শিরোনাম

ইরানে প্রাণহানির জন্য ট্রাম্পকে দায়ী করলেন খামেনি

সিটিজেন-ডেস্ক­
ইরানে প্রাণহানির জন্য ট্রাম্পকে দায়ী করলেন খামেনি
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ছবি: সংগৃহীত

ইরানে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা সরকারবিরোধী প্রাণঘাতী বিক্ষোভ উসকে দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দায়ী করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।

মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো বলছে, ইরানজুড়ে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা বিক্ষোভে তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমের ভাষ্য অনুযায়ী শনিবার (১৭ জানুয়ারি) খামেনি বলেছেন, ইরানি জাতির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট যে হত্যাযজ্ঞ, ক্ষয়ক্ষতি ও গ্লানি চাপিয়ে দিয়েছেন তার জন্য আমরা তাকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করছি। তিনি বলেন, আমরা দেশকে টেনে যুদ্ধে নিয়ে যাবো না, কিন্তু দেশীয় বা আন্তর্জাতিক অপরাধীদের শাস্তি না দিয়ে ছাড়বো না।

ট্রাম্পকে উদ্দেশ করেই খামেনি এ কথা বলেছেন বলে ধারণা পশ্চিমা গণমাধ্যমের।

ইরানে অর্থনৈতিক দুরবস্থাকে কেন্দ্র করে ২৮ ডিসেম্বর বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পরে তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটির বিক্ষোভকারীরা ধর্মীয় নেতাদের শাসন অবসানের ডাক দেন।

এরপর থেকে ট্রাম্প বারবার দেশটিতে হস্তক্ষেপের হুমকি দেন। ইরান বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করলে ‘অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ’ নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

কিন্তু শুক্রবার সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে ট্রাম্প তেহরানের নেতাদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ইরানের নেতারা গণফাঁসি বাতিল করেছে। ইরান বলেছে, লোকজনকে ফাঁসি দেওয়ার ‘কোনো পরিকল্পনা নেই’।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি জানিয়েছেন, দেশজুড়ে চলা বিক্ষোভের সময় ‘কয়েক হাজার মৃত্যুর’ ঘটনা ঘটেছে, এটি কয়েক বছরের মধ্যে ইরানে হওয়া সবচেয়ে গুরুতর অস্থিরতা। এই সহিংসতা সংগঠিত করার জন্য তিনি ইরানের দীর্ঘদিনের শত্রু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেন।

তিনি বলেন, যারা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জড়িত তারা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে ও কয়েক হাজার জনকে হত্যা করেছে। তারা অপরাধ ও গুরুতর মানহানি করেছে। এসব লোকজন অগ্নিসংযোগ করেছে, সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করেছে আর বিশৃঙ্খলা উস্কে দিয়েছে।

শনিবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার গোষ্ঠী এইচআরএএনএ বলেছে, তারা ইরানে ৩ হাজার ৯০ জনের মৃত্যুর খবর যাচাই করে এর সত্যতার বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে। এদের মধ্যে ২ হাজার ৮৮৫ জনই বিক্ষোভকারী। আর এ পর্যন্ত ২২ হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

/এফসি/