শিরোনাম

প্রথমবারের মতো অপারেশন সিঁদুরে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য স্বীকার পাকিস্তানের

সিটিজেন-আন্তর্জাতিক-ডেস্ক
প্রথমবারের মতো অপারেশন সিঁদুরে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য স্বীকার  পাকিস্তানের
প্রথমবারের মতো ভারতের পরিচালিত অপারেশন সিঁদুরে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য স্বীকার করেছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্র ও উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার। ছবি: সংগৃহীত

গত মে মাসে পাকিস্তানে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে যে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছিল ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনী। এর সাত মাস পর প্রথমবারের মতো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য স্বীকার করেছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র ও উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার জানিয়েছেন, এ অভিযানের কারণে নূর খান বিমান ঘাঁটিতে গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) রাজধানী ইসলামাবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দার বলেন, ‘নূর খান বিমান ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে মাত্র ৩৬ ঘণ্টায় ৮০টি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন নিক্ষেপ করেছিল ভারত। পাকিস্তানের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম অবশ্য ৮০টি ড্রোনের মধ্যে ৭৯টিই আটকে দিতে পেরেছিল, মাত্র একটিকে আটকাতে ব্যর্থ হয়েছিল।’

রাজধানী ইসলামাবাদ থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নূর খান বিমান ঘাঁটিকে পাকিস্তানের বিমান বাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ইসহাক দার জানান, ‘নূর খান বিমান ঘাঁটিতে হামলা ভারতের জন্য ভুল ছিল। কারণ এই হামলার পরই পাকিস্তান পাল্টা অভিযান ‘অপারেশন বুনিয়ান উম মারসুস’ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে,’ যোগ করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, এর আগে অপারেশন সিঁদুরের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে পাকিস্তানের কোনো মন্ত্রী কখনো প্রকাশ্যে মন্তব্য করেননি। ইসহাক দারের এই বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইসলামাবাদ এই ইস্যুতে আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছে।

রবিবারের সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ভারতকে সরাসরি যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হয়নি। তিনি জানান, ১০ মে ভোরবেলায় নূর খান বিমান ঘাঁটিতে হামলার পর সকাল ৮টা ১৭ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাকে টেলিফোন করে জানান, ভারত যুদ্ধবিরতির জন্য প্রস্তুত এবং নয়াদিল্লি জানতে চাচ্ছে পাকিস্তানও কি যুদ্ধবিরতিতে রাজি।

সংবাদ সম্মেলনে ইসহাক দার বলেন, ‘আমি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বললাম, যুদ্ধে জড়ানোর কোনো ইচ্ছা পাকিস্তানের নেই।’

গত ২২ এপ্রিল ভারতের জম্মু-কাশ্মিরের অনন্তনাগ জেলার পেহেলগামের বৈসরন উপত্যকায় একদল সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে ২৬ জন পর্যটককে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল দিয়ে হত্যা করে। নিহত পর্যটকদের সবাই পুরুষ এবং অধিকাংশই হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছিলেন।

হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (টিআরএফ) নামের একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায় স্বীকারের ঘোষণা দেয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী লস্কর-ই তৈয়বার একটি শাখাই এই টিআরএফ পরিচালনা করছে।

এই হামলার পর প্রতিক্রিয়াস্বরূপ ভারত সিন্ধু নদের পানি বণ্টনচুক্তি স্থগিত, পাকিস্তানি নাগরিকদের ভিসা বাতিলসহ একাধিক কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেয়। জবাবে পাকিস্তানও ভারতের জন্য আকাশসীমা বন্ধ এবং ভিসা বাতিলসহ কিছু পাল্টা পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ১০ মে ভারতের প্রতিরক্ষা বাহিনী পাকিস্তানের অধিকৃত কাশ্মিরসহ বিভিন্ন এলাকায় ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে সংক্ষিপ্ত সেনা অভিযান চালায়। নয়াদিল্লির তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে ৭০ জন পাকিস্তানি সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। তবে পাকিস্তান দাবি করছে, নিহতের সংখ্যা ৩১ জন এবং আহত ৫৭ জন। নিহত ও আহতদের কেউ সন্ত্রাসী নয় বলেও জানায় ইসলামাবাদ।

সূত্র : এএফপি