শিরোনাম

ট্রাম্পের ‘শান্তি পর্ষদে’ আরও ৭ মুসলিম দেশ

সিটিজেন-ডেস্ক­
ট্রাম্পের ‘শান্তি পর্ষদে’ আরও ৭ মুসলিম দেশ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রম্প। ছবি: সংগৃহীত

গাজা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত ‘শান্তি পর্ষদে’ অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি আরব, তুরস্ক, মিসরসহ ৭টি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। বুধবার (২১ জানুয়ারি) এক যৌথ বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে দেশগুলো।

একই দিনে ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দেয় ইসরায়েল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের আমন্ত্রণ গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করে।

যুদ্ধপরবর্তী গাজার পুনর্গঠন তদারকি করার উদ্দেশ্যেই মূলত এই শান্তি পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। পর্ষদের ভূমিকা অংশে উল্লেখ করা হয়েছে, এটি ‘স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি, নির্ভরযোগ্যতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সংঘাতজনিত ঝুঁকি থাকা অঞ্চলে টেকসই শান্তি নিশ্চিত করার’ লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে।

পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাশাপাশি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবেও আলাদা দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারসহ কয়েকজন পর্ষদের সদস্য হিসেবে থাকছেন।

এএফপির হাতে থাকা পর্ষদের নথি অনুযায়ী, এর কার্যক্রম শুধুমাত্র ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে সীমাবদ্ধ নয়। আর শান্তি পর্ষদের স্থায়ী সদস্য হতে হলে প্রত্যেককে ১০০ কোটি ডলার পর্যন্ত অর্থ প্রদানের শর্ত থাকতে পারে।

সৌদি আরব জানিয়েছে, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ সাতটি দেশ (সৌদি আরব, তুরস্ক, মিসর, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান ও কাতার) এই কমিটিতে থাকছে। দেশগুলো গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা, পুনর্গঠনকে সহায়তা দেওয়া এবং তারা যাকে ‘ন্যায়সংগত ও টেকসই শান্তি’ বলে বর্ণনা করেছে সেটা এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে একমত হয়েছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গতকাল এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদে দেশটির যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

বুধবার সন্ধ্যায় ট্রাম্প জানান, শান্তি পর্ষদে যোগ দিতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তাঁর আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বৈঠকে অংশ নেওয়ার ফাঁকে পুতিনের প্রসঙ্গে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তিনি গ্রহণ করেছেন। অনেকেই (আমন্ত্রণ) গ্রহণ করেছেন।

এর পরপর প্রতিক্রিয়া জানান পুতিন। তিনি বলেন, আমন্ত্রণ এখনো বিবেচনাধীন। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুতিন দ্রুত সাড়া দিয়ে বলেছেন, রাশিয়ার জব্দ থাকা সম্পদ থেকে তিনি ১০০ কোটি ডলার দিতে প্রস্তুত আছেন। তিনি শান্তি পর্ষদকে প্রাথমিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের জন্য প্রাসঙ্গিক বলে মনে করছেন।

ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদে কতটি দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। কানাডা ও যুক্তরাজ্য এই তালিকায় থাকলেও দুই দেশই এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ্যে কিছু জানায়নি। ফ্রান্সও আমন্ত্রণ পেয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে। ইতিমধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, আলবেনিয়া, কাজাখস্তান, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বেলারুশ, হাঙ্গেরি, মরক্কো এবং ভিয়েতনাম অংশগ্রহণের জন্য সম্মতি দিয়েছে।

বুধবার ভ্যাটিকান জানিয়েছে, ট্রাম্পের পক্ষ থেকে শান্তি পর্ষদে যোগ দিতে আমন্ত্রণ পেয়েছেন পোপ লিও। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে ভ্যাটিকানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কার্ডিনাল পিয়েত্রো পারোলিন বলেন, আমন্ত্রণের বিষয়টি বিবেচনা করতে সময় নেবেন পোপ।

স্লোভেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট গোলোব শান্তি পর্ষদে যোগ দেবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। তাঁর মতে, ট্রাম্পের এ পর্ষদ বৃহত্তর আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় ‘বিপজ্জনকভাবে হস্তক্ষেপ’ করছে।

সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স, এএফপি, টাইমস অব ইসরায়েল

/জেএইচ/