মাদুরোকে রাখা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের যে কারাগারে

মাদুরোকে রাখা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের যে কারাগারে
সিটিজেন-আন্তর্জাতিক-ডেস্ক

নজিরবিহীন এক অভিযান চালিয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের পর যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় চলছে। এর মধ্যেই আলোচনায় এসেছে যে কারাগারে মাদুরোকে রাখা হয়েছে, সেটি নিয়ে।
যুক্তরাষ্ট্রের আইনজীবীরা কারাগারটিকে ‘নরকের মতো’ বলে বর্ণনা করেছেন। এমনকি কিছু বিচারক সেখানে দণ্ডপ্রাপ্তদের পাঠাতে অস্বীকৃতিও জানিয়েছেন।
কারাগারটি হলো ব্রুকলিনের কুখ্যাত মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টার (এমডিসি)। যেখানে রাখা হয়েছে ভেনেজুয়েলা থেকে জোরপূর্বক আটক দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে।
স্থানীয় সময় শনিবার (৩ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে। এটি ছিলো দক্ষিণ আমেরিকায় সাম্প্রতিক দশকগুলোর অন্যতম নজিরবিহীন সামরিক অভিযান।
আটক হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মাদুরোকে প্রথমে আকাশপথে ইউএসএস ইয়ু জিমা জাহাজে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে কিউবার গুয়ানতানামো নৌঘাঁটিতে পাঠানো হয় এবং পরে আরেকটি বিমানে করে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে নেওয়া হয়।
নিউইয়র্ক থেকে মাদুরোকে প্রথমে ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ডিইএ) এর সদরদপ্তরে নেওয়া হয়। এরপর তাকে ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারের (এমডিসি) একটি কক্ষে রাখা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থায় আওতায় মাদুরোর বিরুদ্ধে আনা মাদক পাচার ও নার্কো-সন্ত্রাসবাদের অভিযোগের বিচার চলাকালে তাকে ওই আটককেন্দ্রেই রাখা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকেও একই আটককেন্দ্রে বন্দি করা হয়েছে।
লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর মতো অতিরিক্ত বন্দি, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও সহিংসতার প্রতিফলন দেখা যায় নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে অবস্থিত মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে (এমডিসি)।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক হাজার বন্দি রাখার জন্য নির্মিত এই কারাগারে ২০১৯ সালে প্রায় ১৬০০ বন্দিকে রাখা হয়েছিল। বর্তমানে এখানে ১ হাজার ৩৩৬ জন বন্দি রয়েছে বলে জানিয়েছে ফেডারেল ব্যুরো অব প্রিজনস (বিওপি)।
এছাড়াও কারাগারটিতে জনবল সংকট রয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে কারাগারটি মাত্র ৫৫ শতাংশ জনবল নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।
অতিরিক্ত কয়েদি আর জনবল সংকটের কারণে এই কারাগারের ভেতরে প্রায়ই সংঘর্ষ ও সহিংসতা ঘটে থাকে।
এমডিসির ভয়াবহ অবস্থার কথা তুলে ধরে আইনজীবী এডউইন করদেরো একে ‘পৃথিবীর বুকে নরকের জীবন্ত রূপ’ বলে আখ্যা দেন। ২০২৪ সালের জুন মাসে করদেরোর এক মক্কেল ইউরিয়েল হোয়াইট অন্য বন্দিদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন।
নিউইয়র্ক ফেডারেল ডিফেন্ডার্সের সাবেক পরিচালক ডেভিড প্যাটন স্থানীয় এক গণমাধ্যমকে জানান, কারাগারটি নানা সংকটে জর্জরিত। চিকিৎসাসেবার অভাব, গুরুতর স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন, খাবারে কৃমির উপস্থিতি এবং বন্দিদের মধ্যে সহিংসতা সেখানে নিত্যদিনের ঘটনা। এই নাজুক পরিস্থিতির কারণেই ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে অন্তত চারজন বন্দি আত্মহত্যা করেছে বলে মনে করা হয়।
কারাগারের এই অবস্থা নিয়ে বিচারকরাও অসন্তুষ্ট। অনেক বিচারক সেখানে আর দণ্ডপ্রাপ্তদের পাঠাতে চান না। তাদের একজন ছিলেন বিচারক গ্যারি ব্রাউন। তিনি ২০২৪ সালের অগাস্টে জানান, যদি ফেডারেল ব্যুরো অব প্রিজনসে (বিওপি) রাখা হয়, তবে কর ফাঁকির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত ৭৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে দেওয়া নয় মাসের কারাদণ্ড তিনি বাতিল করে দেবেন। তার পরিবর্তে অভিযুক্তকে গৃহবন্দি করে বাড়ি থেকে নজরদারির রায় দেয়ার কথা জানান তিনি।
দুর্নীতি ও কেলেঙ্কারির কারণেও ব্রুকলিনের এমডিসি কারাগার বারবার সংবাদ শিরোনামে এসেছে। ২০২৫ সালের ৬ মার্চ বিচার বিভাগ ঘোষণা করে, সহিংসতা ও নিষিদ্ধ সামগ্রী পাচারের সঙ্গে যুক্ত ১২টি পৃথক ঘটনায় ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে, যার মধ্যে বন্দি এবং সাবেক কারা কর্মকর্তারাও রয়েছেন।
লাতিন আমেরিকার রাজনীতিক নিকোলাস মাদুরোই প্রথম নয়; কারাগারের ভয়াবহ পরিস্থিতি সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ এখানে বহু আলোচিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তিকে রেখেছে। হন্ডুরাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজ তিন বছরেরও বেশি সময় এখানে বন্দি ছিলেন। গত বছরের জুনে তাকে মাদক পাচারের দায়ে ৪৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং পরে অন্য কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। বিস্ময়করভাবে, গত ডিসেম্বরে তাকে ক্ষমা করে দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
মেক্সিকোর সাবেক জননিরাপত্তা সচিব জেনারো গার্সিয়া লুনাও নিউইয়র্কের এই কারাগারের একটি সেলে কিছু সময় কাটিয়েছেন। এছাড়া ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বরের হামলার পর গ্রেপ্তার হওয়া আল-কায়েদার কয়েকজন সদস্যও এই কারাগারে বন্দি ছিলেন। এমনকি র্যাপার ও সংগীত প্রযোজক শন ‘ডিডি’ কম্বসও কয়েক মাস এমডিসিতে আটক ছিলেন।
এছাড়া আর্থিক অপরাধে তিন বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ট্রাম্পের সাবেক ব্যক্তিগত আইনজীবী মাইকেল কোহেনও এমডিসির অন্যান্য আলোচিত বন্দিদের মধ্যে রয়েছেন।
সূত্র: বিবিসি

নজিরবিহীন এক অভিযান চালিয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের পর যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় চলছে। এর মধ্যেই আলোচনায় এসেছে যে কারাগারে মাদুরোকে রাখা হয়েছে, সেটি নিয়ে।
যুক্তরাষ্ট্রের আইনজীবীরা কারাগারটিকে ‘নরকের মতো’ বলে বর্ণনা করেছেন। এমনকি কিছু বিচারক সেখানে দণ্ডপ্রাপ্তদের পাঠাতে অস্বীকৃতিও জানিয়েছেন।
কারাগারটি হলো ব্রুকলিনের কুখ্যাত মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টার (এমডিসি)। যেখানে রাখা হয়েছে ভেনেজুয়েলা থেকে জোরপূর্বক আটক দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে।
স্থানীয় সময় শনিবার (৩ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে। এটি ছিলো দক্ষিণ আমেরিকায় সাম্প্রতিক দশকগুলোর অন্যতম নজিরবিহীন সামরিক অভিযান।
আটক হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মাদুরোকে প্রথমে আকাশপথে ইউএসএস ইয়ু জিমা জাহাজে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে কিউবার গুয়ানতানামো নৌঘাঁটিতে পাঠানো হয় এবং পরে আরেকটি বিমানে করে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে নেওয়া হয়।
নিউইয়র্ক থেকে মাদুরোকে প্রথমে ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ডিইএ) এর সদরদপ্তরে নেওয়া হয়। এরপর তাকে ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারের (এমডিসি) একটি কক্ষে রাখা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থায় আওতায় মাদুরোর বিরুদ্ধে আনা মাদক পাচার ও নার্কো-সন্ত্রাসবাদের অভিযোগের বিচার চলাকালে তাকে ওই আটককেন্দ্রেই রাখা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকেও একই আটককেন্দ্রে বন্দি করা হয়েছে।
লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর মতো অতিরিক্ত বন্দি, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও সহিংসতার প্রতিফলন দেখা যায় নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে অবস্থিত মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে (এমডিসি)।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক হাজার বন্দি রাখার জন্য নির্মিত এই কারাগারে ২০১৯ সালে প্রায় ১৬০০ বন্দিকে রাখা হয়েছিল। বর্তমানে এখানে ১ হাজার ৩৩৬ জন বন্দি রয়েছে বলে জানিয়েছে ফেডারেল ব্যুরো অব প্রিজনস (বিওপি)।
এছাড়াও কারাগারটিতে জনবল সংকট রয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে কারাগারটি মাত্র ৫৫ শতাংশ জনবল নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।
অতিরিক্ত কয়েদি আর জনবল সংকটের কারণে এই কারাগারের ভেতরে প্রায়ই সংঘর্ষ ও সহিংসতা ঘটে থাকে।
এমডিসির ভয়াবহ অবস্থার কথা তুলে ধরে আইনজীবী এডউইন করদেরো একে ‘পৃথিবীর বুকে নরকের জীবন্ত রূপ’ বলে আখ্যা দেন। ২০২৪ সালের জুন মাসে করদেরোর এক মক্কেল ইউরিয়েল হোয়াইট অন্য বন্দিদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন।
নিউইয়র্ক ফেডারেল ডিফেন্ডার্সের সাবেক পরিচালক ডেভিড প্যাটন স্থানীয় এক গণমাধ্যমকে জানান, কারাগারটি নানা সংকটে জর্জরিত। চিকিৎসাসেবার অভাব, গুরুতর স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন, খাবারে কৃমির উপস্থিতি এবং বন্দিদের মধ্যে সহিংসতা সেখানে নিত্যদিনের ঘটনা। এই নাজুক পরিস্থিতির কারণেই ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে অন্তত চারজন বন্দি আত্মহত্যা করেছে বলে মনে করা হয়।
কারাগারের এই অবস্থা নিয়ে বিচারকরাও অসন্তুষ্ট। অনেক বিচারক সেখানে আর দণ্ডপ্রাপ্তদের পাঠাতে চান না। তাদের একজন ছিলেন বিচারক গ্যারি ব্রাউন। তিনি ২০২৪ সালের অগাস্টে জানান, যদি ফেডারেল ব্যুরো অব প্রিজনসে (বিওপি) রাখা হয়, তবে কর ফাঁকির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত ৭৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে দেওয়া নয় মাসের কারাদণ্ড তিনি বাতিল করে দেবেন। তার পরিবর্তে অভিযুক্তকে গৃহবন্দি করে বাড়ি থেকে নজরদারির রায় দেয়ার কথা জানান তিনি।
দুর্নীতি ও কেলেঙ্কারির কারণেও ব্রুকলিনের এমডিসি কারাগার বারবার সংবাদ শিরোনামে এসেছে। ২০২৫ সালের ৬ মার্চ বিচার বিভাগ ঘোষণা করে, সহিংসতা ও নিষিদ্ধ সামগ্রী পাচারের সঙ্গে যুক্ত ১২টি পৃথক ঘটনায় ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে, যার মধ্যে বন্দি এবং সাবেক কারা কর্মকর্তারাও রয়েছেন।
লাতিন আমেরিকার রাজনীতিক নিকোলাস মাদুরোই প্রথম নয়; কারাগারের ভয়াবহ পরিস্থিতি সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ এখানে বহু আলোচিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তিকে রেখেছে। হন্ডুরাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজ তিন বছরেরও বেশি সময় এখানে বন্দি ছিলেন। গত বছরের জুনে তাকে মাদক পাচারের দায়ে ৪৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং পরে অন্য কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। বিস্ময়করভাবে, গত ডিসেম্বরে তাকে ক্ষমা করে দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
মেক্সিকোর সাবেক জননিরাপত্তা সচিব জেনারো গার্সিয়া লুনাও নিউইয়র্কের এই কারাগারের একটি সেলে কিছু সময় কাটিয়েছেন। এছাড়া ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বরের হামলার পর গ্রেপ্তার হওয়া আল-কায়েদার কয়েকজন সদস্যও এই কারাগারে বন্দি ছিলেন। এমনকি র্যাপার ও সংগীত প্রযোজক শন ‘ডিডি’ কম্বসও কয়েক মাস এমডিসিতে আটক ছিলেন।
এছাড়া আর্থিক অপরাধে তিন বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ট্রাম্পের সাবেক ব্যক্তিগত আইনজীবী মাইকেল কোহেনও এমডিসির অন্যান্য আলোচিত বন্দিদের মধ্যে রয়েছেন।
সূত্র: বিবিসি

মাদুরোকে রাখা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের যে কারাগারে
সিটিজেন-আন্তর্জাতিক-ডেস্ক

নজিরবিহীন এক অভিযান চালিয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের পর যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় চলছে। এর মধ্যেই আলোচনায় এসেছে যে কারাগারে মাদুরোকে রাখা হয়েছে, সেটি নিয়ে।
যুক্তরাষ্ট্রের আইনজীবীরা কারাগারটিকে ‘নরকের মতো’ বলে বর্ণনা করেছেন। এমনকি কিছু বিচারক সেখানে দণ্ডপ্রাপ্তদের পাঠাতে অস্বীকৃতিও জানিয়েছেন।
কারাগারটি হলো ব্রুকলিনের কুখ্যাত মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টার (এমডিসি)। যেখানে রাখা হয়েছে ভেনেজুয়েলা থেকে জোরপূর্বক আটক দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে।
স্থানীয় সময় শনিবার (৩ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে। এটি ছিলো দক্ষিণ আমেরিকায় সাম্প্রতিক দশকগুলোর অন্যতম নজিরবিহীন সামরিক অভিযান।
আটক হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মাদুরোকে প্রথমে আকাশপথে ইউএসএস ইয়ু জিমা জাহাজে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে কিউবার গুয়ানতানামো নৌঘাঁটিতে পাঠানো হয় এবং পরে আরেকটি বিমানে করে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে নেওয়া হয়।
নিউইয়র্ক থেকে মাদুরোকে প্রথমে ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ডিইএ) এর সদরদপ্তরে নেওয়া হয়। এরপর তাকে ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারের (এমডিসি) একটি কক্ষে রাখা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থায় আওতায় মাদুরোর বিরুদ্ধে আনা মাদক পাচার ও নার্কো-সন্ত্রাসবাদের অভিযোগের বিচার চলাকালে তাকে ওই আটককেন্দ্রেই রাখা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকেও একই আটককেন্দ্রে বন্দি করা হয়েছে।
লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর মতো অতিরিক্ত বন্দি, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও সহিংসতার প্রতিফলন দেখা যায় নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে অবস্থিত মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে (এমডিসি)।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক হাজার বন্দি রাখার জন্য নির্মিত এই কারাগারে ২০১৯ সালে প্রায় ১৬০০ বন্দিকে রাখা হয়েছিল। বর্তমানে এখানে ১ হাজার ৩৩৬ জন বন্দি রয়েছে বলে জানিয়েছে ফেডারেল ব্যুরো অব প্রিজনস (বিওপি)।
এছাড়াও কারাগারটিতে জনবল সংকট রয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে কারাগারটি মাত্র ৫৫ শতাংশ জনবল নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।
অতিরিক্ত কয়েদি আর জনবল সংকটের কারণে এই কারাগারের ভেতরে প্রায়ই সংঘর্ষ ও সহিংসতা ঘটে থাকে।
এমডিসির ভয়াবহ অবস্থার কথা তুলে ধরে আইনজীবী এডউইন করদেরো একে ‘পৃথিবীর বুকে নরকের জীবন্ত রূপ’ বলে আখ্যা দেন। ২০২৪ সালের জুন মাসে করদেরোর এক মক্কেল ইউরিয়েল হোয়াইট অন্য বন্দিদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন।
নিউইয়র্ক ফেডারেল ডিফেন্ডার্সের সাবেক পরিচালক ডেভিড প্যাটন স্থানীয় এক গণমাধ্যমকে জানান, কারাগারটি নানা সংকটে জর্জরিত। চিকিৎসাসেবার অভাব, গুরুতর স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন, খাবারে কৃমির উপস্থিতি এবং বন্দিদের মধ্যে সহিংসতা সেখানে নিত্যদিনের ঘটনা। এই নাজুক পরিস্থিতির কারণেই ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে অন্তত চারজন বন্দি আত্মহত্যা করেছে বলে মনে করা হয়।
কারাগারের এই অবস্থা নিয়ে বিচারকরাও অসন্তুষ্ট। অনেক বিচারক সেখানে আর দণ্ডপ্রাপ্তদের পাঠাতে চান না। তাদের একজন ছিলেন বিচারক গ্যারি ব্রাউন। তিনি ২০২৪ সালের অগাস্টে জানান, যদি ফেডারেল ব্যুরো অব প্রিজনসে (বিওপি) রাখা হয়, তবে কর ফাঁকির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত ৭৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে দেওয়া নয় মাসের কারাদণ্ড তিনি বাতিল করে দেবেন। তার পরিবর্তে অভিযুক্তকে গৃহবন্দি করে বাড়ি থেকে নজরদারির রায় দেয়ার কথা জানান তিনি।
দুর্নীতি ও কেলেঙ্কারির কারণেও ব্রুকলিনের এমডিসি কারাগার বারবার সংবাদ শিরোনামে এসেছে। ২০২৫ সালের ৬ মার্চ বিচার বিভাগ ঘোষণা করে, সহিংসতা ও নিষিদ্ধ সামগ্রী পাচারের সঙ্গে যুক্ত ১২টি পৃথক ঘটনায় ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে, যার মধ্যে বন্দি এবং সাবেক কারা কর্মকর্তারাও রয়েছেন।
লাতিন আমেরিকার রাজনীতিক নিকোলাস মাদুরোই প্রথম নয়; কারাগারের ভয়াবহ পরিস্থিতি সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ এখানে বহু আলোচিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তিকে রেখেছে। হন্ডুরাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজ তিন বছরেরও বেশি সময় এখানে বন্দি ছিলেন। গত বছরের জুনে তাকে মাদক পাচারের দায়ে ৪৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং পরে অন্য কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। বিস্ময়করভাবে, গত ডিসেম্বরে তাকে ক্ষমা করে দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
মেক্সিকোর সাবেক জননিরাপত্তা সচিব জেনারো গার্সিয়া লুনাও নিউইয়র্কের এই কারাগারের একটি সেলে কিছু সময় কাটিয়েছেন। এছাড়া ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বরের হামলার পর গ্রেপ্তার হওয়া আল-কায়েদার কয়েকজন সদস্যও এই কারাগারে বন্দি ছিলেন। এমনকি র্যাপার ও সংগীত প্রযোজক শন ‘ডিডি’ কম্বসও কয়েক মাস এমডিসিতে আটক ছিলেন।
এছাড়া আর্থিক অপরাধে তিন বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ট্রাম্পের সাবেক ব্যক্তিগত আইনজীবী মাইকেল কোহেনও এমডিসির অন্যান্য আলোচিত বন্দিদের মধ্যে রয়েছেন।
সূত্র: বিবিসি




