শিরোনাম

৮০০ বিক্ষোভকারীর ফাঁসি স্থগিত করেছে ইরান: হোয়াইট হাউস

সিটিজেন-ডেস্ক­
৮০০ বিক্ষোভকারীর ফাঁসি স্থগিত করেছে ইরান: হোয়াইট হাউস
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট। ছবি: সংগৃহীত

সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় গ্রেপ্তার ৮০০ বিক্ষোভকারীর ফাঁসি স্থগিত করেছে ইরান। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট।

ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রেসিডেন্টের কাছে তথ্য এসেছে যে ইরান ৮০০ জন বিক্ষোভকারীর ফাঁসির দণ্ড স্থগিত করেছে। এই বিক্ষোভকারীদের বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ফাঁসি হওয়ার কথা ছিল।”

তিনি আরও জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্রদের চাপের পর ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গত প্রায় ২০ দিন ধরে দেশজুড়ে তীব্র সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রীতিমতো কেঁপে ওঠে ইরানসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্য। ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লাবের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা ইসলামি প্রজাতন্ত্র সরকার তাদের ৪৭ বছরের শাসনামলে এ ধরনের তীব্র আন্দোলন আগে কখনো দেখেনি।

এই আন্দোলন-বিক্ষোভ উস্কে ওঠার প্রাথমিক কারণ দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতি। দীর্ঘদিন ধরে মুদ্রার অবমূল্যায়নের ফলে ইরানি রিয়েল বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রার মধ্যে একটি হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়েলের মান দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫। অর্থাৎ, এক ডলারের জন্য ইরানে ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫ ইরানি রিয়েল পাওয়া যাচ্ছে।

জাতীয় মুদ্রার এই দুর্বল অবস্থার কারণে ইরানে দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি চলছে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে সাধারণ মানুষ রীতিমতো হিমসিম খাচ্ছেন।

এই পরিস্থিতিতে গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেন। এই ধর্মঘট থেকেই দেশের বিক্ষোভ আন্দোলন শুরু হয়।

এরপর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সব শহর ও গ্রামে বিক্ষোভ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রতিদিনই তা তীব্র রূপ নিতে থাকে। বর্তমানে পুরো দেশকে কার্যত অচল করে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।

বিক্ষোভ দমন করতে ইরান সরকার ইতোমধ্যে ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করেছে এবং দেশজুড়ে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনীও মোতায়েন করেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনীর সংঘর্ষে ইতোমধ্যে ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এছাড়া আরও হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সূত্র : এএফপি

/জেএইচ/