শিরোনাম

রুশ পতাকাবাহী ট্যাঙ্কার জব্দ করলো যুক্তরাষ্ট্র

সিটিজেন-ডেস্ক
রুশ পতাকাবাহী ট্যাঙ্কার জব্দ করলো যুক্তরাষ্ট্র
রাশিয়ার তেলবাহী ট্যাঙ্কার জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার পতাকাবাহী একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ওয়াশিংটন।

নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর ভেনেজুয়েলার জলসীমায় অবরোধ জারি করে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ‘মেরিনেরা’ নামের ট্যাঙ্কারটি গত মাসে তল্লাশিতে বাধা দিয়ে রুশ পতাকা উত্তোলন করে পালানোর চেষ্টা করে। পরে আটলান্টিক মহাসাগরে টানা দুই সপ্তাহ ধাওয়ার পর মার্কিন কোস্টগার্ড ও সামরিক বাহিনী যৌথভাবে জাহাজটি জব্দ করে।

ট্যাঙ্কারটি জব্দের সময় আশপাশে রাশিয়ার একটি সাবমেরিন ও একটি যুদ্ধজাহাজ উপস্থিত ছিলো। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে সরাসরি সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমনিতেই ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে রাশিয়ার উত্তেজনা চলমান রয়েছে।

রুশ সংবাদমাধ্যম আরটি একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে মার্কিন বাহিনীকে ‘মেরিনেরা’ ট্যাঙ্কারে ওঠার চেষ্টা করতে দেখা যায়।

এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া। দেশটি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ট্যাংকার জব্দ করে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন ভঙ্গ করেছে। বিবৃতিতে রুশ পরিবহন মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘১৯৮২ সালের জাতিসংঘের সমুদ্র আইন অনুযায়ী, উন্মুক্ত সমুদ্রে জাহাজ চলাচলের পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে। কোনো দেশই অন্য দেশে নিবন্ধিত বা রেজিস্ট্রি করা কোনো জাহাজের ওপর শক্তি প্রয়োগ করার অধিকার রাখে না।’

এই ট্যাংকার জব্দ নিয়ে মস্কো ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভেটকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করেছিলেন সাংবাদিকেরা। এক সাংবাদিক জিজ্ঞেস করেন, রুশ পতাকাবাহী ট্যাংকার জব্দের ঘটনা রাশিয়াকে ক্ষুব্ধ করবে কি না। এ প্রশ্নের কোনো সরাসরি জবাব দেননি তিনি। মার্কিন এ কর্মকর্তা বলেছেন, ট্যাংকারটি যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভেনেজুয়েলা থেকে চলছিল। এছাড়া এটি ইরান ও রাশিয়ায় তেল আনা নেওয়া করে বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে চীন ট্রাম্প প্রশাসনের এই কর্মকাণ্ডকে ‘দাদাগিরি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেছেন, ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি চাপানো এবং শক্তির প্রকাশ্য ব্যবহার আন্তর্জাতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থি। ট্রাম্পের পরিকল্পনার ফলে বেইজিংয়ের দিকে যাওয়া তেল এখন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার চাপ বাড়ছে।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের পর দেশটির বিশাল তেল খনিগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কাজ করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার আটকে থাকা ৫ কোটি ব্যারেল তেল তিনি পরিশোধন ও বিক্রি করবেন। এই ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করেছে।

নিজের ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, এই তেল বাজারমূল্যে বিক্রি করা হবে এবং সেই অর্থ আমার (প্রেসিডেন্টের) নিয়ন্ত্রণে থাকবে, যাতে তা ভেনিজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করা যায়।

সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা

/জেএইচ/