শিরোনাম

ইউরোপকে ভয় দেখিয়ে কিছু আদায় করা যাবে না: ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী

সিটিজেন-ডেস্ক­
ইউরোপকে ভয় দেখিয়ে কিছু আদায় করা যাবে না: ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকস (ছবি: সংগৃহীত)

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ইউরোপের আট দেশের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুল্ক আরোপের ঘোষণার নিন্দা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকস। রবিবার (১৮ জানুয়ারি) ফেসবুকে দেয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘ইউরোপ কখনো জিম্মি হবে না।’

এর আগে নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ইউরোপের আটটি দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো সব ধরনের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্কারোপের ঘোষণা দেন। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এ শুল্ক কার্যকর হবে, যা পরে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে এবং কোনো চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত শুল্ক প্রযোজ্য থাকবে।

ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেন, গ্রিনল্যান্ড দখলে কেউ তার প্রস্তাবের বিরোধিতা করলে ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের আট মিত্র দেশের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করা হবে। এই দেশগুলো হলো ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, সুইডেন ও যুক্তরাজ্য।

ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে অঞ্চলটি নেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি। তার এই বক্তব্য ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে লেখেন, তারা সহযোগিতা চান এবং কোনো সংঘাত চান না। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইউরোপকে ভয় দেখিয়ে কিছু আদায় করা যাবে না। ইউরোপীয় ঐক্যের মূল মূল্যবোধে অটল থাকার গুরুত্বও তিনি তুলে ধরেন।

এদিকে যেসব দেশকে শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়া হয়েছে, তারা একসঙ্গে একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছে। এতে বলা হয়, ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা পরিস্থিতিকে একটি বিপজ্জনক পথে নিয়ে যাচ্ছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শুল্কের হুমকি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। একই সঙ্গে তারা জানায়, ‘ডেনমার্ক রাজ্য ও গ্রিনল্যান্ডের জনগণের প্রতি আমরা পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছি।’ন্যাটো জোটের সদস্য দেশগুলো জানায়, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার করা তাদের সবার যৌথ স্বার্থ। তারা সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখন্ডতার নীতির প্রতি দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ এবং এসব নীতির ভিত্তিতেই সংলাপে প্রস্তুত।

এদিকে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে জানান, তিনি গ্রিনল্যান্ড ও আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, এই বিষয়ে কাজ চলবে এবং দাভোসে এই সপ্তাহের শেষ দিকে ট্রাম্পের সঙ্গে আবার দেখা হবে বলে আশা করছেন। গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে ট্রাম্পের হুমকির বিরুদ্ধে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড—উভয় জায়গাতেই জনরোষ এখনো কমেনি। শুল্ক ঘোষণার আগেই শনিবার গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুক ও ডেনমার্কের বিভিন্ন শহরে ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখল পরিকল্পনার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়।

এই বিক্ষোভের সময়ই যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধি দল কোপেনহেগেন সফর করে। প্রতিনিধি দলের প্রধান, ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস কুনস বলেন, ট্রাম্পের বক্তব্য গঠনমূলক নয়।

যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত গ্রিনল্যান্ডের প্রতিনিধি জানান, সর্বশেষ ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে গ্রিনল্যান্ডবাসীর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল তারা যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে চান কি না। তখন মাত্র ৬ শতাংশ মানুষ এতে সমর্থন জানিয়েছিলেন, আর ৮৫ শতাংশ ছিলেন বিপক্ষে। এদিকে সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, বেশিরভাগ মার্কিন নাগরিকও গ্রিনল্যান্ড দখলের পক্ষে নন।

সূত্র : বিবিসি

এসজে/টিই/