বিক্ষোভে কয়েক হাজার নিহতের কথা স্বীকার করলেন খামেনি

বিক্ষোভে কয়েক হাজার নিহতের কথা স্বীকার করলেন খামেনি
সিটিজেন-ডেস্ক

অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকে ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকে ইরানের রাজধানী তেহরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে এই বিক্ষোভ দেশটির বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। এই বিক্ষোভে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। যদিও তার এ স্বীকারোক্তি কিছুটা অস্বাভাবিক। কারণ, দেশটিতে এর আগে যেসব বিক্ষোভ হয়েছে, সেগুলোর হতাহতের সংখ্যা নিয়ে মন্তব্য করা থেকে তিনি সব সময় বিরত থেকেছেন।
তবে বিক্ষোভ চলাকালে ইরানে ঠিক কী ঘটেছে এবং ভবিষ্যতে কী হতে পারে—তা নিয়ে দেশটির সরকার, বিদেশে অবস্থানকারী বিরোধী শক্তি এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যা বলছেন, তাতে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।
বিক্ষোভের নেপথ্যে কী ছিল
অর্থনৈতিক অসন্তোষ ও ডলারের বিপরীতে ইরানি মুদ্রা রিয়ালের মান কমে যাওয়ায় গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানের ব্যবসা ও বাণিজ্যিক এলাকা গ্র্যান্ড বাজারে ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। যা কয়েক দিনের মধ্যে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয়। ইরানের সরকারি কর্মকর্তা ও গণমাধ্যম, বিদেশভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এবং মাঠপর্যায়ের প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ৮ ও ৯ জানুয়ারির রাত ছিল সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী।

ইরানের চিকিৎসা পরীক্ষক কর্তৃপক্ষের (ফরেনসিক) প্রধান আব্বাস মাসজেদি আরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেন, নিহত ব্যক্তিদের অনেককে খুব কাছ থেকে বা ছাদ থেকে বুকে ও মাথায় গুলি করা হয়েছে। মারাত্মকভাবে জখম করাই ছিল এভাবে গুলি করার উদ্দেশ্য। এ ছাড়া বিক্ষোভকারীদের অধিকাংশ ছিলেন তরুণ-তরুণী। তাদের অনেকের বয়স ছিল ২০-এর কোঠায়।
ইরান সরকার গত ৮ জানুয়ারি রাতে সারা দেশে ইন্টারনেট–সেবা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেয়। একই সঙ্গে মুঠোফোন যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। ফলে জরুরি প্রয়োজনে উদ্ধারকাজে নিয়োজিত সংস্থাগুলোকে ফোন করাও সম্ভব হয়নি। দেশটিতে এভাবে ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনা নজিরবিহীন। প্রায় দুই সপ্তাহ পর গত রোববার থেকে ইন্টারনেট–সেবা ধীরে ধীরে সীমিত পরিসরে শুরু হয়। তবে দেশটির ৯ কোটি জনসংখ্যার অধিকাংশই এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। আন্দোলন চলাকালে ইন্টারনেট–সেবা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকায় বিক্ষোভের ভিডিও ইরানের বাইরে তেমন একটি ছড়াতে পারেনি।
ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দেশের ভেতরে ফোনে যোগাযোগ (লোকাল কর), এসএমএস এবং বিদেশে ফোন করার সেবা চালু হয়েছে। সীমিত কিছু সেবা দেয় এমন একটি স্থানীয় ইন্টারনেট (নেটওয়ার্ক) কার্যক্রম শুরু করেছে। রাস্তায় বর্তমানে বিক্ষোভ নেই বললে চলে। তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারের মতো বিক্ষোভের প্রাণকেন্দ্রসহ ইরানের বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা বাহিনীর হাজার হাজার সশস্ত্র সদস্য চেকপোস্ট বসিয়ে টহল দেওয়া শুরু করেছেন।

ইরান সরকার যা বলছে
ইরানের রাজনৈতিক, সামরিক ও বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা প্রায় প্রতিদিন বলছেন, বিক্ষোভের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইন্ধন জুগিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, বিভিন্ন বিদেশি শক্তি বিরোধীদের অস্ত্র ও অর্থ দিয়েছে। এ ছাড়া আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি অভিযোগ করেন, ট্রাম্প ‘অপরাধী’। কারণ, তিনি এ অস্থিরতার সঙ্গে নিজেকে একাধিকবার সরাসরি জড়িয়েছেন।
ইরান সরকারের ভাষ্যমতে, হাজার হাজার মানুষ হত্যার জন্য রাষ্ট্রীয় বাহিনী নয়, বরং সশস্ত্র ও প্রশিক্ষিত ‘সন্ত্রাসীরা’ সরাসরি দায়ী। সরকারি কর্মকর্তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষে কাজ করা ব্যক্তিরা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ভিন্ন খাতে পরিচালনা করতে গুলি ও ছুরি চালিয়েছে।
যদিও বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা বলেছেন, যারা ‘দাঙ্গায়’ অংশ নিয়েছে, তাদের দ্রুত শাস্তি দেওয়া হবে। কোনো দয়া দেখানো হবে না। সর্বোচ্চ আদালত ও সরকারি প্রসিকিউটরের অফিস রোববার ঘোষণা দিয়েছে, বিক্ষোভ–সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য একটি যৌথ ওয়ার্ক গ্রুপ গঠন করা হয়েছে। এদিকে বিদেশভিত্তিক পর্যবেক্ষক এবং ইরানের বাইরে থাকা বিরোধীদের দাবি, অধিকাংশ বিক্ষোভকারী রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে প্রাণ হারিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সির (এইচআরএএনএ) সর্বশেষ তথ্যমতে, তারা ৩ হাজার ৩০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করতে পেরেছে। পাশাপাশি আরও ৪ হাজার ৩০০-এর বেশি মৃত্যুর খবর তারা যাচাই করে দেখছে। বিক্ষোভে ২ হাজার ১০৭ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। গ্রেপ্তার হয়েছেন ২৪ হাজারের বেশি মানুষ।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স গত রবিবার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানের এক কর্মকর্তার বরাতে জানায়, বিক্ষোভে অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য প্রায় ৫০০ জন। অধিকাংশ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ইরানের উত্তর-পশ্চিমের কুর্দি সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকায়। যদিও আল–জাজিরা হতাহতের এসব পরিসংখ্যান স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
বিদেশ থেকে পরিচালিত কয়েকটি ইরানি সংবাদমাধ্যমের দাবি, ইরানি কর্তৃপক্ষ নিহত বিক্ষোভকারীদের পরিবারের কাছ থেকে ‘বুলেট মানি’, তথা গুলির দাম চেয়েছে। এ অর্থ দিলেই নিহত ব্যক্তিদের কবর দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। অন্যথায় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের এমন নথিতে সই করতে বলা হয়েছে, যেখানে নিহত ব্যক্তিদের বিক্ষোভকারী নয় বরং ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নিয়ন্ত্রণাধীন আধা সামরিক বাহিনী বাজিসের সদস্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু ইরান সরকার এ দুই দাবি অস্বীকার করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বক্তব্য
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কর্মকর্তারা ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্বের সম্ভাব্য উৎখাতের কথা কয়েক মাস ধরে প্রকাশ্যে বলে আসছেন। গত বছরের জুনের ১২ দিনের ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় এ ধরনের বক্তব্য জোরালো হয়।
বিদেশভিত্তিক পর্যবেক্ষক এবং ইরানের বাইরে থাকা বিরোধীদের দাবি, অধিকাংশ বিক্ষোভকারী রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে প্রাণ হারিয়েছেন। সাম্প্রতিক বিক্ষোভের চরম মুহূর্তে ট্রাম্প ইরানের জনগণকে রাস্তা না ছাড়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেছেন, ‘সাহায্য আসছে’। কিন্তু পরে তিনি এ অবস্থান থেকে কিছুটা সরে আসেন এবং বলেন, ইরান ৮০০-এর বেশি রাজনৈতিক বন্দীর পরিকল্পিত মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করেছে। তাই তিনি ইরানের নেতৃত্বের প্রতি ‘গভীর শ্রদ্ধা’ প্রকাশ করেন।
তবে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিতে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ৮০০ রাজনৈতিক কারাবন্দীর মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ ট্রাম্পের এই দাবির প্রতিক্রিয়ায় আলী সালেহী নামে ইরানের একজন প্রসিকিউটর বলেছেন, ‘প্রসিডেন্টে ট্রাম্প ‘অনেক উল্টাপাল্টা কথা বলছেন’। আমরা বুঝেশুনে ও দ্রুত সাড়া দিব’।
এতকিছুর পরেও ইরান নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মন্তব্য করা বন্ধ করেননি। শনিবার তিনি খামেনির ৩৭ বছরের শাসন শেষ করার আহ্বান জানান এবং তাঁকে ‘অসুস্থ মানুষ’ বলে মন্তব্য করেন।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের সাম্প্রতিক বিক্ষোভ নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। তবে ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান’ জানিয়েছে, নেতানিয়াহু নিজ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ইরানের বিক্ষোভ নিয়ে সাক্ষাৎকার দেওয়া বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে নেতানিয়াহুর এ নির্দেশের আগে দেশটির ঐতিহ্যবিষয়ক মন্ত্রী আমিচাই এলিয়াহু বলেছিলেন, ইসরায়েলের গুপ্তচর (অপারেটিভরা) ‘এই মুহূর্তে’ ইরানে সক্রিয় রয়েছেন। যেমনটি তাঁরা ১২ দিনের যুদ্ধের সময় সক্রিয় ছিলেন।
সূত্র: আল জাজিরা

অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকে ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকে ইরানের রাজধানী তেহরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে এই বিক্ষোভ দেশটির বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। এই বিক্ষোভে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। যদিও তার এ স্বীকারোক্তি কিছুটা অস্বাভাবিক। কারণ, দেশটিতে এর আগে যেসব বিক্ষোভ হয়েছে, সেগুলোর হতাহতের সংখ্যা নিয়ে মন্তব্য করা থেকে তিনি সব সময় বিরত থেকেছেন।
তবে বিক্ষোভ চলাকালে ইরানে ঠিক কী ঘটেছে এবং ভবিষ্যতে কী হতে পারে—তা নিয়ে দেশটির সরকার, বিদেশে অবস্থানকারী বিরোধী শক্তি এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যা বলছেন, তাতে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।
বিক্ষোভের নেপথ্যে কী ছিল
অর্থনৈতিক অসন্তোষ ও ডলারের বিপরীতে ইরানি মুদ্রা রিয়ালের মান কমে যাওয়ায় গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানের ব্যবসা ও বাণিজ্যিক এলাকা গ্র্যান্ড বাজারে ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। যা কয়েক দিনের মধ্যে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয়। ইরানের সরকারি কর্মকর্তা ও গণমাধ্যম, বিদেশভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এবং মাঠপর্যায়ের প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ৮ ও ৯ জানুয়ারির রাত ছিল সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী।

ইরানের চিকিৎসা পরীক্ষক কর্তৃপক্ষের (ফরেনসিক) প্রধান আব্বাস মাসজেদি আরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেন, নিহত ব্যক্তিদের অনেককে খুব কাছ থেকে বা ছাদ থেকে বুকে ও মাথায় গুলি করা হয়েছে। মারাত্মকভাবে জখম করাই ছিল এভাবে গুলি করার উদ্দেশ্য। এ ছাড়া বিক্ষোভকারীদের অধিকাংশ ছিলেন তরুণ-তরুণী। তাদের অনেকের বয়স ছিল ২০-এর কোঠায়।
ইরান সরকার গত ৮ জানুয়ারি রাতে সারা দেশে ইন্টারনেট–সেবা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেয়। একই সঙ্গে মুঠোফোন যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। ফলে জরুরি প্রয়োজনে উদ্ধারকাজে নিয়োজিত সংস্থাগুলোকে ফোন করাও সম্ভব হয়নি। দেশটিতে এভাবে ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনা নজিরবিহীন। প্রায় দুই সপ্তাহ পর গত রোববার থেকে ইন্টারনেট–সেবা ধীরে ধীরে সীমিত পরিসরে শুরু হয়। তবে দেশটির ৯ কোটি জনসংখ্যার অধিকাংশই এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। আন্দোলন চলাকালে ইন্টারনেট–সেবা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকায় বিক্ষোভের ভিডিও ইরানের বাইরে তেমন একটি ছড়াতে পারেনি।
ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দেশের ভেতরে ফোনে যোগাযোগ (লোকাল কর), এসএমএস এবং বিদেশে ফোন করার সেবা চালু হয়েছে। সীমিত কিছু সেবা দেয় এমন একটি স্থানীয় ইন্টারনেট (নেটওয়ার্ক) কার্যক্রম শুরু করেছে। রাস্তায় বর্তমানে বিক্ষোভ নেই বললে চলে। তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারের মতো বিক্ষোভের প্রাণকেন্দ্রসহ ইরানের বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা বাহিনীর হাজার হাজার সশস্ত্র সদস্য চেকপোস্ট বসিয়ে টহল দেওয়া শুরু করেছেন।

ইরান সরকার যা বলছে
ইরানের রাজনৈতিক, সামরিক ও বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা প্রায় প্রতিদিন বলছেন, বিক্ষোভের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইন্ধন জুগিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, বিভিন্ন বিদেশি শক্তি বিরোধীদের অস্ত্র ও অর্থ দিয়েছে। এ ছাড়া আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি অভিযোগ করেন, ট্রাম্প ‘অপরাধী’। কারণ, তিনি এ অস্থিরতার সঙ্গে নিজেকে একাধিকবার সরাসরি জড়িয়েছেন।
ইরান সরকারের ভাষ্যমতে, হাজার হাজার মানুষ হত্যার জন্য রাষ্ট্রীয় বাহিনী নয়, বরং সশস্ত্র ও প্রশিক্ষিত ‘সন্ত্রাসীরা’ সরাসরি দায়ী। সরকারি কর্মকর্তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষে কাজ করা ব্যক্তিরা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ভিন্ন খাতে পরিচালনা করতে গুলি ও ছুরি চালিয়েছে।
যদিও বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা বলেছেন, যারা ‘দাঙ্গায়’ অংশ নিয়েছে, তাদের দ্রুত শাস্তি দেওয়া হবে। কোনো দয়া দেখানো হবে না। সর্বোচ্চ আদালত ও সরকারি প্রসিকিউটরের অফিস রোববার ঘোষণা দিয়েছে, বিক্ষোভ–সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য একটি যৌথ ওয়ার্ক গ্রুপ গঠন করা হয়েছে। এদিকে বিদেশভিত্তিক পর্যবেক্ষক এবং ইরানের বাইরে থাকা বিরোধীদের দাবি, অধিকাংশ বিক্ষোভকারী রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে প্রাণ হারিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সির (এইচআরএএনএ) সর্বশেষ তথ্যমতে, তারা ৩ হাজার ৩০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করতে পেরেছে। পাশাপাশি আরও ৪ হাজার ৩০০-এর বেশি মৃত্যুর খবর তারা যাচাই করে দেখছে। বিক্ষোভে ২ হাজার ১০৭ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। গ্রেপ্তার হয়েছেন ২৪ হাজারের বেশি মানুষ।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স গত রবিবার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানের এক কর্মকর্তার বরাতে জানায়, বিক্ষোভে অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য প্রায় ৫০০ জন। অধিকাংশ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ইরানের উত্তর-পশ্চিমের কুর্দি সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকায়। যদিও আল–জাজিরা হতাহতের এসব পরিসংখ্যান স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
বিদেশ থেকে পরিচালিত কয়েকটি ইরানি সংবাদমাধ্যমের দাবি, ইরানি কর্তৃপক্ষ নিহত বিক্ষোভকারীদের পরিবারের কাছ থেকে ‘বুলেট মানি’, তথা গুলির দাম চেয়েছে। এ অর্থ দিলেই নিহত ব্যক্তিদের কবর দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। অন্যথায় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের এমন নথিতে সই করতে বলা হয়েছে, যেখানে নিহত ব্যক্তিদের বিক্ষোভকারী নয় বরং ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নিয়ন্ত্রণাধীন আধা সামরিক বাহিনী বাজিসের সদস্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু ইরান সরকার এ দুই দাবি অস্বীকার করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বক্তব্য
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কর্মকর্তারা ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্বের সম্ভাব্য উৎখাতের কথা কয়েক মাস ধরে প্রকাশ্যে বলে আসছেন। গত বছরের জুনের ১২ দিনের ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় এ ধরনের বক্তব্য জোরালো হয়।
বিদেশভিত্তিক পর্যবেক্ষক এবং ইরানের বাইরে থাকা বিরোধীদের দাবি, অধিকাংশ বিক্ষোভকারী রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে প্রাণ হারিয়েছেন। সাম্প্রতিক বিক্ষোভের চরম মুহূর্তে ট্রাম্প ইরানের জনগণকে রাস্তা না ছাড়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেছেন, ‘সাহায্য আসছে’। কিন্তু পরে তিনি এ অবস্থান থেকে কিছুটা সরে আসেন এবং বলেন, ইরান ৮০০-এর বেশি রাজনৈতিক বন্দীর পরিকল্পিত মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করেছে। তাই তিনি ইরানের নেতৃত্বের প্রতি ‘গভীর শ্রদ্ধা’ প্রকাশ করেন।
তবে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিতে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ৮০০ রাজনৈতিক কারাবন্দীর মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ ট্রাম্পের এই দাবির প্রতিক্রিয়ায় আলী সালেহী নামে ইরানের একজন প্রসিকিউটর বলেছেন, ‘প্রসিডেন্টে ট্রাম্প ‘অনেক উল্টাপাল্টা কথা বলছেন’। আমরা বুঝেশুনে ও দ্রুত সাড়া দিব’।
এতকিছুর পরেও ইরান নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মন্তব্য করা বন্ধ করেননি। শনিবার তিনি খামেনির ৩৭ বছরের শাসন শেষ করার আহ্বান জানান এবং তাঁকে ‘অসুস্থ মানুষ’ বলে মন্তব্য করেন।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের সাম্প্রতিক বিক্ষোভ নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। তবে ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান’ জানিয়েছে, নেতানিয়াহু নিজ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ইরানের বিক্ষোভ নিয়ে সাক্ষাৎকার দেওয়া বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে নেতানিয়াহুর এ নির্দেশের আগে দেশটির ঐতিহ্যবিষয়ক মন্ত্রী আমিচাই এলিয়াহু বলেছিলেন, ইসরায়েলের গুপ্তচর (অপারেটিভরা) ‘এই মুহূর্তে’ ইরানে সক্রিয় রয়েছেন। যেমনটি তাঁরা ১২ দিনের যুদ্ধের সময় সক্রিয় ছিলেন।
সূত্র: আল জাজিরা

বিক্ষোভে কয়েক হাজার নিহতের কথা স্বীকার করলেন খামেনি
সিটিজেন-ডেস্ক

অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকে ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকে ইরানের রাজধানী তেহরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে এই বিক্ষোভ দেশটির বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। এই বিক্ষোভে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। যদিও তার এ স্বীকারোক্তি কিছুটা অস্বাভাবিক। কারণ, দেশটিতে এর আগে যেসব বিক্ষোভ হয়েছে, সেগুলোর হতাহতের সংখ্যা নিয়ে মন্তব্য করা থেকে তিনি সব সময় বিরত থেকেছেন।
তবে বিক্ষোভ চলাকালে ইরানে ঠিক কী ঘটেছে এবং ভবিষ্যতে কী হতে পারে—তা নিয়ে দেশটির সরকার, বিদেশে অবস্থানকারী বিরোধী শক্তি এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যা বলছেন, তাতে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।
বিক্ষোভের নেপথ্যে কী ছিল
অর্থনৈতিক অসন্তোষ ও ডলারের বিপরীতে ইরানি মুদ্রা রিয়ালের মান কমে যাওয়ায় গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানের ব্যবসা ও বাণিজ্যিক এলাকা গ্র্যান্ড বাজারে ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। যা কয়েক দিনের মধ্যে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয়। ইরানের সরকারি কর্মকর্তা ও গণমাধ্যম, বিদেশভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এবং মাঠপর্যায়ের প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ৮ ও ৯ জানুয়ারির রাত ছিল সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী।

ইরানের চিকিৎসা পরীক্ষক কর্তৃপক্ষের (ফরেনসিক) প্রধান আব্বাস মাসজেদি আরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেন, নিহত ব্যক্তিদের অনেককে খুব কাছ থেকে বা ছাদ থেকে বুকে ও মাথায় গুলি করা হয়েছে। মারাত্মকভাবে জখম করাই ছিল এভাবে গুলি করার উদ্দেশ্য। এ ছাড়া বিক্ষোভকারীদের অধিকাংশ ছিলেন তরুণ-তরুণী। তাদের অনেকের বয়স ছিল ২০-এর কোঠায়।
ইরান সরকার গত ৮ জানুয়ারি রাতে সারা দেশে ইন্টারনেট–সেবা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেয়। একই সঙ্গে মুঠোফোন যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। ফলে জরুরি প্রয়োজনে উদ্ধারকাজে নিয়োজিত সংস্থাগুলোকে ফোন করাও সম্ভব হয়নি। দেশটিতে এভাবে ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনা নজিরবিহীন। প্রায় দুই সপ্তাহ পর গত রোববার থেকে ইন্টারনেট–সেবা ধীরে ধীরে সীমিত পরিসরে শুরু হয়। তবে দেশটির ৯ কোটি জনসংখ্যার অধিকাংশই এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। আন্দোলন চলাকালে ইন্টারনেট–সেবা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকায় বিক্ষোভের ভিডিও ইরানের বাইরে তেমন একটি ছড়াতে পারেনি।
ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দেশের ভেতরে ফোনে যোগাযোগ (লোকাল কর), এসএমএস এবং বিদেশে ফোন করার সেবা চালু হয়েছে। সীমিত কিছু সেবা দেয় এমন একটি স্থানীয় ইন্টারনেট (নেটওয়ার্ক) কার্যক্রম শুরু করেছে। রাস্তায় বর্তমানে বিক্ষোভ নেই বললে চলে। তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারের মতো বিক্ষোভের প্রাণকেন্দ্রসহ ইরানের বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা বাহিনীর হাজার হাজার সশস্ত্র সদস্য চেকপোস্ট বসিয়ে টহল দেওয়া শুরু করেছেন।

ইরান সরকার যা বলছে
ইরানের রাজনৈতিক, সামরিক ও বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা প্রায় প্রতিদিন বলছেন, বিক্ষোভের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইন্ধন জুগিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, বিভিন্ন বিদেশি শক্তি বিরোধীদের অস্ত্র ও অর্থ দিয়েছে। এ ছাড়া আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি অভিযোগ করেন, ট্রাম্প ‘অপরাধী’। কারণ, তিনি এ অস্থিরতার সঙ্গে নিজেকে একাধিকবার সরাসরি জড়িয়েছেন।
ইরান সরকারের ভাষ্যমতে, হাজার হাজার মানুষ হত্যার জন্য রাষ্ট্রীয় বাহিনী নয়, বরং সশস্ত্র ও প্রশিক্ষিত ‘সন্ত্রাসীরা’ সরাসরি দায়ী। সরকারি কর্মকর্তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষে কাজ করা ব্যক্তিরা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ভিন্ন খাতে পরিচালনা করতে গুলি ও ছুরি চালিয়েছে।
যদিও বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা বলেছেন, যারা ‘দাঙ্গায়’ অংশ নিয়েছে, তাদের দ্রুত শাস্তি দেওয়া হবে। কোনো দয়া দেখানো হবে না। সর্বোচ্চ আদালত ও সরকারি প্রসিকিউটরের অফিস রোববার ঘোষণা দিয়েছে, বিক্ষোভ–সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য একটি যৌথ ওয়ার্ক গ্রুপ গঠন করা হয়েছে। এদিকে বিদেশভিত্তিক পর্যবেক্ষক এবং ইরানের বাইরে থাকা বিরোধীদের দাবি, অধিকাংশ বিক্ষোভকারী রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে প্রাণ হারিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সির (এইচআরএএনএ) সর্বশেষ তথ্যমতে, তারা ৩ হাজার ৩০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করতে পেরেছে। পাশাপাশি আরও ৪ হাজার ৩০০-এর বেশি মৃত্যুর খবর তারা যাচাই করে দেখছে। বিক্ষোভে ২ হাজার ১০৭ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। গ্রেপ্তার হয়েছেন ২৪ হাজারের বেশি মানুষ।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স গত রবিবার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানের এক কর্মকর্তার বরাতে জানায়, বিক্ষোভে অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য প্রায় ৫০০ জন। অধিকাংশ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ইরানের উত্তর-পশ্চিমের কুর্দি সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকায়। যদিও আল–জাজিরা হতাহতের এসব পরিসংখ্যান স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
বিদেশ থেকে পরিচালিত কয়েকটি ইরানি সংবাদমাধ্যমের দাবি, ইরানি কর্তৃপক্ষ নিহত বিক্ষোভকারীদের পরিবারের কাছ থেকে ‘বুলেট মানি’, তথা গুলির দাম চেয়েছে। এ অর্থ দিলেই নিহত ব্যক্তিদের কবর দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। অন্যথায় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের এমন নথিতে সই করতে বলা হয়েছে, যেখানে নিহত ব্যক্তিদের বিক্ষোভকারী নয় বরং ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নিয়ন্ত্রণাধীন আধা সামরিক বাহিনী বাজিসের সদস্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু ইরান সরকার এ দুই দাবি অস্বীকার করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বক্তব্য
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কর্মকর্তারা ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্বের সম্ভাব্য উৎখাতের কথা কয়েক মাস ধরে প্রকাশ্যে বলে আসছেন। গত বছরের জুনের ১২ দিনের ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় এ ধরনের বক্তব্য জোরালো হয়।
বিদেশভিত্তিক পর্যবেক্ষক এবং ইরানের বাইরে থাকা বিরোধীদের দাবি, অধিকাংশ বিক্ষোভকারী রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে প্রাণ হারিয়েছেন। সাম্প্রতিক বিক্ষোভের চরম মুহূর্তে ট্রাম্প ইরানের জনগণকে রাস্তা না ছাড়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেছেন, ‘সাহায্য আসছে’। কিন্তু পরে তিনি এ অবস্থান থেকে কিছুটা সরে আসেন এবং বলেন, ইরান ৮০০-এর বেশি রাজনৈতিক বন্দীর পরিকল্পিত মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করেছে। তাই তিনি ইরানের নেতৃত্বের প্রতি ‘গভীর শ্রদ্ধা’ প্রকাশ করেন।
তবে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিতে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ৮০০ রাজনৈতিক কারাবন্দীর মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ ট্রাম্পের এই দাবির প্রতিক্রিয়ায় আলী সালেহী নামে ইরানের একজন প্রসিকিউটর বলেছেন, ‘প্রসিডেন্টে ট্রাম্প ‘অনেক উল্টাপাল্টা কথা বলছেন’। আমরা বুঝেশুনে ও দ্রুত সাড়া দিব’।
এতকিছুর পরেও ইরান নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মন্তব্য করা বন্ধ করেননি। শনিবার তিনি খামেনির ৩৭ বছরের শাসন শেষ করার আহ্বান জানান এবং তাঁকে ‘অসুস্থ মানুষ’ বলে মন্তব্য করেন।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের সাম্প্রতিক বিক্ষোভ নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। তবে ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান’ জানিয়েছে, নেতানিয়াহু নিজ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ইরানের বিক্ষোভ নিয়ে সাক্ষাৎকার দেওয়া বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে নেতানিয়াহুর এ নির্দেশের আগে দেশটির ঐতিহ্যবিষয়ক মন্ত্রী আমিচাই এলিয়াহু বলেছিলেন, ইসরায়েলের গুপ্তচর (অপারেটিভরা) ‘এই মুহূর্তে’ ইরানে সক্রিয় রয়েছেন। যেমনটি তাঁরা ১২ দিনের যুদ্ধের সময় সক্রিয় ছিলেন।
সূত্র: আল জাজিরা




