক মদদে সক্রিয়। অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার হারুন অর রশিদ বলেন, গুলিটি তার বাম কানের চামড়া ভেদ করে বের হয়ে গেছে। খুলনা সিটি ইমেজিং সেন্টারে তার মাথার স্ক্যান করা হয়েছে, সেখানে গুলির কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। আহত মোতালেব মিয়া এখন শঙ্কামুক্ত।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গুলিবিদ্ধ মোতালেব আগে শ্রমিক লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর তিনি এনসিপির শ্রমিক সংগঠন জাতীয় শ্রমিক শক্তির সঙ্গে যুক্ত হন।

এনসিপির শ্রমিকনেতাকে গুলি: সঙ্গী নারীকে খুঁজছে পুলিশ
খুলনা প্রতিনিধি

এনসিপির সহযোগী সংগঠন শ্রমিক শক্তির খুলনা বিভাগীয় প্রধান মোতালেব শিকদারকে গুলির ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা এক নারীকে খুঁজছে পুলিশ। তাদের বাসা থেকে পুলিশ বিভিন্ন মাদকের আলামত সংগ্রহ করেছে। মোতালেব ছাড়াও সেই বাসায় যাতায়াত ছিলো আরও অনেকের।
সোমবার দুপুরে নগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকায় একটি ফ্ল্যাটে মোতালেবকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। গতকাল রবিবার রাতে তিনি তিনতলা ওই ফ্ল্যাটের নিচতলার একটি কক্ষে অবস্থান করছিলেন।
প্রথমে খুজে পাওয়া যাচ্ছিলো না মোতালেবকে গুলি করার স্থান। পরে রাস্তা থেকে রক্তের ফোটা ধরে সোনাডাঙ্গার আল আকসা মসজিদ গলিতে অবস্থিত মুক্তা হাউজ নামের একটি ভবনে প্রবেশ করে পুলিশ। নিচতলার তালাবদ্ধ ফ্লাটে ঢুকেই পাওয়া যায় সব আলামত। সেখানে ছিলো রক্তের ফোটা। একটি গুলির খোসাও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছে, এই বাসায় সব অনৈতিক কার্যক্রম ও মাদক সেবন করা হতো। বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ইয়াবা সেবনের নানা সরঞ্জাম ও বিদেশি মদের বোতল। রাতভর এক সঙ্গে থাকার পর নিজেদের মধ্যে বিবাধের জেরে সোমবার সকালে গুলি করা হয় মোতালেবকে। তারপর তিনি নিজেই পাঁয়ে হেটে বাসা থেকে বের হন। ছুটে যায় হাসপাতালের দিকে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে খুমেক হাসপাতালের সার্জারী ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার পর বাসা তালা মেরে বের হয়ে যায় তার সহযোগীরা। পুলিশ তাদের খোঁজাখুঁজি করছে। পুলিশ বলেছে, চাঁদার টাকা ভাগাভাগি নিয়েই গুলি করা হয়।

পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, রাতে সেখানে মোতালেব শিকদারের সহযোগীরা ইয়াবা সেবন, মদ্যপানসহ অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত ছিলেন। নিজেদের মধ্যে মতবিরোধের জেরে সহযোগীদের কেউ একজন তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিনি রিকশাযোগে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যান। ঘটনার পর থেকে ওই ফ্ল্যাটের ভাড়াটে তন্বীর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।
কেএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, সকালে আমরা তথ্য পাই- এনসিপির একজন গাজী মেডিকেলের সামনে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ঘটনাস্থলে যাই। শুরুতে ঘটনাস্থল ও সাক্ষী পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে এনসিপির ভিকটিমের প্রাইভেটকার পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হয়। লাজফার্মা থেকে একটি ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করি। এতে দেখা যায়, রাত সাড়ে ১২টার দিকে ভিকটিমসহ আরও দুইজন সেখানে আসে এবং কোথাও অবস্থান করে। ওই সূত্র ধরে মুক্তা হাউজে আসি। ওই কক্ষ থেকে মাদকের বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া গেছে, তারা এখানে অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত ছিলেন এবং নিজেদের মধ্যে কোন্দলের কারণেই গুলির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আরও অনেকে জড়িত। মোতালেবকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বাকিদের নাম জানা যাবে। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। গুলিটি তার মাথার ভেতরে ঢোকেনি, চামড়া ভেদ করে বেরিয়ে গেছে। মোতালেব এখন শঙ্কামুক্ত।
মজিদ স্মরণীর মুক্তা হাউজের মালিকের স্ত্রী আশরাফুন্নাহার বলেন, স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে তন্বী নামে এক তরুণী এক মাস আগে নিচতলার ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেয়। তিনি নিজেকে এনজিওকর্মী হিসেবে পরিচয় দিতেন। প্রায়ই বাড়ির বাইরে থাকতেন। তার কক্ষে একাধিক পুরুষের আসা-যাওয়া ছিল। পরে অন্যদের মাধ্যমে তার অসামাজিক কার্যকলাপের বিষয়টি জানতে পেরে এ মাসে বাড়ি ছাড়ার নোটিস দেয়া হয়। তবে ছাড়ার আগেই এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে ছেলের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান মোতালেবের মা রাবেয়া বেগম, স্ত্রী ফাহিমা আক্তার ও তিন বছরের কন্যা। তারা জানান, গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় মোতালেবের সঙ্গে সর্বশেষ মোবাইলে কথা হয়। তখন তিনি জানান, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাদের একজন কর্মী আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তার খোঁজ নিতে সেখানে আছেন। এরপর ডাকবাংলো মোড়ে স্যান্ডেল কিনতে যাবেন- এ কথা বলে ফোন কেটে দেন। রাতে আর যোগাযোগ হয়নি। রাত ১১টার দিকে ফোন পেয়ে জানতে পারেন তাকে গুলি করা হয়েছে। তারা দাবি করেন, জাতীয় নাগরিক পার্টিতে যোগ দেওয়ার কারণে প্রতিপক্ষ তাকে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে।
এনসিপি খুলনা মহানগর সংগঠক হামিম রাহাত বলেন, সোনাডাঙ্গা এলাকায় মোতালেব শিকদার গুলিবিদ্ধ হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, খুলনা সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে নগরীতে অহরহ গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। এসব সন্ত্রাসী গ্রুপ রাজনৈতিক মদদে সক্রিয়। অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার হারুন অর রশিদ বলেন, গুলিটি তার বাম কানের চামড়া ভেদ করে বের হয়ে গেছে। খুলনা সিটি ইমেজিং সেন্টারে তার মাথার স্ক্যান করা হয়েছে, সেখানে গুলির কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। আহত মোতালেব মিয়া এখন শঙ্কামুক্ত।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গুলিবিদ্ধ মোতালেব আগে শ্রমিক লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর তিনি এনসিপির শ্রমিক সংগঠন জাতীয় শ্রমিক শক্তির সঙ্গে যুক্ত হন।




