শিরোনাম

সালমান শাহ হত্যা মামলার আসামিদের সম্পদ জব্দ করার আবেদন

আদালত-সংবাদদাতা
সালমান শাহ হত্যা মামলার আসামিদের সম্পদ জব্দ করার আবেদন
সালমান শাহ (ফাইল ছবি)

চিত্রনায়ক সালমান শাহকে (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) হত্যার অভিযোগে দায়েরকৃত নতুন মামলায় তার সাবেক স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ জব্দের আবেদন করেছে বাদীপক্ষ। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে মামলার বাদী আলমগীর কুমকুমের পক্ষে অ্যাডভোকেট ফারুক আহাম্মদ এই আবেদন দাখিল করেন।

শুনানি শেষে এখনও পর্যন্ত আদেশ হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের কর্মকর্তা উপ পরিদর্শক (এসআই) জিন্নাত আলী।

আদালতে ওই আবেদন শুনানিতে আইনজীবী ফারুক আহাম্মদ বলেন, ‘মামলার আসামিরা ২৯ বছর আদালতে অনুপস্থিত থেকে ন্যায় বিচার ব্যাহত করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারের স্বার্থে, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এজাহারভুক্ত সকল আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি জব্দ করার প্রার্থনা করছি।’

গত বছরের ২০ অক্টোবর তার স্ত্রী সামিরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মধ্যরাতে মামলা দায়ের করেন সালমানের মামা আলমগীর কুমকুম।

মামলার এজাহার নামীয় অন্য আসামিরা হলেন- প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক ডন, লতিফা হক লুসি, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, মেফিয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আবদুস সাত্তার, সাজু ও রিজভী আহমেদ ফরহাদ।

এজাহারে বলা হয়, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার বোন নিলুফার জামান চৌধুরী, বোনের স্বামী কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী ও তাদের ছেলে শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে তারা জানতে পারেন সালমান ঘুমাচ্ছেন। কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে জানান, সালমানের কিছু হয়েছে। দ্রুত তারা বাসায় ফিরে দেখেন শয়নকক্ষে সালমানের নিথর দেহের পাশে কয়েকজন নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছেন। পাশের কক্ষে সামীরার আত্মীয় রুবি বসে ছিলেন। সালমানের মা চিৎকার করে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করেন। পথে তারা তার গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীল দাগ লক্ষ্য করেন। পরে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, সালমান শাহ অনেক আগেই মারা গেছেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, সালমান শাহের বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী মৃত্যুর আগে ছেলের মৃত্যুকে হত্যা বলে সন্দেহ করেন। ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তিনি একটি দরখাস্ত দাখিল করেন। এতে রমনা থানার অপমৃত্যু মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ এবং সিআইডি’র মাধ্যমে তদন্তের আবেদন করা হয়। সালমানের বাবার মৃত্যুর পর আলমগীর তার বোনের পক্ষ থেকে মামলাটি পরিচালনা করছেন। মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ মৃত্যুবরণ করলে প্রমাণ সাপেক্ষে তারা দায়মুক্তি পাবেন। তবে, এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা পলাতক আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজশে সালমান শাহকে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়ক সালমান শাহ (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) ঢাকার ইস্কাটনের ফ্ল্যাটে মারা যান।

/টিই/