শিরোনাম

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জুলাই হত্যার দুই মামলায় পরোয়ানা

নিজস্ব প্রতিবেদক
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জুলাই হত্যার দুই মামলায় পরোয়ানা

জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ট্রাকচালক মো. হোসেন এবং অটোরিকশা চালক সবুজ হত্যা মামলায় শেখ হাসিনাসহ পলাতক ৪১ জনকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুই মামলায় ৬৪ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে ৪১ জন ‘পলাতক’ থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর হারুন অর রশীদ এবং কাইয়ুম হোসেন নয়ন।

শেখ হাসিনা এ দুই মামলারই আসামি। দুই মামলাতেই তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ক্ষমতা হারানোর পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। জুলাই হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এরইমধ্যে তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। এছাড়া প্লট দুর্নীতির ৫ মামলায় তাকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জুলাই হত্যার আরো কয়েক ডজন মামলায় আসামির তালিকায় তার নাম রয়েছে।

হোসেন হত্যা

২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরে হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। আহত হন সাজ্জাদ ও শাহিন। হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় তার মা মোসাম্মৎ রীনা বেগম ২০২৪ সালের ৩১ অগাস্ট শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনকে আসামি করে গত ২৩ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মোহাম্মদপুর থানার এসআই মো. আকরামুজ্জামান। এ মামলায় ২০ জন পলাতক রয়েছেন। তাদের মধ্যে শেখ হাসিনা ছাড়াও রয়েছেন– আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান, আসিফ আহম্মেদ, তারেকুজ্জামান রাজিব, শেখ বজলুর রহমান, নুর মোহাম্মদ সেন্টু ।

সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খানসহ চারজন এ মামলায় কারাগারে আছেন। জামিনে রয়েছেন ১০ জন।

সবুজ হত্যা

২০২৪ সালের ৪ আগস্ট মোহাম্মদপুরে ময়ূর ভিলার সামনে গুলিবিদ্ধ হন ২২ বছরের সবুজ। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। এ ঘটনায় সবুজের ভাই মনির হোসেন ১ সেপ্টেম্বর ৯৮ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা ৪৫০-৫০০ জনকে আসামি করে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন ।

মামলার এজাহারে শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামালের নাম ছিল না। তবে তদন্ত শেষে গত ২৭ নভেম্বর ওই তিনজনসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মোহাম্মদপুর থানার এসআই মো. মাজহারুল ইসলাম। তাদের মধ্যে ২১ জন পলাতক রয়েছেন। তাদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, নুরনবী চৌধুরী শাওনও রয়েছেন।

সাদেক খানসহ তিনজন এ মামলায় কারাগারে রয়েছেন। জামিনে রয়েছেন ৬ জন।

/এফসি/