শিরোনাম

সৌদি আরবে ২ লাখ ২১ হাজার কেজি স্বর্ণের সন্ধান

সিটিজেন-ডেস্ক­
সৌদি আরবে ২ লাখ ২১ হাজার কেজি স্বর্ণের সন্ধান
ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত খনন কোম্পানি মাআদেন জানিয়েছে, দেশটির চারটি খনি এলাকায় নতুন করে মোট ৭৮ লাখ আউন্স (২ লাখ ২১ হাজার কেজির বেশি) স্বর্ণের মজুত খুঁজে পাওয়া গেছে। এই বিশাল আবিষ্কার সৌদি আরবের খনিজ সম্পদ আহরণ এবং বিশ্বমানের একটি ‘গোল্ড ফ্র্যাঞ্চাইজি’ গড়ার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যকে বহুগুণ ত্বরান্বিত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এর আগে মাআদেনের ভূতাত্ত্বিক জরিপ ও ড্রিলিং কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ৯০ লাখ আউন্সের বেশি স্বর্ণের অস্তিত্ব শনাক্ত করা হয়েছিল। পরে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও বার্ষিক রিপোর্টিং ফ্যাক্টরের সঙ্গে সমন্বয় করার পর নিট ৭৮ লাখ আউন্স স্বর্ণের মজুত চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই বিপুল মজুত মূলত চারটি প্রধান অঞ্চলে ছড়িয়ে রয়েছে:

মানসুরাহ মাসসারাহ: বর্তমানে এটি মাআদেনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্বর্ণ প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গত এক বছরে শুধু এই প্রকল্প থেকেই প্রায় ৩০ লাখ আউন্স স্বর্ণের নতুন মজুত যুক্ত হয়েছে।

ওয়াদি আল জাও: সম্পূর্ণ নতুনভাবে আবিষ্কৃত এই এলাকায় প্রথম ধাপের ড্রিলিংয়েই ৩০ দশমিক ৮ লাখ আউন্স স্বর্ণের সন্ধান মিলেছে। এত বড় পরিমাণ মজুত শনাক্ত হওয়ায় ভূতাত্ত্বিকদের মধ্যেও বিস্ময় সৃষ্টি হয়েছে।

উরুক ২০/২১ ও উম্ম আস সালাম: আরবের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত এই দুটি খনি এলাকা থেকে সম্মিলিতভাবে ১৬ দশমিক ৭ লাখ আউন্স স্বর্ণের মজুত নিশ্চিত করা হয়েছে।

মাআদেনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বব উইল্ট এই সাফল্যকে কোম্পানির বৈশ্বিক অগ্রযাত্রার মাইলফলক হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, ‘এই ফলাফল কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এটি আমাদের দীর্ঘমেয়াদি ড্রিলিং এবং বিনিয়োগ কৌশলের বাস্তব প্রতিফলন। আমরা সৌদি আরবের ভূগর্ভস্থ সম্পদকে উন্মোচন করতে যে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছি, এটি তারই ফল।’

উইল্ট আরও জানান, এই ক্রমবর্ধমান মজুত সরাসরি কোম্পানির ভবিষ্যৎ নগদ অর্থ প্রবাহ বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। এর ফলে মাআদেন কেবল আঞ্চলিক নয়, বরং বিশ্ববাজারের অন্যতম শীর্ষ খনিজ সরবরাহকারী হিসেবে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করবে।

মাআদেনের ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প ‘মানসুরা মাসারাহ’ ইতোমধ্যে একটি বিশাল খনিজ ভান্ডারে রূপ নিয়েছে। বর্তমানে এই প্রকল্পে মোট স্বর্ণের মজুত দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ দশমিক ৪ মিলিয়ন আউন্সে। আকরিকের মানও সন্তোষজনক– প্রতি টন আকরিক থেকে গড়ে ২ দশমিক ৮ গ্রাম স্বর্ণ পাওয়া যাচ্ছে।

ভূতাত্ত্বিকেরা জানিয়েছেন, খনিজ স্তরটি ভূগর্ভের অনেক গভীর পর্যন্ত বিস্তৃত এবং এখনো প্রকৃত গভীরতা নির্ণয় করা যায়নি। অর্থাৎ ২০২৬ সালজুড়ে চলমান ড্রিলিংয়ে এই মজুত আরও বাড়তে পারে।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ভিশন ২০৩০ কর্মসূচির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হচ্ছে খনি শিল্পের উন্নয়ন। তেলের ওপর দীর্ঘদিনের নির্ভরতা কমিয়ে খনিজ সম্পদকে জাতীয় আয়ের তৃতীয় প্রধান উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই এই কৌশলের মূল লক্ষ্য।

মাআদেনের সাম্প্রতিক স্বর্ণ আবিষ্কার শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্য নয়; এটি সৌদি আরবের অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ কৌশলে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ আবিষ্কার দেশটির খনি খাতের সম্ভাবনা আরও দৃঢ় করেছে এবং ভিশন ২০৩০ বাস্তবায়নের পথে সৌদি অর্থনীতিকে কয়েক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছে।

সূত্র: গালফ নিউজ, আরব নিউজ

/জেএইচ/